• ০৬ অক্টোবর ২০২০ ১৮:১০:৫১
  • ০৬ অক্টোবর ২০২০ ১৮:১০:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা আছমা বেগম

ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আছমা বেগম। তিনি সংসার এবং সন্তানদের পড়াশুনাসহ যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতেন গরুর দুধ বিক্রি করে। অজ্ঞাত এক রোগে তার পালিত দুইটি গাভী ও একটি বকনা গরু কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে মারা যায়। এ ঘটনায় সংসার চালানোর অবলম্বন টুকুও হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন আছমা বেগম। 

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নয়াগ্রাম এলাকার রিক্সা চালক আইয়ুব আলীর স্ত্রী আছমা বেগম (৪৫)। স্বামী আইয়ুব আলী ঢাকায় রিক্সা চালায়। ভিটে-মাটি (বাড়ি-ভিটা) ছাড়া তাদের আর কোন সম্পদ নেই। সম্পদ বলতে ছিল চারটি গরু। তাও আবার একাধিক এনজিও’র কাছে ঋণের টাকায় কেনা। সপ্তাহ গেলে পরিশোধ করতে হয় কিস্তি ।  

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে চারা’র (গরুকে খাওয়ানোর নির্ধারিত স্থান) মধ্যে প্রথমে একটি গাভী গরুকে খাওয়ানো শেষে বাহিরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখেন। এরপর গরুটি কাপতে কাপতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। সেই গরুকে মাটিতে পুতে রেখে অন্য দুইটি গরুকে একই চারায় খাওয়ানোর সময় একই ভাবে ওই দুইটি গরুও মারা যায়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুইটি গাভী ও একটি বকনা গরু মারা গেলে আছমা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়ে। একই সময় তার দেবর তৈয়ব আলীর (৪৪) একটি ছাগল ওই চারায় খাওয়ার পর সেটিও মারা যায়। এ খবর এলাকায় জানা জানি হলে সকলের মাঝে আতংঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

সরেজমিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ওই এলাকায় গেলে এলাকাবাসী এরশাদ (২৬), কাশেম আলী (৫৫), কাচুয়ানী বেগম (৬০), মোর্শেদা খাতুন (৫২), আঃ রাজ্জাক (২২)সহ অনেকেই জানান, রবিবার সকালে একই পরিবারের ৩টি গরু ও ১টি ছাগল কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে অজ্ঞাত কারনে মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অজানা (অজ্ঞাত) আতংঙ্কে স্থানীয় নয়াগ্রাম বকসীপাড়া জামে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকার মানুষকে সর্তক করা হয়। খবর দেয়া হয় উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে। পরে ওই দিনই প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে একটি টিম গিয়ে এলাকার মসজিদের মাইক দিয়ে গ্রামবাসীকে আতংঙ্কিত না হওয়ার আহবান জানানো হয় এবং ওই এলাকার প্রায় ৩শ গরু ছাগলকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। এলাকাবাসীর ধারনা আছমা বেগমের বাড়ির গরুর চারায় বিষাক্ত সাপের লালা থেকে এ দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন ওই চারায় বিষাক্ত কিছু দেয়া হয়েছিল। ফলে ফুড পয়জনিং এর কারনে ৪টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। 

আছমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ভিটে মাটি ছাড়া আমার কোন সহায় সম্পদ নেই। সম্পদ বলতে চারটি গরু। গরুর দুধ বিক্রি করে এনজিও’র কিস্তি পরিশোধসহ গরুর খাবার, সংসারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশুনার খরচ চলত। একই দিনই তিনটি গরু মারা যাওয়ায় আমার আয়ের একমাত্র অবলম্বন টুকুও শেষ হয়ে গেল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আমি কিভাবে সংসার চালাব ?

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ প্রধান জানান, প্রাণী গুলি বিষক্রিয়ায় মারা গেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ওই চারায় পূর্বের দিনের পানি থাকায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, চারায় বাসি খাবার অথবা পানি থাকলে তা ফেলে দিয়ে ভালো করে পরিস্কার করে তবে নতুন করে খাবার দেবার ব্যবস্থা করা উচিত। চারায় পূর্বের দিনের পানি বা অন্য কিছু থাকলে সেখানে কোন জীবানু সংক্রমন হতে পারে অথবা দুষ্ট লোক দারা শত্রুতামূলক বিষ প্রয়োগ করার সুযোগ থাকে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সচেতনতা কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আছমা বেগম দিশেহারা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0947 seconds.