• ১২ অক্টোবর ২০২০ ১১:৪৩:৩৯
  • ১২ অক্টোবর ২০২০ ১১:৪৩:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আজাইরা প্যাচাল আর খাজুইরা আলাপ

ছবি : সংগৃহীত

প্রকাশ্যে চুমা নিয়া অহন তর্ক শুরু হইছে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে চুম্বনের নামে যে শিল্পের অবতারণা করা হইছে, এইডা মূলত ‘ডাইভার্সিটি’, নানামুখিতা। গাছের খাওয়া আর তলেরডা কুড়ানোর কাম হইলো এইডা। আন্দোলনও হইলো, আবার আন্দোলনরে চুম্বন বিতর্কের ডাইভার্শনে ফালানো গেলো। এক ঢিলে দুই পাখি। এই কাম আইজকার না ম্যালাদিনের। সুতরাং পুরান প্যাঁচালে কোনো আরাম নাই।

তয় মুশকিল হইলো নতুন প্যাঁচালও কোনডা নাই। চুমার তর্ক গিয়া ঠেকছে গ্রাম্যতা, শহুরেপনা আর বিদেশের সাথে তুলনায় গিয়া। এই যে বুদ্ধিজীবী মামারা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুইড়া দিছে, হ্যারা কি বুইঝা দিছে। মনে হয় না। বইয়ের পড়া, অন্যের কাছ থিকা ধার করা চিন্তা এই দুইয়ে জোড়াতালি দিয়া একখান ধারণা তৈরি করছে। এইডা একরকম ফ্যান্টাসি কইতে পারেন। হ্যাই অনুযায়ী কেউ গ্রাম্যতা শিখাইতাছেন, কেউ শহইরাপনা।

কেউ উদাহরণ দিতাছেন বিদেশে চুমাচুমি, শোয়াশুয়ি সব আছে হ্যাইখানে তো ধর্ষণ হয় না। এমুন প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে প্রথমে হাসি পায়, হাইসা লই। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুইড়া দিয়ার কথা এমনিতেই কই না। দেইখাই কই। মন্দিরের গায়ে যে রমণীর চিত্র সেইটা মন্দিরের ক্ষেত্রে অশ্লীল না। সেইডার হয়তো ধর্মীয় ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু মসজিদের ক্ষেত্রে ওইডা পুরা নিষিদ্ধ, অশ্লীল। এই জিনিস যিমুন ধর্মীয় আচরণ তেমুনি সাংস্কৃতিক আচরণও। আরেকটু বুঝাইয়া কই। পুব আর পশ্চিমের সাংস্কৃতিক আচরণের মধ্যে বিস্তর ফারাক। পশ্চিমের বিকিনি পুবের নারীগো কাছে অচল। আবার পুবের শাড়ি-ঘাগড়া পশ্চিমিগো কাছে অচল। ব্যাংকক আর লাসভেগাসের যেইডা স্বাভাবিক আমাগো ঢাকায় হ্যাইডা অস্বাভাবিক। স্বাভাবিক হইলে ক্যাসিনো আর মদের বোতল ধরা খাইতো না। এই যে পার্থক্য এইডা মূলত সাংস্কৃতিক। আর প্রগতি হইলো এই সংস্কৃতির সাথে টিউন কইরা চলা জিনিস। মূল কথাটাই এইখানে। তাই প্রগতির আগে সংস্কৃতিটারে বুঝতে হইবো। তারপর সাংস্কৃতিক আচরণ। তারপর আমাগো গ্রাম্যতা আর শহরের আলোচনা।

কিছুদিন আগে হাতিরঝিলে মানুষরে গলায় চেইন বাইন্ধা হাঁটায়া নিয়া সেই জিনিসরে আর্ট নাম দিলো। মাইনা লইলাম সেইটা আর্ট, মাইনে শিল্প। কিন্তু সেই শিল্পের কলা আমাগো গাছে ধরে না, ধরে পশ্চিমের গাছে। আমাগো এইখানে কুত্তাগো কয় নেড়ি। নেড়িগো গলায় বকলেস বান্ধে না। যে সমাজ কুত্তার গলায় দড়ি বান্ধার চিন্তা করে না সেইখানে মানুষের গলায় বকলেস লাগাইয়া কুত্তা বানানি তামশা হইতে পারে, শিল্প হইতে পারে না। কারণ এই শিল্প আমাগো সংস্কৃতির সাথে যায় না। হিসাব সোজা। এরমইধ্যে নতুন কইরা ব্যাখ্যা দিতে আসাটা হইলো বাপের পাছায় দাঁতের জোর পরীক্ষাকরণ। প্রকাশ্যে চুমাচুমির ক্ষেত্রেও একই কথা। এই আর্ট আমাগো কাছে ফার্টে’র মতন। গন্ধে দূরে থাকতে হয়। 

সুতরাং তর্কে যাওনের আগে বুঝতে হইবো গোড়ার কথা। উৎসের কথা। প্রতিটা ভূখণ্ডেরই একটা নিজস্ব আচরণ আছে, সংস্কৃতি আছে। এই আলাদা আচরণ আর সংস্কৃতিই এক ভূখণ্ড থিকা আরেক ভূখণ্ডরে আলাদা করছে। কলিকাতার মাইয়ারা পরে শাড়ি, আর রাজস্থানে ঘাগড়া-চোলি। শাড়ি পড়া দেখলে কওন যায় এইডা কলিকাতার, তেমুনি ঘাগড়া দেইখা কওন যায় এইডা রাজস্থানী। মানুষের জাতি-গোষ্ঠীরে আলাদা করে সাংস্কৃতিক আচরণ এইডা বোঝার ক্ষমতা নাই বইলাই অনর্থক বাহাস করে পাবলিক। অবশ্য অনর্থক শব্দটা সম্ভবত ভুল হইলো। এইডা হইলো গাছের খায়া তলেরডা কুড়ানোর কাম। আর এমুন কাম অনর্থক হয় না।

যাউক গা কথা সেইটা না, কথা হইলো গিয়া, এইসব আজগুবি তর্ক যত এড়ান যায় ততই ভালো। যতই এইসব তর্ক হইবো ততই গুমর ফাঁস হইতে থাকবো। কার আপার চেম্বার কতটা ভরা তা ধরা খায়া যাইবো। তাই তর্কে না যাওনটাই বুদ্ধিমানের কাম। অবশ্য নিজেরা নিজেগো বুদ্ধিমান মনে করলে তো মুশকিল। পোলার নামই তো ‘বিজ্ঞান’ তয় জ্ঞানের পরীক্ষা আর কেমনে লইবেন!

পুনশ্চ: এই অনর্থক আলাপের পিছনে আলাপ জুইড়া দিওন আমার কাম না। তয় কেন করলাম হ্যাইডা কই। কারণডা হইলো সময়টারে ধইরা রাখা। জিগান কেমনে, এই যে ২০২০ সাল। এমুন সময়ে একটা আন্দোলনরে কিমুনভাবে ডাইভার্ট কইরা স্রেফ চুমাচুমিরে লাইমলাইটে আনন যায়, সেই কৌশলটা জানান দিওনের মাধ্যমে।

ফুটনোট: লেখাটা শেষ কইরা মনে হইলো, এই বিষয়ে আর কথা কমু না। এমনিতেই বহুত কথা হইছে। শিয়ালের ঠ্যাং ছাইড়া লাঠি ধরছি। এমুন সময় বাংলা সিনেমার হিরো অনন্ত জলিল আরেক ভেজাল লাগাইলো। আমাগো দেশে এই আরেক যন্ত্রণা। কথা কইতেই হইবো। বুইঝা হোক নাই বুইঝা হোক নাক গলাইতেই হইবো। পোশাক নিয়া কথার তো শেষ নাই। কেউ খুলাইতাছেন, কেউ পড়াইতাছেন। এরমইধ্যে ঢুইকা পড়লেন জলিল সাহেব। হ্যাই ডাইভার্শন থিওরি। ধর্ষণের কারণ পোশাক। ভিক্টিম ব্লেইমিংয়ের গোড়ায় পানি ঢালা। বুইঝা হোক না বুইঝা হোক ঢাইলা দিলেন। আর নাচইনা কাঠিরা তো সব খাঁড়া। নাইচা উঠলেন। আর পায় কেডায়। চুমাচুমি আর অনন্ত জলিলের পুরা মার্কেট। আন্দোলনের মার্কেট প্রায়  যায়, গেলো অবস্থা। এমনি কইরাই আমাগো আগাপাশতলা সবই গেলো। আমরা কুমির হইয়া গেলাম। আণ্ডাবাচ্চাও হারাইলাম, আবার ঠ্যাং ছাইড়া ধরলামও লাঠি। আর শিয়াল হালায় হইলো পগার-পার এবং তা বারবার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামনিস্ট

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0864 seconds.