• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৬ নভেম্বর ২০২০ ১৬:৩৩:১৯
  • ২৬ নভেম্বর ২০২০ ১৬:৩৩:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা পরবর্তী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে কণ্ঠ, কিন্তু কেন?

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরবর্তী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে প্রিয় মানুষের কণ্ঠস্বর। ভারতের সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন দেশটির চিকিৎসকরা।  

চিকিৎসকরা এই পদ্ধতিকে বলছেন- অডিটরি স্টিমুলেশন (Auditory stimulation)। সুস্থ অবস্থায় যেসব শব্দ অন্যরকম অনুভূতি দিতো, তাই অসুস্থ ব্যক্তিকে ঘুমের দেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তার কন্যা পৌলমীর গলা ব্যবহার করেছিলেন চিকিৎসকরা। আর তরুণ গগৈর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছিল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর গলা। যদিও এরপরও তাদের দু’জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নিউরো সার্জন অমিতকুমার ঘোষ জানান, মস্তিষ্কের কোষ অস্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেই কাজে আসে প্রিয় মানুষের কণ্ঠস্বর। চেনা কন্ঠে মস্তিষ্কের রিসেপটরগুলো স্টিমুলেটেড হয়। যে নার্ভ অস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু নার্ভ পুরোপুরো নষ্ট হয়ে গেলে ঘুম আর ভাঙবে না। মস্তিষ্কের কোষ যে নিষ্ক্রিয় তা পরীক্ষায় বুঝতে পান চিকিৎসকরা। কিন্তু স্থায়ী না অস্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় তা বোঝার উপায় নেই। তাই শেষ চেষ্টা করতে এই ভয়েস থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে।

করোনা সেরে গেলেও গ্রাস করছে আচ্ছন্নতা। চিকিৎসকরা এটিকে ‘ইমিউন মেডিয়েটর ড্যামেজ’ বলেন। বিশেষ করে ষাট পেরনোদের নিয়েই চিন্তায় চিকিৎসকরা। বুড়োদের চিকিৎসার প্রয়োজনে এখনই নাতি-নাতনির গলা রেকর্ড করে রাখতে বলছেন চিকিৎসকরা।

নিউরো সার্জন অমিতকুমার ঘোষ জানান, করোনা যতদিন শরীরে ছিলো ততদিন তারা শরীরটাকে পরিবর্তন করছে। ভাইরাস অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে যে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে সেগুলো শরীরের সাধারণ সেলকে আক্রমণ করছে। এমনকি মস্তিষ্কের কোষও বাদ যাচ্ছে না। তাতেই হঠাৎ করে নেমে আসছে আচ্ছন্নতা।

তিনি আরো জানান, সারাদিন নাতনির সঙ্গে থাকতো দাদু। দাদুর মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই নাতনির গলাই দাদুর মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ উৎপন্ন করবে। শুধু বাড়ির সদস্য নয় অনেকের ক্ষেত্রে তার আইডল বা রোল মডেলের কণ্ঠস্বরও কাজে আসতে পারে।

কিন্তু কীভাবে কাজ করে প্রিয় মানুষের কণ্ঠস্বর? এর ব্যখ্যায় চিকিৎসকরা জানান, মস্তিষ্কে নিউরন থাকে। যা সিন্যাপসিসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। যে কোনো তথ্য মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক্যাল ইমপালসে পরিণত হয়ে সিন্যাপসিসের মাধ্যমে বাহিত হয়। তথ্যের উপর যত মনোযোগ দেয়া হয়, ইমপালস তত শক্তিশালী হয় ও নিউরোনের মধ্যে যোগাযোগ তত জোরালো হয়। তাই চেনা কণ্ঠস্বর শোনার পর মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ উৎপন্ন হচ্ছে। যা পুরনো স্মৃতি মনে করতে সাহায্য করছে। এভাবেই কাটে কোমা স্টেজ।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1051 seconds.