• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২১ ১২:৫৭:৫২
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২১ ১২:৫৭:৫২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দিসা মনির ফিরে আসা : হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন

ছবি : সংগৃহীত

 

নারায়ণগঞ্জের ‘মৃত’ মেয়ে দিসা মনির ফিরে আসা নিয়ে দায়ের করা রিভিশন মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আজ ৫জানুয়ারি, মঙ্গলবার বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম ও  বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়। 

হাইকোর্টের নির্দেশে পিফ নারায়নগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান শেষে ৪ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২৭ পাতার প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আজ শুনানিকালে রিভিশন আবেদনকারী ৫ আইনজীবীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ৬ দফা সুপারিশসহ ৪৭ পাতার একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। রিভিশন আবেদনকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমীর, মো. মিসবাহ উদ্দিন ও মো. আশরাফুল ইসলাম শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্তে ৬ দফা সুপারিশ আজ আদালতের সামনে লিখিতভাবে তুলে ধরেছি। উক্ত লিখিত বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পাশাপাশি ফরিদপুরের একটি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একইদিনে ৩ ঘণ্টার মধ্যে পরপর ৩ আসামির স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধকরণ এবং চট্রগ্রামের এক মামলায় ২ আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে একজন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

লিখিত বক্তব্যে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম ও চৈনিক কনফুসিয়াসের মতবাদ অনুযায়ী স্বীকারোক্তির ধারণা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বীকারোক্তি সংক্রান্তে ইউরোপ, আমেরিকা ও ভারতের ১৪টি মামলা এবং আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। অধিকন্তু দেশি এবং বিদেশি পঁচিশটির বেশি মামলার রেফারেন্স উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সংজ্ঞা, গতি-প্রকৃতি এবং তা লিপিবদ্ধকরণের পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও ভারত ও বাংলাদেশের ১৩টি মামলার নজির উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে।  বলা হয়েছে  যে, যেখানে আইনের শূন্য ও দ্ব্যর্থতা বিদ্যমান থাকে সেখানে মাননীয় আদালত নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের সময়ে অনুসরণযোগ্য ৬ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

১. স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার সময় উভয়পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিত থাকার সুযোগ দেয়া।

২. স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের পূর্বে আসামিকে তার আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দেয়া।

৩. স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার সময় অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা।

৪. একাধিক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি একসাথে লিপিবদ্ধ না করা।

৫. সন্দেহ দূরীকরণার্থে আসামির স্বীকারোক্তি টাইপ না করে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বহস্তে লেখা উচিত।

৬. বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট যেন আইনগত সমস্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য যৌক্তিক সময় পান, সে ব্যাপারে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারী দিন ধার্য করেন।

শিশির মনির আরো বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী যেহেতু তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, সেহেতু তিনি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ধারা ১৫(১)-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অন্যূন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন এবং এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দন্ডের অতিরিক্ত পঁচিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।’

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে কথিত ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুল ছাত্রীর জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় নথি তলবের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন দায়ের করা হয়। ৫ আইনজীবীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ আবেদন দায়ের করেন।

গত ২৪ আগস্ট “ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়া স্কুল ছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন” শীর্ষক শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সেই প্রতিবেদন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। তখন আদালত লিখিতভাবে আবেদন করতে বলেন। এরপর মঙ্গলবার একটি রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে শিশির মনির জানান, গত ৪ জুলাই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী দিসা নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী দিসার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে তারা বলে যে, তারা ৫ম শ্রেণির ছাত্রী দিসাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদেরকে জেলে পাঠানো হয়।  কিন্তু ২৩ আগস্ট দিসাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। সে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের হেফাজতে হয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। যেখানে দিসা অক্ষত অবস্থায় ফেরত এসেছে!

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0942 seconds.