• বাংলা ডেস্ক
  • ১৮ এপ্রিল ২০২১ ১৪:৪৫:০৮
  • ১৮ এপ্রিল ২০২১ ১৪:৪৫:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অ্যাম্বুলেন্স নেওয়ার সামর্থ্য নেই, ৯ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে মেয়েকে হাসপাতালে নিলেন বাবা

ঠাকুরগাঁওয়ের তারেক ইসলামের সাত মাস বয়সি শিশু জান্নাতের রক্ত পায়খানা হওয়ায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। কিন্তু, সেখানে একদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জান্নাতকে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন।

একদিকে চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন, আন্তঃজেলায় যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ অন্যদিকে তারেকের কাছে সন্তানকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রংপুরে আনার টাকও নেই। সন্তানকে ভালবেসে তাই অন্য উপায় না পেয়ে বাবা তারেক ইসলাম ৯ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে রংপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন তার অসুস্থ সন্তানকে।

সকাল ৬টায় দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে রংপুরে পৌঁছান তিনি। বর্তমানে শিশুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে (১৮নং ওয়ার্ড) চিকিৎসাধীন আছে।

শিশুটির বাবা তারেক বলেন, শুক্রবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল থেকে সন্তানকে নিয়ে বাসায় যাই। বাচ্চার কন্ডিশন দেখে আমি চিন্তিত। কিন্তু লকডাউনোর কারণে আমার অবস্থা এতটাই খারাপ যে কালকে কি খাব সেই টাকাও আমার কাছে নেই। এ অবস্থায় আমি কীভাবে বাচ্চাটাকে নিয়ে এত দূরের রাস্তা আসব ভেবে পাচ্ছিলাম না। অ্যাম্বুলেন্সের টাকা জোগাড় করতে না পারায় সন্তানকে বাঁচানোর জন্য রিকশা চালিয়ে রংপুরে আসি।

পেশায় রিকশাচালক তারেক ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামের রামবাবুর গোডাউন এলাকার আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে। ১২ বছর বয়সেই রিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরা শুরু তারেকের। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতিতে ঠিকমতো রিকশা চালাতে না পেরে আয় কমে অসহনীয় কষ্ট নেমে এসেছে তার পরিবারে।

শিশুটির বাবা তারেক বলেন, শুক্রবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল থেকে সন্তানকে নিয়ে বাসায় যাই। বাচ্চার কন্ডিশন দেখে আমি চিন্তিত। কিন্তু লকডাউনোর কারণে আমার অবস্থা এতটাই খারাপ যে কালকে কি খাব সেই টাকাও আমার কাছে নেই। এ অবস্থায় আমি কীভাবে বাচ্চাটাকে নিয়ে এত দূরের রাস্তা আসব ভেবে পাচ্ছিলাম না। অ্যাম্বুলেন্সের টাকা জোগাড় করতে না পারায় সন্তানকে বাঁচানোর জন্য রিকশা চালিয়ে রংপুরে আসি।

তারেক বলেন, সকাল ৬টার দিকে আল্লাহর নাম দিয়ে বাসা থেকে বের হই। রাস্তায় আসতে আসতে তারাগঞ্জের দিকে এসে রিকশায় সমস্যা দেখা দেয়। পরে এক অটোচালক বাচ্চার সমস্যার কথা জেনে আমাকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছার জন্য বাধ্য হয়ে দুই-তিন কিলোমিটার রাস্তা রিকশাটা ঠেলে নিয়ে আসি।

শিশু জান্নাতকে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখার পর কিছু ওষুধ ও স্যালাইন দিয়েছেন। তারেক বলেন, 'আজকের দিন দেখা শেষে অপারেশন করা লাগতে পারে বলে চিকিৎসক বলেছে।'

রিকশাচালক তারেক ইসলাম তার অসুস্থ শিশু জান্নাতকে বাঁচানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার তো সামর্থ্য নেই বাচ্চার অপারেশন করাব। যদি সমাজের বিত্তবান মানুষেরা এগিয়ে আসেন- আমি জান্নাতকে বাঁচাতে পারব। আল্লাহর অশেষ করুণা আর সবার সহযোগিতা ছাড়া আমার কোনো পথ নেই।

শিশু জান্নাতের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে চাইলে এ নম্বরে (০১৭৭৩৭২২৬০১) বিকাশ করতে পারবেন। অসহায় এ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যোগাযোগ করুন ০১৩২০৫৪১১০৩ নম্বরে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ঠাকুরগাঁও রংপুর

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1011 seconds.