• বাংলা ডেস্ক
  • ১৪ এপ্রিল ২০২১ ১১:১৭:২৩
  • ১৪ এপ্রিল ২০২১ ১২:১৬:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নাইটগার্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) রাঁচির সহকারী অধ্যাপক রঞ্জিত রামাচন্দ্র।

ভারতের কেরালার কাসাড়গড়ের ছিপছিপে যুবক রঞ্জিত রামাচন্দ্র। সারাদিন কলেজ শেষে রাতে করতেন নাইট গার্ডের কাজ। সেই রামাচন্দ্রই এখন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) রাঁচির সহকারী অধ্যাপক।

নিজের জীবনের এই গল্প রামাচন্দ্র লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ভারতের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মাঝে তাঁর বাস্তবজীবনের এই সংগ্রামের গল্প ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। খবর প্রচারিত হয় ইন্ডিয়া টুডে ও হিন্দুস্তান টাইমসের মতো দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমেও।

৯ এপ্রিল দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে নিজের জীবনসংগ্রাম আর তাঁর বাবার কুঁড়েঘরের ছবি দিয়ে রামাচন্দ্র লিখেন, আমি আমার এই গল্প বলতে চাই। এই গল্প যদি কাউকে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে তবে সেটাই আমার সাফল্য।

রামাচন্দ্র লিখেন, আমার বয়স এখন ২৮। আমি যে ঘরে ঘুমাতাম সেটি একেবারে জীর্নশীর্ণ ছিলো। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি ঢুকত। সেই ঘরে একটু ঘুমানোর জন্য কত চেষ্টা করে বৃষ্টি ঠেকাতাম!

রামাচন্দ্র ফেসবুকে লিখেন, দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর অর্থাভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দেবার কথা ভেবেছিলাম। পরিবারকে টানতে একটা চাকরি সত্যিই প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু চাকরি করতে গেলে তো পড়ার সময় পাবো না। এমন সময়েই আমার সামনে চাকরি-পড়াশোনা দুটিই একসাথে করার সুযোগ আসে। পানাথুরে বিএসএনএল এর টেলিফোন এক্সচেঞ্জে নাইট গার্ডের চাকরির সুযোগ পাই। নাইটগার্ডের কাজের মাঝেই সারারাত পড়াশোনা করতাম। আর দিনে পিউস এক্স কলেজে অর্থনীতিতে স্নাতকের ক্লাস করতাম।

ফেসবুক পোস্টটি থেকে জানা যায়, এভাবেই তিনবছর কাটান রামাচন্দ্র। এরপর ধাপে ধাপে তিনি কেরালা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও তারপর আইআইটি মাদ্রাজে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ভাল ফলাফলের জন্য সহজেই ভর্তি হতে পেরেছিলেন। আর খরচ নিজেই চালাতেন নানা কাজ করে।

রামাচন্দ্র লিখেন, এভাবেই ধীরে ধীরে পিএইচডি ডিগ্রি নেই। ততদিনে বৃত্তিও পেতে শুরু করি। তাই তখন আর কষ্ট হতো না। গবেষণা শেষে বেঙ্গালুরুর ক্রাইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সুযোগ পাই। এরপরেই আসে আইআইএম রাঁচিতে অর্থনীতিতে অধ্যাপনার সুযোগ।

সবশেষে তিনি লিখেন, 'ওই ছোট্ট কুঁড়েঘর থেকে আইআইএম রাঁচির পথটি ছিল দুর্গম। কিন্তু স্বপ্নে ঘেরা। আমায় মা-বাবা কখনও বলেন নি কী করতে হবে। আমার যেটা মনে হয়েছে করে গিয়েছি। আমার এই কাহিনী শুনে যদি কারও মনোবল বাড়ে, তবে নিজেকে সার্থক মনে করব'।

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0890 seconds.