• ২১ মার্চ ২০২১ ০০:০৭:৫৩
  • ২১ মার্চ ২০২১ ০০:০৮:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মারবো এখানে... শাল্লা হতে পশ্চিমবঙ্গ

কাকন রেজা। ফাইল ছবি

কাকন রেজা :

গণমাধ্যমে খবর অনুযায়ী সুনামগঞ্জের সে হিন্দু ছেলেটি ফেসবুকে হেফাজত নেতাকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো তার রাজনৈতিক পরিচয় হলো, সে ছাত্রদলের কর্মী। সিলেট বিভাগের খবরের জন্য দৈনিক মানবজমিন এর সুনাম রয়েছে। সেই মানবজমিনের খবর থেকেই জানা সেই ছেলের রাজনৈতিক পরিচয়। কাগজটির ১৭ মার্চের অনলাইন ভার্সনে ‘মামুনুল হককে নিয়ে কটূক্তি, যুবককে পুলিশে দিলো জনতা’ শিরোনামের খবরে ওই যুবকের পরিচয় দিতে বলা হয়, ‘সে শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের গুপেন্দ্র দাসের ছেলে ও স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা।’

অবশ্য অনেকে অবিশ্বাস করবেন একটা হিন্দু ছেলের বিএনপি’র ছাত্রসংগঠন করার খবরটিকে। বাংলাদেশে এমন একটা বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলো যে, হিন্দু হলেই তার সমর্থন থাকবে বিশেষ একটি চিন্তা ও আদর্শের প্রতি। এক সময় হয়তো কথাটা খুব একটা মিথ্যা ছিলো না, কিন্তু সময় যতই গড়াচ্ছে ততই এই প্রতিষ্ঠার প্রস্তর ভাঙতে শুরু করেছে। যেমন, প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো স্লোগান তুলছে, আগ্রাসন রুখে দেবার কথা বলে, সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাবার প্রত্যয়ে। তারা সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ চিনতে শুরু করেছেন। এটা অত্যন্ত আশার কথা। অবশ্য কিছু বুড়োরা আছেন ‘ঢেলে দিই’ বলে এই আশায় হতাশার বালি ঢেলে দেবার জন্য। মূলত সমস্যার জড় তারাই। একাত্তরে তারা নিরুৎসাহিত করতেন তরুণদের হেরে ও মরে যাবার ভয় দেখিয়ে। তারাই আবার স্বাধীন বাংলাদেশে নানা গালগপ্পো গুলতানি মেরে নিজেদের জায়গাটা করে নিয়েছেন। 

যাকগে, সুবিধাভোগৗ ও বাদী বুড়োদের কথা বাদ দিয়ে আসি সুনামগঞ্জের ঘটনার মামলার বিষয়ে। যে মামলার একটিতে প্রধান আসামী করা হয়েছে এক যুব নেতাকে। যে সেখানকার ইউপি সদস্য এবং যিনি প্রগতিশীল বাম কিংবা বিএনপি এমন কী হেফাজতেরও কেউ নন। অদ্ভুত না, হেফাজত নেতাকে নিয়ে বলা কথায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সেই নেতা যিনি কিনা হেফাজতের কথিত উল্টো ঘরানার বলে খ্যাত!

এ দুটো ব্যাপারের সাথে আরেকটি ব্যাপার যোগ করি, সেটা হলো পশ্চিমবঙ্গের প্রচারণা। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল ও বামদের বিরোধীতা করে এমন একটি ফেসবুক পেইজ থেকে সুনামগঞ্জের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, মমতা জিতলে পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুরা এভাবে নির্যাতিত হবে, এমন ধরণের কথা। প্রচার করা হচ্ছে, ‘প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত মানুষের জন্য আনা আইনকে বাধা দিচ্ছে কারা? মনে আছে?’- এসব আলাপ। এমন কথা ধরেই প্রচারণা চালাচ্ছে আরো কয়েকটি সাম্প্রদায়িক কথিত হিন্দুত্ববাদী পেইজ। এপারের সুনামগঞ্জের দুষ্কর্মকারীদের কণ্ঠের সাথে সে সব পেইজের আলাপের খুব একটা পার্থক্য নেই শুধু ধর্মের নাম ছাড়া। 

বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, সুনামগঞ্জের দুষ্কর্মের ঘটনা ক্যাশ করছে ওপারের কথিত হিন্দুত্ববাদীরা। এখানে হামলা হলো, ক্যাশ গেলো ওপারে। হুন্ডি যেভাবে হয় আর কী। বলতে পারেন, সদ্য বিজেপিতে যোগ দেয়া আর অবসরে যাওযা নায়ক মিঠুনের সংলাপের মতন, ‘মারবো এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’। সব মিলিয়ে অঙ্কটা সাজান এবং করুন, দেখবেন অনেক জট খুলে যাবে। 

সত্যিকার প্রগতিশীলরা অঙ্কের সূত্রটা ধরতে শুরু করেছেন। তাই তরুণদের হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়েছে এবং কণ্ঠ খুলছে। সুমনের ভাষায়, কণ্ঠ ছাড়ো আগে। তারা কণ্ঠ ছাড়তে শুরু করেছেন। তারা বুঝতে এবং বলতে শুরু করেছেন, এ দেশটা কারো দয়ার দানে স্বাধীন হয়নি। এ দেশ অর্জন করতে লাখো শহিদ প্রাণ দিয়েছেন। এ দেশের পুরো মাটিই শহিদদের রক্তে পবিত্র। পুরো দেশটাই একটা শহিদ মিনার। এ অর্জন বৃথা যাবার নয়। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

পশ্চিমবঙ্গ শাল্লা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0899 seconds.