evaly
  • ২২ নভেম্বর ২০২০ ১৪:৪০:২১
  • ২২ নভেম্বর ২০২০ ১৪:৪০:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘পুলিশ বক্স’ নির্মাণ করে দেয়া অজুহাত দেখিয়ে তিনি কাটলেন সরকারি গাছ!

ছবি : সংগৃহীত


খুলনা প্রতিনিধি :


খুলনা নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতি বাইপাস সড়কের দুই পাশ থেকে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গাছ কাটার সময়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বন বিভাগ বলছে, এটা তাদের গাছ নয়। অপরদিকে থানা পুলিশ বলছে, কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতি এলাকায় সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত ব্যাংক কর্মকর্তা শেখ জাহিদ ইকবাল। তিনি গত ২০ নভেম্বর, শুক্রবার সকালে বাইপাশ সড়কের এক পাশে কয়েকটি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যান।

খানজাহান আলী থানা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসলাম  হোসেন জানান, বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তাদের সাথে অশোভনীয় আচরণ করেন জাহিদ ইকবাল।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের নুরনগর শাখার সিনিয়র অফিসার শেখ জাহিদ ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গাছের কিছু অংশ কেটেছি, তবে আড়ংঘাটা থানার ওসির নলেজে দিয়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার নিজ অর্থায়নে পুলিশ বক্স করে দেব। ফলে গাছের অংশগুলো কাটা জরুরি ছিল।’

বন বিভাগের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেই গাছ কাটা হয়েছে।’

অন্যদিকে গাছ কাটার বিষয়টি ফুলতলা উপজেলা বন কর্মকর্তা জহির উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে কাটা গাছের কিছু অংশ উদ্ধার করে জব্দ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যে এলাকা থেকে গাছ কাটা হয়েছে সেটা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। কাটা গাছের অংশবিশেষ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকারি গাছ কাটার অনুমতি আমি দিতে পারিনা। কেউ যদি পুলিশ বক্স নির্মাণে আমি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছি বলে থাকে, তা হলে সে নিজের দোষ আড়াল করতে মিথ্যা বলছে।’

এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘আমি ছুটিতে বাইরে আছি। তবে শুনেছি স্থানীয় এক ব্যক্তি থানার দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবহিত করে পুলিশ বক্স অথবা গোলচত্বর নির্মাণের জন্য গাছগুলো কেটেছে। আমরা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করেছি এখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রোডস এন্ড হাইওয়ে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বৃক্ষ পালন বিটের সহকারী গোবিন্দ গাইন জানান, তারা এ বিষয়টি অবহিত নন।

তিনি বলেন, ‘সরকারি গাছ কাটার অধিকার কারো নাই। কেউ যদি কেটে থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি গাছের একটি অংশ তেলিগাতি মধ্যপাড়ায় একটি বাড়িতে রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সংশ্লিষ্ট থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় ঘটনার কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

বাংলা/এমএইচ/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1035 seconds.