evaly
  • ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১১:০২:৫২
  • ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১১:০২:৫২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সাকিবের ভুল-শুদ্ধ এবং বিশ্বাসের কথকতা

ফাইল ছবি

সাকিবের বিষয়ে নানা আলাপ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞজনরা বলছেন, সাকিব ক্ষমা চেয়ে ভুল করেছেন। আবার কেউ বলছেন, ঠিক করেছেন। কেউ এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলছেন, সাকিবের মতো আরো মুসলমানদের পূজা উদ্বোধন করতে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দিয়ে ঈদের অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে। তাহলেই নাকি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রীতি সম্মেলন শুরু হয়ে যাবে।

এই যে কিম্ভুত টাইপ কথা, এগুলোই সব ঝামেলার মূল। ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের জায়গা। বিশ্বাসটাই ধর্ম। একজনের বিশ্বাসের জায়গাটাকে নড়িয়ে দেবার বা তাকে তার বিশ্বাসের জায়গা থেকে সরানোর চেষ্টাটাই সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িকতা। এটা স্রেফ উস্কানি। বরং বলা যেতো আপনি যার যার ধর্মকে নির্বিঘ্নে পালন করতে দিন। খেয়াল রাখুন হিন্দুর পূজা-পার্বনে কেউ যেনো সমস্যা সৃষ্টি না করতে পারে। ঈদের জামাতে যেনো কেউ শুয়োর ছেড়ে না দেয়া হয়। গরুর গোশত খাবার অপরাধে কাউকে যেনো নির্যাতিত না হতে হয়। একজন আরেকজনের বিশ্বাসকে সম্মানের চোখে দেখে। তা না করে জোর করে মিলিয়ে দেবার নামে লড়িয়ে দেয়ার ধান্ধা।

বাংলাদেশে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ শুয়োর পালে এবং খায়। কোনো মুসলমান তাতে বাধা দেয়নি কখনোই। অথচ ইসলামে শুয়োর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ প্রাণী। এখন যদি আপনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে একজন মুসলমানকে শুয়োরের খামার উদ্বোধন করতে হবে, তা কি ঠিক হবে? হবে না। হয় না। বরং এতে আপনার দুরভিসন্ধি প্রকাশ পায়।

একই ভাবে আপনি যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাউকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অজুহাতে গরু জবাইয়ের স্থান উদ্বোধন করতে বলেন সেটাতেও আপনার খারাপ উদ্দেশ্যই প্রকাশ পাবে। এসব স্রেফ উস্কানি। সম্প্রীতির নামে সম্প্রীতি ভাঙার সবচেয়ে বড় অপকৌশল।

এখানে দুটি কাজ হবে, প্রথমত হবে সাকিবের মতন অবস্থা। একদল যে উদ্বোধন করতে যাবে তার প্রতি গোস্বা হবে। আরেকদল শুয়োর কেনো পালা হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলবে এবং সেই পালা যাতে বন্ধ হয় তার দাবি উঠবে। যে ভুলটা করেছিলো ফ্রান্স। অনেকে স্বীকার করবেন না, কিন্তু ফ্রান্স তার ক্ষতি টের পেয়েছে। যার ফলেই পিছুটান দিয়েছে তারা। একই অবস্থা জবাইয়ের স্থানের ক্ষেত্রেও। এখানে যে যাবেন উদ্বোধন করতে সে অচ্ছ্যুৎ হবেন। কথা উঠবে গো-হত্যা বন্ধের। সুতরাং সম্প্রীতির নামে এমন উদ্বোধনের কথা যারা বলেন আর যাই হোক তাদের উদ্দেশ্য নিশ্চিত সৎ নয়।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন বিশ্বাসের কী দরকার? এ প্রশ্নটাও বোকার মতন। বিশ্বের সব দর্শনই বিশ্বাসের উপর। ধর্ম কেনো, রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলেন। এই যে বাম, যারা মনে করেন সমাজতন্ত্র কায়েম হলে পৃথিবী স্বর্গ হয়ে উঠবে। পশ্চিমবঙ্গে তো পঁচিশ বছর বামেরা ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতের স্বর্গ হয়ে উঠেছে? না ওঠেনি। তবে ‘উঠতে পারে’ এই শব্দটাই বিশ্বাস। ধর্মও এমন বিশ্বাস করে। ইসলামের ধারণা, ইসলাম কায়েম হলে ইনসাফ কায়েম হবে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে রামরাজ্যে। অতএব সবই বিশ্বাস। আর এমন বিশ্বাসে আঘাত দিলে সমস্যা সৃষ্টি হবেই। চরম বামেরা যেমন তাদের বিশ্বাসের বাইরে যারা তাদের শ্রেণি শত্রু মনে করে। আর আইএস’রা কাফের। ঘটনা কিন্তু একই। দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত খতম করতে চায়। কেউ কল্লা কেটে, কেউ গুলিতে। লক্ষ্য কিন্তু হত্যাই।

সব চিন্তাই বিশ্বাস। সব দর্শন বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বিজ্ঞানের শুরুটাও বিশ্বাসকে ভিত্তি করেই। এমনটা হতে পারে ভেবেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। অনেক সময় হয় না। করোনার ভ্যাকসিনের কথাই বলি, কিছু সফল হলেও বেশিরভাগই বিফল। সুতরাং বিশ্বাসের জায়গাটা ভেঙে দেয়ার চেষ্টা আত্মঘাতী। বরং বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখাতে বলাটা যুক্তিযুক্ত। ওরা শুয়োর খাচ্ছে খাক, আমি আমার গরু খাই। ওরা গরু খাচ্ছে খাক, আমি দেবতা মানি। পূজোর উদ্বোধন মেনে নেয়ার চাইতে এটা মেনে নিতে উদ্বুদ্ধ করাটা বেশি জরুরি। যারা এর উল্টো করেন এবং বলেন তাদের বুদ্ধির ঘনত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর সে প্রশ্ন না থাকলে, উদ্দেশ্য এবং প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা নেহাত অন্যায় কিছু নয়। কারণ লড়িয়ে দিলেই লাভ। ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’র চিরাচরিত ফর্মুলা। 

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0824 seconds.