• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২১ ১১:৪৬:১৭
  • ২১ জানুয়ারি ২০২১ ১১:৪৬:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অবশেষে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র মামলা থেকে বৃদ্ধের জামিন

ফাইল ছবি

 

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মো. খোরশেদ বেপারি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। হাঁটেন লাঠি ভর দিয়ে অন্যের সহায়তা নিয়ে। চোখেও কম দেখেন এই প্রবীণ। কিন্তু তাতে কি? পারিবারিক কলহের জের ধরে তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে ধর্ষণ চেষ্টার মতো জঘন্য একটি অপরাধের মামলা। পরে হাইকোর্ট খোরশেদ বেপারিকে আগাম জামিন দিলে বরিশালের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও স্থায়ী জামিন পান তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে হলে আসামীকে সশরীরে হাজির হতে হয়। একদিকে বৈশ্বিক করোনা অন্যদিকে বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিবেচনা এ যেন এক আবেগঘন পরিবেশ। বিচারপতি দেখেই এ আসামির মামলা শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কার্যতালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি মামলার আগেই খোরশেদ বেপারির আবেদন শুনানি করে আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।

 এভাবেই এ প্রতিবেদককে জানান, খোরশেদের আইনজীবী হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘খোরশেদ বেপারির মামলাটি আমার কাছে মিথ্যা মনে হয়। কারণ ৬৫ বছরের বৃদ্ধ যিনি ঠিকভাবে দাঁড়াতেই পারেন না তিনি ধর্ষণ চেষ্টা করবেন কিভাবে?’

এই আইনজীবী বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি পারিবারিক কলহের কারণে এই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তার মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করি। শুনানি শেষে গত ৮ ডিসেম্বর আগাম জামিন দেন আদালত।’

সেদিন এ মামলার আসামি মেহেন্দিগঞ্জের ১১নং চানপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্র্রামের মোঃ খোরশেদ বেপারি হাতে লাঠি, চোখে চশমা ও নুয়ে পড়া কুজো শরীর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বিচারকের আসনে। বিধি অনুযায়ী আগাম জামিনের অর্থই হচ্ছে হাইকোর্টে আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করবেন শুনানি শেষে আদালত মনে করলে জামিন দিবেন। না হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেবেন। সে হিসেবে খোরশেদ বেপারির আদালতে সশরীরে হাজির হওয়া ছিলো একমাত্র অবলম্বন।   

২০২০ সালের ২২ আগষ্ট আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার সময় উল্লেখ করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খোরশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন স্থানীয় রাজিয়া বেগম।

মামলার এজাহারে রাজিয়া বলেন, ‘আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মোছা. রাজিয়া বেগম সাং-কাশিপুর থানা মেহেন্দিগঞ্জ, জেলা বরিশাল এই মর্মে টাইপকৃত এজাহার দায়ের  করিতেছি যে আমার স্বামী একজন পঙ্গু মানুষ। আমার মেয়ে মামলার ১নং সাক্ষী ফারজানা আক্তার ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী | আসামি মোঃ খোরশেদ বেপারির বসত ঘর আমার বসতঘরের কাছাকাছি | খোরশেদ বেপারির স্বভাব-চরিত্র  ভালো না। ঘটনার দিন গত ২২ আগষ্ট সকাল ১১টার দিকে খোরশেদ বেপারির স্ত্রী মোছা. নুর নাহার তাহার বড় বউকে নিয়ে  চিকিৎসার জন্য বরিশাল যায়। যাওয়ার সময় উক্ত নুর নাহার বেগম তাহার ঘরে  থাকা ছোট বউ সুমাইয়ার সাথে আমার মেয়ে ফারজানাকে  থাকতে বলে। আমি তাতে সম্মতি দেই।’

এতে আরো বলা হয়, ‘ঘটনার দিন আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় সুমাইয়া আক্তার বসত ঘরের ভিতরের  রুমে ঘুমানো ছিল। এই সুযোগে আসামি খোরশেদ বেপারি তাহার বসত ঘরের সামনের বারান্দার রুমে দক্ষিণ পাশে খাটের উপর আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার জন্য চাপিয়া ধরে। আমার মেয়ে চিৎকার করতে চাইলে  তাহার মুখ  চাপিয়া ধরে এবং তাহার পড়নের সালোয়ার-কামিজ জোরপূর্বক খুলে ফেলে। আসামি আমার মেয়েকে ধর্ষণ করার জন্য আমার মেয়ের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এক পর্যায়ে ধর্ষণ করিতে উদ্যত হলে আমার মেয়ে জোরাজুরি করে মুখ খুলিয়া চিৎকার দেয়। তাতে সাক্ষী সুমাইয়া টের পাইয়া ঘটনাস্থলে আসিয়া আমার মেয়েকে উদ্ধার করে।’

এজাহারে বলা হয়, ‘আসামি তাতে ক্ষিপ্ত হইয়া আমার মেয়েসহ সাক্ষী সুমাইয়াকে গালাগালি করে এবং ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। আমি আমার মেয়ের নিকট সমস্ত ঘটনা জানতে পারি। আসামির ভয়ে আমরা কোথাও অভিযোগ করতে পারিনি। এ জন্য থানায় এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হল।’

এদিকে হাইকোর্টের জামিনের পর বরিশালের আদালত খোরশেদকে জামিন দেয়। ১৪ জানুয়ারি রবিশালের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল হাসানের আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবু আল রায়হান।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1001 seconds.