• ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:১৮:৪৩
  • ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:১৮:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের ঘটনায় কি আপনারা খুব শকড?

ছবি : প্রতীকী

আপনারা কি খুব ‘শকড’? পাহাড় আর সমতলের ধর্ষণের ঘটনায়। আপনাদের ‘শক’ আর শোকের মেয়াদ কতদিন? না, কোনো অদ্ভুত প্রশ্ন না। স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন। গ্যাংরেপ কি আর হয় নাই? পাহাড়-সমতল, হাওড়-জঙ্গল কোথায় বাদ গেছে? ধর্ষণ, খুন, গুপ্তহত্যা, গুম— এগুলো কি নতুন কোনো টার্ম? গত এক দশক, এক যুগ ধরে প্রবলভাবে এগুলো চলমান নয়? তাহলে? আপনারা মাঝেমধ্যেই ধর্ষণে ‘শকড’ হবেন, মৃত্যুতে শোক করবেন, কেন রে ভাই? কয়েকদিন করবেন তারপর অপু বিশ্বাস-সাকিব খানকে নিয়ে মেতে উঠবেন। না হলে পহেলা বৈশাখে কেন পান্তা খাবেন বা খাবেন না, তা জরুরি হয়ে উঠবে। তারপর ক্যাঁচাল লাগাবেন, রবীন্দ্রনাথকে কেনো অমুক ছোট কবি বললো সেটা নিয়ে। ‘ডুব’ সিনেমার কাহিনি, অমিতাভ রেজা’র রসকষ নিয়ে আদ্যোপান্ত ঘেঁটে ফেলবেন। সাথে নারীবাদী কথকতা তো আছেই। তারপর আবার খানিকটা সময় বের করবেন তাৎক্ষণিক খুন বা ধর্ষণ নিয়ে। বলিহারি আপনাদের, পারেনও ভাই!

সাকিব খান, ডুব, অমিতাভ রেজা, নারীবাদ এগুলোর চেয়ে বেঁচে থাকা, নিরাপদ থাকাটা যে জরুরি, এটা আপনারা কবে বুঝে উঠবেন। এগুলো সব চানাচুর-বারোভাজা, মুখরোচক ব্যাপার। এগুলো দিয়ে আপনাদের খিদেটা ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে এটা আপনাদের ঘটে কবে ‍ঢুকবে! আপনি বেঁচে থাকলে, নিরাপদ থাকলে তারপর অন্য কিছু। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতন মৌলিক চাহিদাগুলোও বেঁচে থাকার শর্তের পর, নিরাপদ থাকার শর্তের পিছে।

এসব বললেই কেউ কেউ বলবেন, ‘এগুলোতে রাজনীতির কথা। আমি ভাই এ দেশের নষ্ট রাজনীতির মধ্যে নাই।’ ভাই রে, এই যে নষ্ট রাজনীতির কথা বলবেন, আপনারা নেই বলেই রাজনীতিটা নষ্ট হয়েছে। আমারই পরিচিত একজন দেখলাম লম্বা বিশ্লেষণ করেছেন, ‘কেনো বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারলো না এবং আরো কয়েক বছর পারবে না। আওয়ামী লীগ কৌশলী বলেই ক্ষমতায় থাকবে সমুখের কয়েক বছর নিশ্চিত।’ আমাদের রাজনীতির বোধ এই দুই জায়গাতেই। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। মুশকিল হলো এদের কে বোঝাবে রাজনীতি মানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি না। রাজনীতি মানে অনেক কিছু, অন্য কিছু। আওয়ামী লীগ- বিএনপি স্রেফ রাজনীতির অংশ, ঘুঁটি।

আপনাকে বেঁচে থাকার চিন্তা বাদ দিয়ে সিনেমা নিয়ে, বৈশাখের পান্তা ইলিশ নিয়ে, বোরকা-হিজাব আর নারীবাদ নিয়ে যে জিনিস কথা বলাচ্ছে, সেটা হলো রাজনীতি। আপনাকে বেঁচে থাকার প্রশ্নে-চিন্তায় বিভাজিত করেছে, সেটা হলো রাজনীতি। আপনি পাহাড়ের ধর্ষণে ‘শকড’, সমতলের ধর্ষণে ‘যাচ্ছে হোক’; এমন ভাবনায় খণ্ডিত, সেটা হলো রাজনীতি। নিজের অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্নে আপনাকে যে কৌশল বিভাজিত করে রেখেছে, সেটা হলো রাজনীতি। আপনি শেয়ালের ঠ্যাং ছেড়ে লাঠি ধরে বোকা কুমির সেজে বসে আছেন, সেটা হলো রাজনীতি। আপনার বোন ধর্ষিতা হচ্ছে, আপনার সন্তান খুন হচ্ছে তারপরেও আপনি চুপ করে আছেন দলের টানে-চেতনায়। এই যে আত্মঘাতের টান-চেতনা, এর নাম হচ্ছে রাজনীতি। এমন রাজনীতি এসব কাণ্ড ঘটাচ্ছে শুধু আপনি রাজনীতির বাইরে বলে।

রাজনীতি করতে হলে দল করতে হবে আপনাকে কে বলেছে? নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সেই গর্বের কিশোর বিদ্রোহ কি কোনো দলের ছিলো? ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে উপমহাদেশের প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম, সেই সাঁওতাল বিদ্রোহ কোনো দলের কি? দলের নয় বলে এগুলো কি রাজনীতির বাইরে? এমন যত প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন, দেখবেন উত্তর হবে ‘না’। আমাদের রাজনীতি নষ্ট হয়েছে শুধু আপনার বাইরে থাকার কারণে। আর আপনি যাতে বাইরে থাকেন তাই এই ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে, রাজনীতি নষ্টদের দখলে। অথচ দলগুলো নষ্টদের দখলে হতে পারে, রাজনীতি কোনভাবেই নয়। দাঁড়ান না কিশোর বিদ্রোহের মত কোনো আন্দোলনের পক্ষে। পথে নামুন, দেখুন কী হয়। বুকে হাত রেখে বলতে পারি- বলি, দেখবেন সব পাল্টে যাবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1130 seconds.