evaly
  • বিদেশ ডেস্ক
  • ১৪ নভেম্বর ২০২০ ১৮:০৯:০১
  • ১৪ নভেম্বর ২০২০ ১৮:০৯:০১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যেসব কারণে কানে অদ্ভুদ শব্দ হয়

ছবি : প্রতিকী

মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি কান। যার মাধ্যমে মানুষে সব ধরনের শব্দ শুনতে পায়। আর ভাবের আদান-প্রদান করে থাকে। কিন্তু অনেক সময়ই কানের মধ্যে শব্দ শোনা যায়। কানের ভেতর কোনোরকম শব্দ হওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টিনিটাস বলা হয়।

তরুণ অথবা বৃদ্ধ যেকোনো ব্যক্তির কানে এই সমস্যা হতে পারে। এটা প্রতিনিয়ত বা বিরতি দিয়েও হলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা খুবই বিরক্তিকর, হালকা বা সহনীয় মাত্রায়ও হতে পারে।

এ বিষয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ডের ক্লিনিক্যাল অডিওলজিস্ট সিয়ান কিনডেন জানান, টিনিটাসের মাধ্যমে কান কিছু জানাতে চায়। কান জানাতে চায়- কিছু একটা সঠিকভাবে কাজ করছে না বা অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে।

অনেক কারণে কানের মধ্যে টিনিটাস হতে পারে। যেমন- মানসিক চাপ, হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মাথায় আঘাত। এর স্থায়িত্ব দুই সপ্তাহের বেশি হলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

নিম্নে টিনিটাসের কারণগুলো উল্লেখ করা হলো-

উচ্চ শব্দ:

কানের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কারণ হলো উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে আসা। করাত মিলের মতো উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করলে, উচ্চ শব্দে খুব বেশি গান শুনলে টিনিটাসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গান শোনার সময় ভলিউমকে ৫০ শতাংশের বেশি না বাড়ানো ও উচ্চ শব্দের কাজ করার সময় হিয়ারিং প্রোটেক্টর ব্যবহার করা উচিত।

কান পরিষ্কার না করা:

অনেক চিকিৎসক বলেন, কানের খইল বা ময়লা পরিষ্কারের প্রয়োজন নেই, এমনকি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের প্রতিবেদনেও কানের খইল পরিষ্কারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু অনেকের কানে অতিরিক্ত খইল উৎপন্ন হয়। যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে। ফলে কানের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। কোনো ফিজিশিয়ানের শরণাপন্ন হয়ে কানের ময়লা পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে।

মাথায় আঘাত:

মাথায় আঘাত বা কনকাশনের অন্যতম উপসর্গ হলো কানের ভেতর অদ্ভুত শব্দ হওয়া, বিশেষ করে মাথার একপাশে কনকাশন হলে। কনকাশনের আরো কিছু উপসর্গ হলো- মাথাব্যথা, মাথাঘোরানো ও বমিভাব। তাই খেলাধুলা ও যেকোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় হেড প্রোটেক্টর ব্যবহার করা উচিত।

টেম্পোরাম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট ডিসঅর্ডার:

টেম্পোরাম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট হলো সেই জয়েন্ট যা চোয়ালকে খুলির সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই জয়েন্ট আঘাত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে টেম্পোরাম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট সিন্ড্রোম বা টেম্পোরাম্যান্ডিবুলার ডিসঅর্ডার (টিএমডি) হতে পারে। টিএমডি কেবল চোয়াল ব্যথা নয়, কানকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কানের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পারেন।

কিছু ওষুধের ব্যবহার:

কিছু ওষুধ সেবনের পর অনেকেই কানের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ শুনেন, বিশেষ করে উচ্চ ডোজে ব্যবহার করলে। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও অ্যাসপিরিনের উচ্চ ডোজ এই সমস্যা তৈরি করে। এক্ষেত্রে চিকিসৎকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি:

অটোস্ক্লেরোসিস নামক বংশগত রোগের কারণে মধ্যকানে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে পারে। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে ও কানের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। এই সমস্যা মূলত ৩০ বছরের পর থেকে শুরু হয়। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।

কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা:

স্বাস্থ্যগত কিছু সমস্যার কারণেও কানের ভেতর টিনিটাস হতে পারে। যেমন- কানের ভেতর অস্বাভাবিক তরলীয় চাপ বা মেনিয়ার’স ডিজিজ, ক্যানসারবিহীন টিউমার বা একাউস্টিক নিউরোমা, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অ্যালার্জি। এসব সমস্যা থাকলে ও টিনিটাস হলে চিকিৎসকের স্বরণাপন্ন হতে হবে।

মানসিক চাপ:

অনেক সময় মানসিক চাপের ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। ডা. কিন্ডেন জানান, মানসিক চাপে কানে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু আবেগীয় চাপে টিনিটাসের তেমন সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন খেলেও টিনিটাস জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

শব্দ কান টিনিটাস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0831 seconds.