evaly
  • ১৭ নভেম্বর ২০২০ ১৭:৩১:৫১
  • ১৭ নভেম্বর ২০২০ ১৭:৩১:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যৌনতা, নারীবাদ ও সাংস্কৃতিক আচরণ

ছবি : প্রতিকী


কাকন রেজা:


লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রশ্ন, ‘মেয়েরা কি যৌনাঙ্গ মাথায় নিয়ে ঘোরে? তা না হলে তারা কেন জনসমক্ষে হিজাব খসে গেলে লজ্জা পায়, ফীল করে তারা উলঙ্গ?’ তার কথা সত্য ধরে নিলে প্রশ্ন এসে যায়, ‘মেয়েরা কি যৌনাঙ্গ সারা শরীরে নিয়ে ঘোরে? তা না হলে শরীরে স্পর্শ করলেই কেন শ্লীলতাহানির কথা ওঠে?’ কথার পিঠে কথা ওঠে আসে, সাথে লজিক। 

নারীবাদী হবার ক্ষেত্রে স্থান ভেদে সাংস্কৃতিক আচরণটা বুঝে ওঠা জরুরি। না হলে নারীবাদ বিনা আবাদে নষ্ট হয়। এই যে হিজাবের সাথে যৌনাঙ্গের তুলনা, এটা হলো শারীরিক নারীবাদ। নারীবাদ মানে শরীরবাদ নয়। শুধু মাত্র জরায়ুর স্বাধীনতা চাওয়াই নারীবাদের কাজ নয়। যৌনতার বয়ান আর নির্ভরতা নারীদের শুধু শরীর করে তোলে মানুষ করে না।

পোশাক হলো সাংস্কৃতিক আচরণের অংশ। লজ্জাটাও তাই। ন্যুডিজমে বিশ্বাসীরা কাপড়কে লজ্জার অংশ হিসেবে মানেন না। তারা শরীরকে প্রাকৃতিক মনে করেন। তাদের ধারণায় প্রাকৃতিক জিনিস রেখে-ঢেকে চলার কোনো মানে হয় না। অতি উন্নত দেশেও এমন চিন্তা হালে পানি পায়নি। কারণ ন্যাংটা না থাকার শর্তেই মানুষ সভ্য হয়েছিল। পশুর সাথে মানুষের মূল পার্থক্যটাই এ জায়গায়। এ কোনো কঠিন তত্ত্ব নয়, সোজা কথা। আগুন আবিষ্কারে মানুষ বিজ্ঞানমুখী হয়েছিল, আর কাপড় আবিষ্কারে সভ্য। এ সহজ সত্যটা শারীরিক নারীবাদীদের কে বোঝাবে।

এ জন্যেই এদের কেউ কেউ ব্যঙ্গার্থে ‘নেড়িবাদী’ বলেন। সুযোগ পেলেই অযথা চিল্লান বলে। মাথা ঢাকার স্কার্ফ যখন পশ্চিমের তখন কোনো কথা নেই। স্বয়ং এমন অনেক নারীবাদীদেরও স্কার্ফ পরা ছবি পাওয়া যাবে। সেই স্কার্ফই যখন মুসলিম সংস্কৃতিতে হিজাব নামে পরিচিত হয় তখন তা পরিত্যাজ্য। মাথায় চড়ালেই সভ্যতা ঢাকা পড়ে যায়। সভ্যতা যেন নারীদের মাথার চুল। অসূর্যম্পশ্যায় সমস্যা নেই, সমস্যা হলো হিজাবে। গাউনে সমস্যা নেই, সমস্যা বোরকায়। পারস্য সভ্যতার কথা বলি। ইসলাম আসার আগে পারসিয়ান মেয়েরা বিশাল ঘাগড়া পরতেন। মাথাসহ সারা শরীর কাপড়-চোপড়ে ঢাকা থাকতো। তখনের সেই সাংস্কৃতিক ধারা এখনো রয়েছে। মাথা তারা এখনো ঢাকেন। তখন দোষ ছিলো না এখন দোষ হয়। অগ্নি পূজা থেকে একেশ্বরবাদে আসার ফলেই সম্ভবত তাদের এই দোষ।

আফ্রিকার এক জায়গার মেয়েদের বক্ষ উন্মুক্ত থাকে এটাই তাদের সংস্কৃতি। তাদের এমন সাংস্কৃতিক আচরণের সাথেই লজ্জা নির্ধারিত হয়। তারা বুক দেখানোর মধ্যে লজ্জা খুঁজে পায় না। আবার আরেক অংশে লম্বা জোব্বা পরে মেয়েরা। তাদের লজ্জাও নির্ধারিত হয় তাদের সাংস্কৃতিক আচরণে। ঢেকেঢুকে রাখার মধ্যেই।  

ইসলামের পর্দা প্রথার সাথে শাড়ি অনেকটাই সাংঘর্ষিক। কারণ তাতে পেট ও নাভি অনেক সময়ই দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতিক আচরণের কারণে শাড়িটাই গ্রহণযোগ্য হয় বেশি। কেউ আবার বলেন শাড়িতেই বাঙাল বা বাঙালি নারীরা সুন্দর। প্যান্ট শার্টে শরীর বেশি ঢাকলেও এ ভূখণ্ডের সংস্কৃতিতে তা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। হয়তো প্যান্ট শার্টেরও জাত যেতো, যদি মাওলানারা একে স্বীকৃতি দিতেন। তখন জিন্স আর শার্টও হয়ে উঠতো অচ্ছ্যুৎ মূর্খদের পোশাক এবং সভ্যতার পরিপন্থী। বলা হতো শরীর ঢেকে রাখার মধ্যযুগীয় চিন্তা! বিচিত্র, বড়ই বিচিত্র এমন চিন্তা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0772 seconds.