• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৭:২৭:৪৫
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৭:২৭:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সেই তরুনীর কথোপকথন প্রকাশ করলেন মামুন

হাসান আল মামুন। ফাইল ছবি

ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আল মামুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে ওই মমলা করেন।

‘মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার ধর্ষিত ছেলের আর্তনাদ!’- শিরোনামের ওই পোস্টের সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে তার কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট ও চ্যাটের ভিডিও যুক্ত করে দিয়েছেন তিনি।  

ওই পোস্টে মামনু লিখেছেন, আমি হাসান আল মামুন, যে ছেলেটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনাদের অধিকার আদায়ে ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রধান হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। এই আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি, আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে বানানো হয়েছিল জামাত, আমাদের নামে দেয়া হয়েছিল শিবির ব্লেইম এবং বিএনপির তারেক রহমানের কাছ থেকে ১২৫ কোটি টাকা পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ, যার কোনোটির সাথে আমাদের ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা ছিলনা বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের হয়ে টানা ৩ বার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন, ২ বার আমার নেতৃত্বে আন্তঃবিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ডিপার্টমেন্ট। ঢাবি কেন্দ্রীয় ভলিবল টিম ও মুহসীন হলের ফুটবল ও ভলিবলে টিমে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল টিমের নিয়মিত খেলোয়ার ছিলাম। এছাড়াও নেত্রকোনা জেলা ফুটবলের টিমের একজন সদস্য।

মামুন আরো লিখেছেন, এই দীর্ঘ পথে বহু সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে অনেকের সাথে পরিচয় হয়। দলমত নির্বিশেষে কেউ আমার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কোন অভিযোগ আনতে পারেনি। যখনই নতুন ধারার রাজনীতি করার ঘোষণা দিয়েছি এবং সারাদেশের মানুষের মাঝে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন আমার ও সংগঠনের নেতৃস্থানীয়দের নামে ধর্ষণের মত গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যা রাজনৈতিকভাবে আমাকে এবং আমার সংগঠনকে হেয় করার জন্য এবং দেশের মানুষের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য করা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরো লিখেছেন, দীর্ঘ ৮ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও আড়াই বছর সংগঠনের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে যারা আমাকে কাছ থেকে দেখেছেন তারা হয়তো বলতে পারবেন আমি কেমন। অভিযোগকারী মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে আমাকে, আমার পরিবার ও সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আচ্ছা এই সমাজে কি শুধু মেয়েদের পরিবার-পরিজন আছে! ছেলেদের পরিবার কিংবা পরিজন নেই! মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে বাবার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে ঢাবিতে ভর্তি হয়েছিলাম। চরম বাস্তবতায় সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গণমানুষের অধিকার আদায়ে কাজে মনোনিবেশ করেছিলাম।কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ সারাদেশের মানুষের কাছে আমাকে মিথ্যা মামলায় ধর্ষক বানানো হয়েছে।

মামুন আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর মতো এই মেয়ের সাথেও আমার পরিচয় ছিলো। কিন্তু এই মেয়ে যে অভিযোগ করেছে তা আমাকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করেছে। ওই মেয়ে নিজেই এক সময় স্বীকার করেছে, সে পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসাতে এগুলো করেছে। নিচে একটি স্ক্রিনশট এবং তার ভিডিও দেয়া হলো। স্ক্রিনশট সত্য মিথ্যা বলে অনেকেই মতামত দিতে পারেন, কিন্তু এই চ্যাট এখনো আমার ফোনে আছে। প্রয়োজনে আমি আদালতের সামনে সরাসরি তা উপস্থাপন করবো।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়কের পদ থেকে হাসান আল মামুনকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়। সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এরপরই বুধবার রাতে ওই ফেসবুক পোস্টটি দেন মামুন।

প্রসঙ্গত, ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষণের মামলাসহ পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগেও তাকে আটক করা হয়। এরপর তাকে নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগে সোমবার এক তরুণীকে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নুরের নামে মামলা হয়। রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এই মামলাও ছয়জনকে আসামি করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। আর নুরকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক (২) মো. সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকির নামে এই মামলা করা হয়।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার রাতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1009 seconds.