• ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:৩০:১৮
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:৩০:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন ও ফটোরঙ্গ

ছবি: সংগৃহীত

আমি নিজেও কোভিড ভ্যাকসিন নিছি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামান্যই। এই একটু জ্বর-জ্বর ভাব, এর বেশি কিছু না। এইডা বলন-কওনের মতন কিছু তো নাই-ই। ফেসবুকে পোস্টানোরও ব্যাপার না। তয় এখন পোস্টাইলাম কেন এইডা কইবেন তো। হ, পোস্টাইলাম আফসুসে। ফটো না থাকনের দুঃখে। তয়, এরও বিকল্প বাইর কইরা ফালাইছে আমাগো বীরগণ। প্রোফাইল পিকচারে লটকায়া দিছে, ‘ভ্যাকসিনেটেড অ্যাগেইনস্ট কোভিড নাইনটিন’। বিশাল যুদ্ধ জয় করছে। মরণের ডরে ভ্যাকসিন নিছি আমরা, সোজা কথা। এর মইধ্যে ব্যাকাত্যাড়া কিছু নাই। এইডা ফলাও কইরা কওনের মতন কুনো বীরত্ব না। এমুন বীরত্ব দেখাইতে গিয়া অনেকেই ধবল ধোলাই হইছেন এবং অহন পর্যন্ত যা থামে নাই।

একজনরে জিগাইলাম ছবি পোস্টাইছেন কেন? কইলো, ‘মানুষরে উদ্বুদ্ধ করি।’ কইলাম, ‘ভ্যাকসিন নিওনের ছবি দিছেন মুখে মাস্ক কই? আপনেরে যে ভ্যাকসিন দিতাছে হ্যার হাতে গ্লোভস কই।’ এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ডাক্তার মানুষ—হ্যারেও দেখলাম ছবি পোস্টাইছে। না, ভ্যাকসিন নিতাছে না, দিতাছে। তারও গ্লোভস নাই। মাঝে-মইধ্যে মুশকিলে পইড়া যাই আমাগো স্বাস্থ্যবিধি জানাইবো শিখাইবো কারা, এমুন ডাক্তারেরা?

টিকা মাগনা পাইতাছেন বইলা অনেকে খুশি। তিন নম্বর বাচ্চার মতন খুশিতে তিন ফাল। ভাইজান, এই টিকা নগদ টেকায় বৈদেশ থিকা কিন্না আনতে হইছে। কেউ দান করে নাই। যে কয়ডা দান করছে, হ্যার পিছে আছে গ্লোবাল পলিটিক্স। পোনা দিয়া সোনা নেওনের ধান্ধা আর কী। যাউক গা, যে নগদ টেকা দিয়া টিকা কিনা হইছে, সেই টেকা আমাগো পকেটের। বৈদেশ থিকা ঋণ নেওন লাগলেও শোধাইতে হইবো আমাগোই। বুঝলেন তো, জিনিস মাগনা না। টিকা আমাগো রক্ত-গোশ্ত পানি করা টেকায় কিনা। ফাল দেওনের আগে ভাইবেন তিন নম্বর বাচ্চা কিনা।

উদ্বুদ্ধ করণের লাইগা বেশি মানুষ লাগে না। আমেরিকার অবস্থা দেখেন, বাইডেনসহ আর দুই একজনের খোমা দেখছে মাইনষে গণমাধ্যমের কল্যাণে। হ্যাইডাই হ্যাগো উদ্বুদ্ধকরণ। বাইডেন লইলে আর কারো চিন্তা করণ লাগে নাকি। আমাগোও মন্ত্রীরা নিছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিছেন। আর কারো লাগে উদ্বুদ্ধ করণে! আপনি ছবি পোস্টাইলে কি হ্যাগো থিকা মানুষ আপনেরে বেশি বিশ্বাস করবো? 

বিশ্বাসের কথা যখন উঠলোই তখন কই। এই যে টিকা নিয়া একটা অবিশ্বাস, এইডা কাগোর সৃষ্টি। কারা কইলো টিকা নিলে বিশাল শর্তে মুচলেকা দিতে হইবো। কেন এই অবিশ্বাসের সৃষ্টি হইলো এর ভেতরের জিনিসটা বুঝতে হইবো। এই বিশ্বাস টিকায় না নষ্ট হইছে অন্যখানে। ওই যে, গেরামে কয় না, ‘চুন খাইয়া মুখ পুড়লে দই দেইখাও ডরায়’- অবস্থাটা এমুন।

মনে রাখতে হইবো, বিশ্বাস হইলো ভরা কলসির মতন। একটা পিডান লাগলেই শ্যাষ। অনেকে মনে করেন বিশ্বাস মাইনে পাঞ্চিং ব্যাগ। হাজার মারলেও নষ্ট হইবো না। হ্যাগো মাথাটা গেছে। পাবলিক যখন জিগাইলেই কয়. আমরা আগেই জানি। তখন কলসিরে কলসি ভাবাই ভালো, পাঞ্চিং ব্যাগ না।

টিকা নিছেন নিজের ডর থিকা। নিজের ডররে বীরত্ব ভাবাটারে কী কয়, তা নিজেরাই বুইঝা লন। অন্তত বীরত্ব দেহানের আগে আয়নার সামনে নিজে একটু দাঁড়ান। যদি বুঝটা অখনো থাকে তয় নিজেরে জিগান, তয়ই বুঝতে পারবেন আপনি কত বড় বীর।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0831 seconds.