• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২২ ডিসেম্বর ২০২০ ২১:০০:২৫
  • ২২ ডিসেম্বর ২০২০ ২১:০০:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাবিতে সভাপতির ‘নিয়ম লঙ্ঘন’, শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়

ফাইল ছবি

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনে মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

২২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পিছনে আমতলায় সংবাদ সম্মেলনে করে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। তবে প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভাগের সভাপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর স্বেচ্ছাচারিতা, প্রতিশোধ পরায়ণতা ও পছন্দের শিক্ষার্থীকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্যই এমন ফল বিপর্যয় ঘটিয়েছেন।

এর আগে ৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযোগপত্র দেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়াও ১২ ডিসেম্বর উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। সেসময় বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের পদেক্ষেপ নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ওই বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান ও আবুল হাসান সজীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ফলাফল প্রকাশ হয়। বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনার্সে ১১ জনের ৩.৫০ এর উপরে ফলাফল থাকলেও মাস্টার্সে শুধু ৩ জন শিক্ষার্থীই ৩.৫০ বা তার বেশি পেয়েছেন। এদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান মুন্না অনার্সে ৩.৩০ পেয়ে ২১তম হলেও মাস্টার্সে ৩.৫৩ পেয়ে হয়েছেন প্রথম। তবে অনার্সে ৩.৮২ পেয়ে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী মোস্তাকিম খান এবং ৩.৭৬ পেয়ে দ্বিতীয় হয়ে ইউজিসি বৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থী সুলতান কবীরের মাস্টার্সে ফলাফল ৩.৫০ এর নিচে।’

তারা আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষক না হয়েও মাস্টার্সের ৮টি কোর্সের মধ্যে ৫টি কোর্সেই পরীক্ষক ছিলেন ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এগুলোর মধ্যে ২টি কোর্সের একটিতে মাত্র ৩টি ক্লাস এবং আরেকটিতে একটিও ক্লাস নেননি। ৪টি কোর্সের ২০ নম্বরের ইনকোর্স নেয়ার নিয়ম থাকলেও পরীক্ষা ছাড়াই এতে নম্বর বসানো হয়েছে। এছাড়া বিভাগের অন্য শিক্ষকরা থাকতেও মাস্টার্সের সবগুলো থিসিসের সুপারভাইজার হয়েছিলেন এবং পরে খেয়ালখুশি মতো থিসিস পরীক্ষণে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের নিজের মতামত অনুযায়ী নম্বর দিতে বলেন। এই কারণে দুজন শিক্ষক থিসিস পরীক্ষণে অস্বীকৃতি জানান।’

বিভাগে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন- এমনটাই অভিযোগ করে তারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে পছন্দের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মুন্না ও শারমিন আক্তার জ্যোতিকে প্রতিনিধি করে দেন। এই দুজনের সহযোগিতায় ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিভাগের শিক্ষার্থীদের চাপ প্রদান ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের গড়া সংগঠন ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করতেন।’

এছাড়াও থিসিসের কাজে কক্সবাজার গেলে নিজের পরিবার, শ্যালক, শ্যালিকার ভ্রমণের টাকা ব্যয় করতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

তবে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আসছেন সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0858 seconds.