• ২৫ অক্টোবর ২০২০ ১২:২১:৩৫
  • ২৫ অক্টোবর ২০২০ ১২:২১:৩৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অকৃতকার্য প্রার্থীকে নিয়োগের অভিযোগ

ফাইল ছবি


কুবি প্রতিনিধি :


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরও এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন পদে বেশ কিছু কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। সেই নিয়োগ প্রদানের পর হতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে নিয়োগ প্রত্যাশীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলাফলে উর্ত্তীনদের মৌখিক পরীক্ষা ১১ এবং ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৮ অক্টোবর এই তিন পদে চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই এই নিয়োগের নানা অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরমধ্যে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে ‘০৫’ রোল নম্বরধারী প্রার্থী নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে তাকে কৃতকার্য দেখিয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ নিয়োগ কার্যক্রম সংক্রান্ত একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রার্থী মূল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় অন্য নিয়োগ প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মচারী নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরীক্ষায় ফেল করার পরও প্রকাশিত রেজাল্টে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীকে উর্ত্তীণ দেখিয়ে এবং চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদানের ঘটনায় এ সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে।’

এ নিয়োগ সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রকাশ করে যে সকল প্রার্থীদের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করার দাবি তুলেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক নেতা বলেন, ‘এ কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে, এটি একটি গর্হিত অপরাধ। এ অসঙ্গতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে। যারা এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

এছাড়াও এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মচারীদের। তাদের দাবি, বেশ কয়েকজন কর্মচারী যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এ নিয়োগ পরীক্ষা আবেদন করে ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করে।  কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষায় অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়। আর যে কয়েকজনকে দেওয়া হয় তাদের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ্যতা অনুসরণ না করে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি জ্যেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত অংশগ্রহণকৃত আপগ্রেডেড প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ সকল প্রার্থীদের শূন্য পদে নিয়োগের দাবি জানিয়ে উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে।

ব্যবহাররিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও ফলাফলে কৃতকার্য দেখিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এ নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ঐ প্রার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলা’কে বলেন, ‘ঐ প্রার্থী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্টের ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করায় কম্পিউটার টাইপিস্টের যোগ্যতা নেই বলে তাকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

আর অভ্যন্তরীণ আপগ্রেডেড কর্মচারীদের শূন্যপদে নিয়োগ না দিয়ে নতুনদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আপগ্রেডেড যে পদ ঐটাও স্থায়ী পদ, এগুলো একই পদ। আমি যদি শূন্য পদে অভ্যন্তরীণ লোকদের নিয়োগ দিয়ে দেই তাহলে তো নতুন লোক নিয়োগ দিতে পারবো না।’

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0828 seconds.