• ০৬ এপ্রিল ২০২১ ২৩:১০:০৬
  • ০৬ এপ্রিল ২০২১ ২৩:১০:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়কের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সদস্যদের প্রশ্ন

রাবি প্রতিনিধি :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দল পরিচালনায় অসহযোগিতা, হেফাজতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অবস্থান গ্রহণে অনীহাসহ বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কমিটির সদস্যরা।

মঙ্গলবার ২০ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ১৬ জন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। যারা সবাই আহ্বায়কের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিবৃতিতে সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর বার বার তাগাদা দেয়ার পরও অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সভা আহ্বানে গড়িমসি করেন। প্রচলিত বিধি-বিধান ও নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় উপাচার্যকে তাগিদ দিতে সাক্ষাতের ব্যবস্থা না করে বরং কমিটির সদস্যদের অপমান করেছেন তিনি। এবং বর্তমান ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ উপাচার্যের তল্পিবাহক হিসেবে দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনার কৌশল গ্রহণ করে পরবর্তী উপাচার্য হওয়ার বাসনা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবশেষ বর্তমান সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে হেফাজতের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় অবস্থান নির্ধারণ বিষয়ে সভা আহ্বান করার জন্য চিঠি দেয়া হলেও তাতে সম্মতি দেননি আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দলীয় সদস্যদের নিয়োগ প্রদান নিয়ে দলীয় রীতি অনুযায়ী উপাচার্যকে সুপারিশ; একজন সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তার জবাব বিবেচনা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্টিয়ারিং কমিটির সভা আহ্বানের জন্য আহ্বায়ককে বার বার বলা সত্ত্বেও তিনি এসব বিষয়ে সভা করবেন না বলে ১ এপ্রিল সহ-আহ্বায়ককে জানিয়ে দেন। ওই দিনই ১৬ সদস্যের অনতিবিলম্বে সভা আহ্বানের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে করোনার দোহাই দিয়ে ৫ এপ্রিল সভা আহ্বানের বিপক্ষে অবস্থান নেন।’

পরবর্তী সময়ে অনলাইনে সভা করার অনুরোধ জানালে তিনি ‘আর কোনো সভা করবো না, ক্ষমতা থাকলে করো’ এমন দম্ভোক্তি করেন। এমনকি ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বহু বার তাগাদায় শেষ পর্যন্ত কমিটির প্রথম সভা ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। অথচ প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মার্চ জরুরি সভা করেন আহ্বায়ক; এমন অভিযোগ সদস্যদের।

‘অধ্যাপক হাবিবুরের স্বেচ্ছাচারী, আদর্শবর্জিত ও নীতিহীন প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে বরং তা অত্যন্ত সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়াকে দলের জন্য অপমানজনক ও অমর্যাদাকর বলে উল্লেখ করেছেন তারা।’

এছাড়াও স্টিয়ারিং কমিটির ১১ মার্চের সেই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সকল নিয়োগ বন্ধ; নির্বাচিত স্টিয়ারিং কমিটির সঙ্গে উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাত না করা; বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে দলকে অবজ্ঞা করা; বিভিন্ন শিক্ষককে নিপীড়ন ও বিভিন্ন বিভাগে কক্ষ বণ্টনে অনিয়মসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়নে অধ্যাপক হাবিবুর গড়িমসি করেছেন বলে অভিযোগ সদস্যদের। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সদস্যদের বিবৃতির বিষয়টি জেনেছি। তবে সেটি এখনো আমার পড়া হয়নি। বিবৃতিটি পড়ে কাল বা পরশুর মধ্যে চিঠির মাধ্যমে আমি এর উত্তর দেব।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0880 seconds.