• বিদেশ ডেস্ক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২১ ১০:৫৭:৪২
  • ২১ জানুয়ারি ২০২১ ১০:৫৭:৪২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বাইডেনের শপথ, দিলেন ঐক্যের ডাক

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের নেতা জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র, যিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত জো বাইডেন হিসেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটিতে শুরু হলো বাইডেন যুগ।

গতকাল ২০ জানুয়ারি, বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে শপথ নেন বাইডেন। তার আগে শপথ নেন দেশটির ইতিহাসের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিস। তাকে শপথ পড়ান দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়র।

ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের ওয়েস্ট ফ্রন্টে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে নিজের পরিবারের ১২৭ বছরের পুরোনো বাইবেলের একটি কপি হাতে জো বাইডেনকে শপথ পড়ান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্ট। এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বয়সী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতিহাস গড়লেন ৭৮ বছর বয়সী বাইডেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই দেয়া ২১ মিনিটের ভাষণে মার্কিনিদের বিভেদ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বাইডেন।

তিনি বলেন, ‘এখন বিভেদের সময় নয়। এখন সংকট মোকাবিলা করার সময়। এখন প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্য ছাড়া শান্তি আসবে না।’

নির্বাচনে তার বিজয়কে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে যে কোনো মূল্যে মার্কিন সংবিধান, গণতন্ত্র ও মূল্যবোধ রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বাইডেন বলেন, ‘এটা আমেরিকার দিন, এটা গণতন্ত্রের দিন। কোনো প্রার্থীর বিজয় নয়, গণতন্ত্রের বিজয় উদযাপন করছি সবাই। যে বিজয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। চলুন একসাথে আশাবাদের ইতিহাস গড়ি। আসুন একে অপরকে শ্রদ্ধা করি আমরা। কারণ এখন বিভেদের সময় নয়, এক হয়ে করোনার মত সংকট মোকাবিলার সময়।’

ক্যাপিটল হিলের সামনে দাঁড়িয়ে দেয়া ভাষণে বাইডেন আরো বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের মূল্য অনুধাবন করতে পেরেছি। এখানে কয়েকদিন আগে তাণ্ডব হয়েছে। আমাদের এখান থেকেই আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

বর্ণবাদকে সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ, বর্ণবাদের মত বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমি জানি অনেক ক্ষেত্রেই আমরা একমত নই। কিন্তু এটাই গণতন্ত্র , যেখানে নানা মত থাকবে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্য। তবে, অঙ্গীকার করছি আমি হব আপনাদের সবার প্রেসিডেন্ট।’

অভিষেক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিনেসোটার সিনেটর অ্যামি ক্লোবাকার। আর অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন খ্যাতনামা শিল্পী লেডি গাগা।

মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী রাষ্ট্রপতি জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র ওরফে জো বাইডেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভানিয়া রাজ্যের স্ক্রানটনে। বাবা জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র। আর মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান আইরিশ বংশোদ্ভূত। চার ভাইবোনের পরিবারে সবার বড় তিনি। তার বেড়ে উঠা স্ক্রানটন, নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ারে।

ডেলাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন বাইডেন। পরবর্তীতে তিনি সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি থেকে আইনের ডিগ্রি নেন। সেখানে পড়ার সময়ই ১৯৬৬ সালে নিলিয়া হান্টারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বাইডেন। এই দম্পতি ঘরে রয়েছে তিন সন্তান। এরা হলেন—জোসেফ আর ‘বিউ’ বাইডেন, রবার্ট হান্টার ও নাওমি ক্রিস্টিনা। ১৯৭২ সালে বড়দিনের আগে ক্রিসমাস ট্রি কিনতে গিয়ে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান নিলিয়া।

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে জিল ট্রেসি জ্যাকবের সাথে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বাইডেন। তাদের ঘরে অ্যাশলে ব্লেজার নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বাইডেনের অভিষেকের সঙ্গে সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জিল হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬তম ফার্স্টলেডি।

১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন জো বাইডেন। এরপর  ১৯৭২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জনপ্রিয় রিপাবলিকান সিনেটর স্যালেব বগসকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পঞ্চম সিনেটর নির্বাচিত হন। ৭৩ থেকে টানা ২০০৯ সাল পর্যন্ত সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৮৭ সালে একবার ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেনশিয়াল প্রাইমারিতে লড়ার ঘোষণা দেন বাইডেন। তবে অসুস্থতার কারণে ১৯৮৮ সালে প্রাইমারির শুরুতে সরে দাঁড়ান তিনি।

২০০৭ সালে আবার দলীয় প্রাইমারিতে নামেন। সেই যাত্রায় বারাক ওবামা আর হিলারি ক্লিনটনের মতো আরো দুই হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় তেমন সুবিধা করতে পারেননি তিন। তবে ২০০৮ সালে ওবামা তাকে রানিংমেট হিসেবে বেছে নেন। ওবামার মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বাংলা/এসএ/

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0825 seconds.