• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৫:০০:৩১
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৬:১১:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যা, দীহানের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

তানভীর ইফতেখার দীহান। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার কলাবাগনে স্কুলছাত্রী আনুশকা নুর আমিনকে (১৭) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তানভীর ইফতেখার দীহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

৮ জানুয়ারি, শুক্রবার দুপুরে নিউমার্কেট জোনের পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান সংবাদমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আবুল হাসান জানান, আজ শুক্রবার দুপুরে দীহানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়ার চেষ্টা করা হবে। আর জবানবন্দি না দিলে আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

এর আগে ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাজধানীর কলাবাগানের ডলফিন গলি এলাকায় ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখারকে আটক করেছে কলাবাগান থানা পুলিশ। এছাড়া আরো তিন সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নিহত তরুণীর বোনজামাই শরীফ বলেন, সে সম্পর্কে আমার চাচাতো শ্যালিকা। এ বছর মাস্টারমাইন্ড স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিলো। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটার দিকে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে কোচিং করতে যায়। এ সময় তার এক বান্ধবী মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একটি বাসায় নিয়ে যায়। এ সময় ওই বাসাতে চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে।

তিনি আরো বলেন, যখন প্রচন্ড রক্তপাত শুরু হয় তখন ধর্ষণে অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহান তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বিকাল পাঁচটায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

শরীফ আরো বলেন, নিহত তরুণীর মা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন। আর বাবা ব্যবসায়ী। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে ছিলো বড়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকতো।

নিহত তরুণীর মা জানান, আমার মেয়েকে বাসা থেকে ডেকে নেয়া হয়েছিল। অফিসে থাকাকালে ও আমাকে যখন ফোন করে জানায়- মা আমি ক্লাসের ওয়ার্কসিট আনতে যাচ্ছি। এই বলে গেছে।

তিনি আরো জানান, এরপর দুপুর একটার পর একটি ছেলে মুঠোফোন থেকে ফোন দিয়ে জানায়, আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। ওকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। আপনারা আসেন। পরবর্তীতে গিয়ে দেখি মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। ওকে হাসপাতালেই আনা হয়েছে মৃত।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাশ জানান, দীহানের সঙ্গে আনুশকার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দীহানের সঙ্গে দেখা করার জন্য কলাবাগানে আসে মেয়েটি। দীহান তাকে ডলফিন গলির বাসায় নিয়ে যান। সে সময় দীহানের বাসায় তার পরিবারের কেউ ছিলো না।

তিনি আরো জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় দুপুরে আনুশকাকে দীহান ও তার বন্ধুরা আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় হাসপাতাল থেকে লাশ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর বলেন, দীহানের বাসায় স্কুলছাত্রীর রক্তক্ষরণের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। বাসার বিভিন্ন জায়গায় রক্ত দেখা গেছে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0894 seconds.