• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২২:১৫:৪৪
  • ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২২:১৫:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানী জরুরি’

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া। ছবি : বাংলা

সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন করে গড়ে তোলা। সুশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বোঝা জরুরি। এমন বাস্তবতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া জরুরি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী।

সম্প্রতি জনস্বার্থে এসব বিষয় নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া। ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে দেশে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে কী না এমন বিষয়ে বাংলা’র মুখোমুখি হন এই আইনজীবী। স্বাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমিনুল ইসলাম সিরাজী

বাংলা: সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে কেন রিট করেছিলেন?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া: সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সাইকোলজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেয়া উচিত। এমনটি অনুধাবন করে আমি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে আমাদের ভবিষৎ কর্নধার হবেন যারা, তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরপর আদালত আমার রিট আবেদনটি শুনে রুল ও আদেশ দেন। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের সে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

বাংলা: কোন বিষয়টি অনুধাবন করে রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া: দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হাজার হাজার শিক্ষার্থী নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। তারা শিক্ষাকে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা হিসেবেই গ্রহণ করছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের ছড়াছড়ি। মাদক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। মাদক নেয়া থেকে আরম্ভ করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে গেছে এরকমও আছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে তাদের নৈতিক স্খলন হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এমন অনৈতিক কাজের কারণে শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ছে। এতে করে জাতির ভবিষৎ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আবরার ফাহাদ হত্যা থেকে আরম্ভ করে অনেক কিছুই হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি নৈতিকতা আগে থেকেই তৈরি হতো, যদি শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষা পেতো, তাহলে কিন্তু এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতো না।

এসব বিষয় আমি আদালতে উপস্থাপন করেছি। উদাহরণ স্বরূপ আমি এটাও বলেছি যে, শিক্ষার্থীরা তাদের যেকোনো ক্রাইসিস মোমেন্টে বা ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে না। বন্ধু-বান্ধবের কাছে তা বলতে পারে না। সেই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নেয়ার ক্ষেত্রে তারা হতবুদ্ধি হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য মনোবিজ্ঞানী যদি হাতের কাছে পেতো তাহলে তারা বিষয়টি শেয়ার করে ভালো ফল পেতো। পরামর্শ নিতে পারতো। কাউন্সেলিং নিতে পারতো। জীবনটাকে সুন্দর করতে পারতো। এই প্রয়োজনীয়তা আমি বুঝতে পেরেছি। সারাবিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এবং আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। ওখানে কিন্তু মনোবিজ্ঞানী বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট বা কাউন্সেলিং করার মতো ব্যবস্থা আছে।

বাংলা: মনোবিজ্ঞানীরা শিক্ষার্থীদের জন্য আর কি কি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া: যখন কোনো শিক্ষার্থী একান্ত ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, সংকোচবোধ করে কারো কাছে শেয়ার করতে। এ সিদ্ধান্তগুলো যদি তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের কাছে শেয়ার করে তাহলে তাদের যে ডিরেইল হওয়া বা তারা যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল সেটা থেকে কিন্তু বেঁচে যাবে। তাহলে কি হবে? জাতির যারা ভবিষৎ কর্নধার হবে। রাষ্ট্র যাদেরকে নিয়ে আশা করছে, কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। তারা ভবিষৎ প্রজন্মের কর্নধার হবে, রাষ্ট্রপ্রধান হবে। তারা অনেক কিছুই হবে, তারা আসলে বিপদগামী হবে না। আর বিপদগামী হলে একটি জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এই বিষয়টি আদালতকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আদালতের গাইড লাইন আছে নৈতিক শিক্ষা এবং গুণগত শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে। আমাদের সংবিধানেরও অধিকার আছে। এসব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমী ও গুণসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে এদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিককে এই ব্যাপারে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের এ বিষয়ে কিন্তু বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমি এ বিষয়টি আদালতকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আদেশ দিয়েছেন।

বাংলা: আপনার রিট ও আদালতের আদেশের পর শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া: আমি রিট করার পর আদালত যখন রুল দিলো সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী কেন নিয়োগ দেয়া হবে না। এমন আদেশের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি প্রেস নোট দিয়ে বলেছেন- সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগে ইতিবাচক চিন্ত করছি। সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুইজন করে না হলেও একজন করে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দিতে হবে অথবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে এ প্রক্রিয়াটি শুরু করবেন বলেও আমি গণমাধ্যমে শুনেছি। এ বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম আকারে আসছে। যেগুলো আমি দেখেছি। সবাই এটাকে অ্যাপ্রোসিয়েট করেছে আমরাও অপেক্ষায় আছি কবে এটি বাস্তবায়ন হয়। আশা করছি যে, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যারা এটার সঙ্গে যুক্ত আছেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীকে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0869 seconds.