• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৪ জানুয়ারি ২০২১ ১১:৪০:২৯
  • ০৪ জানুয়ারি ২০২১ ১১:৪০:২৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পিপলস লিজিংয়ে জমানো টাকা ফেরতের জন্য অশ্রুসিক্ত আকুতি

ফাইল ছবি

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে আদালতে অশ্রুসিক্ত আকুতি জানিয়েছেন আমানতকারীরা। হাইকোর্টকে তারা বলছেন, ‘আর্থিক ও মানসিক কষ্টে আমারা মারা যাচ্ছি, আমাদের বাঁচান।’

পিকে হালদারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং ২০১৪ সালের পর থেকে আমানতকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে দেশের পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ।

একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এতেও প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অবস্থার উন্নতি না হলে গত বছরের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এমন দৈন্যদশায় পড়া এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে) হালদারের বিরুদ্ধে।  বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পিকে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হতে বসেছে এবং গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এসবের মাঝেই পিকে হালদার গোপনে দেশ ছাড়েন। এক পর্যায়ে তার বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সেইসাথে পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান আদালত।

আদালতের এমন আদেশের বিষয়টি শুনে হাইকোর্টের কাছে নিজেদের সীমাহীন কষ্টের কথা বলতে দুদক আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করেন পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীরা।

তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৩ জানুয়ারি, রবিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চকে বলেন, ‘পিপলস লিজিংয়ের কয়েকজন আমানতকারী কিছু বলতে চান।’

একপর্যায়ে অনুমতি নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে হাইকোর্টে নিজেদের দুর্দশার কথা বলেন চার আমানতকারী।

এ সময় সামিয়া বিনতে মাহবুব নামের এক আমানতকারী অশ্রুসিক্ত নয়নে আদালতে বলেন, ‘মাই লর্ড, আজ আমি একজন ক্যান্সারের রোগী। আমার এখন আর চাকরি নেই। করোনা আসার পর থেকে আমার স্বামীরও চাকরি নেই। আমি আর আমার স্বামী মিলে আমাদের জীবনের কষ্টার্জিত টাকা পিপলস লিজিংয়ে আমানত রেখেছিলাম। এখন আমারা আমাদের টাকা পাচ্ছি না!’

তিনি আরো বলেন, ‘এতটা অসহায় হয়ে গেছি যে, এবার বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারিনি। গত ১ বছর বাচ্চাদের একটু মাছ-মাংস খাওয়াতে পারিনি। আমরা আর্থিক-মানসিক কষ্টে মারা যাচ্ছি। আমরা এখন কার কাছে যাব? মাই লর্ড, আপনাদের কাছে আকুল আবেদন আমাদের বাঁচান।’

আদালতে এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মো. শওকত উর রহমান হাইকোর্টকে বলেন, ‘মাই লর্ড, দেশটা কি স্বাধীন করেছিলাম এভাবে নিজে প্রতারিত হওয়ার জন্য? আমি আমার আমানতের টাকাটা ফেরত চাই।’

হাইকোর্ট আমানতকারীদের এসব কথা শুনে আদালত পিকে হালদারের বিষয়ক রুলের শুনানিতে এদের পক্ষভুক্ত করে নেন। সেইসাথে এফিডেভিট আকারে আমানতকারীদের এই বক্তব্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয় এবং এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

এদিন আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1229 seconds.