evaly
  • বিদেশ ডেস্ক
  • ০৩ নভেম্বর ২০২০ ১৩:৫৪:৫৯
  • ০৩ নভেম্বর ২০২০ ১৩:৫৪:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ম্যাক্রোঁর বক্তব্যে আমিরাতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমর্থন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ

ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে যখন সারাবিশ্বের মুসলমানরা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন, তখন ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সমর্থন করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ। পশ্চিমা সমাজে একীভূত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ম্যাক্রোঁ যে মন্তব্য করেছেন, তা মেনে নেয়ার জন্য মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জার্মান দৈনিক ডেই ওয়েল্টে গতকাল ২ নভেম্বর, সোমবার প্রকাশিত তার সাক্ষাৎকারে গারগাশ এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন কাতারি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ওই সাক্ষাৎকারে আমিরাতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ম্যাক্রোঁ তার বক্তব্যে যা বলেছেন, তা (মুসলিমদের) মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তিনি পশ্চিমে মুসলমানদের বিচ্ছিন্ন করতে চান না এবং তিনি পুরোপুরি ঠিক আছেন।’

ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিমদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। গারগাশ এসময় পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের আরো ভালোভাবে একীভূত হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই ও সামাজিক বন্ধনের জন্য সমান্তরাল উপায় অনুসন্ধানের অধিকার ফরাসি রাষ্ট্রের রয়েছে।’

এর আগে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মোহাম্মদের (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের কারণে মুসলমানদের কষ্ট বুঝতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে এসব নিয়ে ছুরি হামলাসহ সহিংসতার কোনো ঘটনা মেনে নেয়া হবেনা বলেও আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।

ফরাসি রাষ্ট্রপতি জানান, ধর্ম নিয়ে তার মন্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মুসলিম দেশগুলো থেকে কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি মুসলমানদের অনুভূতির জায়গা বুঝতে পারছি। আমি তাদের সম্মান করি। তবে সবাইকে এটা বুঝতে হবে যে, শান্তি প্রচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করাও উচিত।’

তিনি বলেন, ‘ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনীতে সরকারের কোনো হাত নেই। এটি একটি স্বাধীন সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে। পত্রিকাগুলোর উপর সরকারের কোনো হাত নেই।’

সংঘাতকে কখনো মেনে না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি মনে করি জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিশ্বে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা ইসলামকে বিকৃত করে এবং এই ধর্মের নামে নিজেদের রক্ষা করার দাবি করছে তারা।’

ইসলামের নামে ওইসব লোক চরমপন্থী আন্দোলন এবং ব্যক্তি সহিংসতা চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন ফরাসি রাষ্ট্রপতি।

উল্লেখ্য, নিজের ক্লাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাখ্যা দিতে দিয়ে হযরত মোহাম্মদের (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন স্যামুয়েল প্যাটি নামের এক স্কুলশিক্ষক। পরে গত ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার তিনি যখন নিজ বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলেন তখন তার ওপর হামলা চালায় চেচেন বংশোদ্ভূত তরুণ আব্দুল্লাখ আনজোরোভ। সে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিয়ে প্যাটির গলায় ছুরি চালিয়ে প্রকাশ্যে প্যাটির শিরোশ্ছেদ করে।

পরে ওই হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। অবশ্য এর আগেই সে প্যাটির কাটা মাথার ছবি টুইটারে পোস্ট করে।

পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত স্যামুয়েল প্যাটির স্মরণসভায় ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘তাকে (স্যামুয়েল প্যাটি) হত্যা করা হয়েছে কারণ ইসলামপন্থী উগ্রবাদীরা আমাদের ভবিষ্যত কেড়ে নিতে চায়। আমরা তা হতে দেবো না।’

প্যাটির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ম্যাক্রোঁ দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘আমরা কার্টুন প্রকাশ বন্ধ করবো না।’

 ‘কাপুরুষরা’ প্যাটিকে হত্যা করেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্যই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

এর পরপরই বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বহু মুসলিম দেশে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন মুসলমানরা।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1009 seconds.