• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৬:৫৬:১৬
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৭:০২:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা থেকে সুস্থ্য হলেও মৃত্যু হতে পারে ‘ফাইব্রোসিসে’

ছবি : সংগৃহীত

করোনা (কোভিড-১৯) মহামারীতে প্রতিদিনই বাড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। এরপরও করোনা থেকে সু্স্থ হওয়ার সংখ্যাই বেশি। তবে সুস্থ হওয়ার পরও অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। ‘ফাইব্রোসিস’র কারণেই এই মৃত্যু হচ্ছে। যারা দীর্ঘদিন আইসিউ’তে ছিলেন বা ‘হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা’র মাধ্যমে অক্সিজেন নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এমনটা হচ্ছে।

অক্সিজেন মানুষের জীবন বাঁচালেও অনেক ক্ষেত্রে বেশিমাত্রায় অক্সিজেন প্রাণঘাহীন ঘটায়। অকেজো করে দেয় ফুসফুসকে। রোগী হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক কাজ করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন রোগী। আর এই সমস্যাকেই ‘ফাইব্রোসিস’ বলছেন চিকিৎসকরা।

ফাইব্রোসিস হলে ফুসফুসের নরম-কোমল তন্তু শক্ত হয়ে যায়। ফুসফুসের বাইরে কঠিন আস্তরণ পড়ে। এতে করে ফুসফুসের স্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণ বাধা পায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন আইসিইউ’তে ছিলেন বা অনেকটা সময় ‘হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা’র মাধ্যমে অক্সিজেন নিতে হয়েছে। তাদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ সময় রক্ত থেকে স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই অক্সাইড বের হতে পারে না। আর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন রোগী। তাই করোনা থেকে সুস্থ হলেও শেষপর্যন্ত এ কারণেই মৃত্যুও হতে পারে। আর এটাকেই চিকিৎসকরা বলেন, ফাইব্রোসিস।

ভারতের এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৌমিত্র ঘোষ জানান, করোনা থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের ২০-২৫ শতাংশ রোগী এই সমস্যায় ভুগছেন। তারা একটু হাঁটলেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন। এমনকি সামান্যটুকু পরিশ্রমও করতে পারছেন না। বুকের সিটি স্ক্যান করে দেখা যাচ্ছে, কোমল তন্তু ও এলভিওলাই যা রক্ত সংবহন করে, সেটা শক্ত হয়ে গিয়েছে। ফুসফুস স্বাভাবিক কাজ করতে পারছে না। ফুসফুস আর বেলুনের মতো বাড়ছে-কমছে না।

তিনি আরো জানান, যদি দেখা যায় ফুসফুসের ৫০-৭৫ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে, তাহলে ওষুধ দিয়ে তা নিরাময় করা সম্ভব। তবে এর চেয়ে বেশি হলে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা লাগতে পারে।

অপর বিশেষজ্ঞ ডা. আলোকগোপাল ঘোষাল জানান, করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও যারা দীর্ঘসময় বেশিমাত্রায় অক্সিজেন গ্রহণ করছেন তাদের সমস্যা হতে পারে।

তবে এর জন্য কিছু ওষুধও দায়ী। ভারতের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতি গ্রাম রক্তে ৯৫ শতাংশ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করলে কোনো শরীরকে সুস্থ ধরা হয়। এর কম হলেই সমস্যা। তাই করোনা আক্রান্তকে কম মাত্রায় অক্সিজেন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1237 seconds.