• ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:৫৯:৫১
  • ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:৫৯:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবুকে মনে রাখেনি রাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত


রকিব হাসান নয়ন :


‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার/সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার’ এই গানের কথা লিখে বিজয়ের মাসে আমরা অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়ে থাকি। দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে আমরা এই গান ছাড়াও বাজাই ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না‘, ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’ গানগুলো। অথচ বেশির ভাগ মানুষ জানেনই না উপরের তিনটি গানের স্রষ্টার নাম। অমর গানগুলো লিখেছেন গীতিকবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবু।

২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় থেকে স্থানীয় যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ গানগুলো ছাড়া পূর্ণতা পায় না। অথচ তার মতো প্রতিভাধর ও কালজয়ী গীতিকবির কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি আজো। ভারতে ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে স্বাধীনতাযুদ্ধে সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। কলম ও অস্ত্র দুটোই সমান দক্ষতায় চালাতেন বাবু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে তুরার পাহাড়ে যুদ্ধের অবসরেও গান লিখতেন।

গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৪৯ সালের ১৭ জুলাই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরনগর গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিকভিটা একই উপজেলার হেমড়াবাড়ি গ্রামে। পিতা বজলুল কাদের ও মাতা রেজিয়া বেগম। পিতা বজলুল কাদেরের সঙ্গীতানুরাগ ছোটবেলা থেকেই বড় সন্তান নজরুল ইসলাম বাবুকে প্রভাবিত করে।

১৯৭১ সালে তিনি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি আবার লেখাপড়া, সাহিত্য ও সংগীত চর্চা শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালেই তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে গীতিকার হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর একে একে লিখতে থাকেন দারুণ সব গান। যার মধ্যে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ অন্যতম।

'সবকটা জানালা খোলে দাওনা’ গানটি তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের খবর এবং বিভিন্ন সৃজনশীল অনুষ্ঠানের সূচনা সংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতে। পরবর্তীতে এই গানটি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ ১৯৯২ সালে ‘সিপাহী’ ছবির টাইটেলেও ব্যবহার করেছিলেন। এই গানটি ছাড়াও নজরুল ইসলাম বাবু’র লেখা অন্যান্য দেশাত্মবোধক গানগুলো আজো বিভিন্ন জাতীয় দিবসে গাওয়া হয়।

কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের কণ্ঠের ঝড় তোলা ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল’ গানটিও নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা। তিনি বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদ (১৯৭৮-৭৯) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৮ সালে সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সাথে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে গান লিখতে শুরু করেন। চলচ্চিত্রে নজরুল ইসলাম বাবুকে আমরা পেয়েছি ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘মহানায়ক’, ‘প্রতিরোধ’, ‘উসিলা’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘প্রেমের প্রতিদান’-এর মতো দারুণ সব চলচ্চিত্রের দারুণ দারুণ সব গানে। শুধু বাংলাদেশের সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সুবীর নন্দী, অ্যান্ড্রু কিশোরের মতো শিল্পীরা নয়; কুমার শানু, আশা ভোঁসলে, হৈমন্তী শুক্লার মতো উপমহাদেশের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তীতুল্য শিল্পীরাও নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা গান গেয়েছেন।

সস্ত্রীক নজরুল ইসলাম বাবু [পারিবারিক অ্যালবাম থেকে সংগৃহীত]

স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্তবৃন্দকে কাঁদিয়ে ১৯৯০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অকালে পরপারে পাড়ি জমান বাংলা গানের মেধাবী ও অসাধারণ গীতিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবু।

নতুন প্রজন্মকে আমরা আজো এমন একজন গীতিকার সম্পর্কে জানাতে পারেনি। অথচ তাঁর লেখা গান আজো দেশসেরা কণ্ঠগুলো গেয়ে থাকেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবুর স্মৃতি হয়ত এখনো এদেশের প্রবীণ শিল্পী, সুরকারদের অন্তরে মিশ্রিত আছে।

তিনি যে গানের বাণী রেখে গেছেন এ ভুবনে, ভুলিবো তা কেমনে। তাই মহান আল্লাহ্ নিকট আরজি করি,তিনি যেন নজরুল ইসলাম বাবুকে ক্ষমা করে কবুল করে নেন। ওনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

বাংলা/আরএইচএন/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0822 seconds.