• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ ১৫:০৩:৪৭
  • ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ ১৫:০৩:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আরএমজি খাতে নতুন দিনের সন্ধান দিচ্ছে ওসাকা

ছবি : সংগৃহীত

পাবনার জমিদার রায় বাহাদুর এবং জিতেন্দ্র নাথ কবিরাজ ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের নির্মম নির্যাতনে নিপীড়িত মানুষের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য পাবনার দিলালপুরে গড়ে তুলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম হোসিয়ারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। হোসিয়ারি শিল্প যোগাযোগ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শ্রমিক অসন্তোষসহ নানাবিধ কারণে ভঙ্গুর থেকে ভঙ্গুরতর হয়ে পড়ে। মৃতপ্রায় এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজারও মানুষ তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে ৫০টির অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা টিকে ছিল। যেখানে সুতা থেকে গেঞ্জি সবই পাবনাতেই তৈরি হত। এখন অবশ্য ঐসব স্বয়ংক্রিয় কারখানার একটিও অবশিষ্ট নাই। 

অদক্ষ শ্রমিক, পুঁজি স্বল্পতা, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা, পুরাতন মেশিন ও মেশিনারিজের ব্যবহার, ব্যবসায়িক জ্ঞানের অভাব, সীমিত আকারের বাজার, পণ্যের প্রচার ও প্রসার কৌশলের অভাব এরকম অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত শতবর্ষ পুরাতন হোসিয়ারি শিল্প বর্তমানে মিনি গার্মেন্টস নামে পরিচিতি লাভ করছে।
২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)- এর অর্থায়নে, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)- এর কারিগরি সহযোগিতায়, পাবনার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ওসাকা’ ক্ষুদ্র তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এখন ভারতের ১২/১৩জন আমদানীকারক গেঞ্জি, জগার্স, ট্রাওজারসহ অন্যান্য গার্মেন্টস পণ্য পাবনা থেকে আমদানি করছেন।

রাজাপুর গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আল-মদিনা গার্মেন্টস এর কর্ণধার মোঃ আবু বক্কারের বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে ওসাকা নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাজাপুরের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকান্ড গ্রহণ করার মাধ্যমে কাজ শুরু করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পুরুষ ও মহিলাদের সুইং, কাটিং, ফিনিশিং ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, অনলাইন মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। ফলশ্রুতিতে অল্প দিনেই এই সেক্টরের প্রতিটি জায়গাতেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু টেকনিক্যাল বিষয়েই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তা নয়, স্থানীয় মার্কেট ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন টেকনোলজি ফিউজিং, বয়লার আয়রন, কাটিং মেশিন প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিতি স্থাপনেও সহযোগিতা করেছে। সর্বোপরি বিগত ৩ বছরে এই সেক্টেরের লেনদেন বেড়েছে দ্বিগুণ, যা বাৎসরিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা। 

পাবনা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারার্স গ্রুপের সভাপতি বারিক হোসেন জনি বলেন, ওসাকা হোসিয়ারি সেক্টরের উন্নয়নে ৩ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার সুফল আমাদের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি প্রকল্পের সহায়তায় এখানকার এ্যাসোসিয়েশন, উদ্যোক্তা ও কারিগরসহ এই সেক্টরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক পরিবর্তন ঘটেছে। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ওসাকা আরএমজি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0851 seconds.