• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৮:৫৫:৪০
  • ০৯ জানুয়ারি ২০২১ ০৮:৫৮:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিকৃত যৌনাচারের কারণে মৃত্যু হয় স্কুলছাত্রীর

তানভীর ইফতেখার দিহান। ছবি : সংগৃহীত

বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাজধানী কলাবাগানের স্কুলছাত্রী আনুশকা নুর আমিনের (১৭) মৃত্যু হয়েছে। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিক চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

৮ জানুয়ারি, শুক্রবার ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ।

সোহেল মাহমুদ আরো বলেন, শারিরীক গঠন ও দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া ডিএনএ ও ভিসেরা রিপোর্টের পরই বুঝা যাবে গণধর্ষণ হয়েছে কিনা।

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালেও স্কুলছাত্রীর দেহে আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের ক্যামিকেল এক্সামিনেশনের জন্য আলামত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই।

এর আগে, ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তানভীর ইফতেখার দিহান (১৮) দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ৮ জানুয়ারি, শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দিহান।

জবানবন্দি শোনার পর দিহানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান। ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এর আগে, এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা তানভীর ইফতেফার দিহানকে একমাত্র আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে আটক দিহানের তিন বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, গত রাতে দিহানকে আসামি করে ছাত্রীর বাবা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। এখন মামলাটির তদন্ত চলছে। এতে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাবাগান থানায় ফোন কর। তারা জানায়, এক কিশোরীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে এনেছেন এক তরুণ। কিশোরীর শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। খবর পেয়ে নিউমার্কেট অঞ্চল পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান ওই তরুণকে আটকে রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।

আরো জানায়, এরপর কলাবাগান থানার পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে ওই তরুণকে আটক করে। খবর পেয়ে ওই তরুণের তিন বন্ধু হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাদেরকেও আটক করা হয়। পরে চারজনকে কলাবাগান থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ পরে ওই ছাত্রীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এদিকে পুলিশের এসি আবুল হাসান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1225 seconds.