• ২২ এপ্রিল ২০২১ ১৬:০৮:১১
  • ২২ এপ্রিল ২০২১ ১৬:০৮:১১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

স্কুল ছাত্রের হাতে তৈরি ‘পদ্মা সেতু’

স্কুল ছাত্রের হাতে তৈরি ‘পদ্মা সেতু’

রেদোয়ান হাসান, সাভার

ধীরে ধীরে প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠছে দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু। দীর্ঘতম এই সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই পদ্মাপাড়ে ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। সরকারের মেগা এই প্রজেক্টের কাজ চলমান থাকলেও এক স্কুলছাত্র মাটি ও সিমেন্ট দিয়ে বানিয়েছে ডামি ‘পদ্মা সেতু’। নিপুণ হাতে গড়া হুবহু পদ্মা সেতুর মত ডামি সেতুটি দেখতে প্রতিদিনই ঢাকার ধামরাইয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে ভীড় করছে অনেকেই।

ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার বানানো পদ্মা সেতু দেখতে আসছে আশপাশের এলাকার মানুষ। নিজ বাড়ির পাশেই বাঁশ ও মাটির স্ট্রাকচারের উপর সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে বানানো হয়েছে পদ্মা সেতু। মূল পদ্মা সেতুর মতই হুবহু পদ্মা নদীর উপর নির্মিত করা হয়েছে ডামি এই পদ্মা সেতুটি। রেল লাইন থেকে শুরু করে মূল সেতু, ল্যাম্প পোস্টসহ সবই রয়েছে এই ডামি সেতুতে। রাতের বেলাতে ল্যাম্প পোস্ট গুলোতে জ্বললে আরও সুন্দর হয়ে উঠছে সোহাগের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রথম অবস্থায় তার কাজে সকলেই হাসি-মসকরা করলেও এখন তার পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছে সোহাগ।

সোহাগ আহমেদ জানায়, ‘প্রথম যেদিন পদ্মা সেতুর স্প্যান বসে সেদিন থেকেই আমি অনুপ্রাণিত যে আমি ওইরকম একটা সেতু করতে চাই। প্রথম ২০১৮ সালে আমি সেতুর কাজ শুরু করি। কিন্তু ২০১৯-২০২০ সালেও কাজ সমাপ্ত করতে পারিনি। কারণ তখন আমি মাটি দিয়ে বানিয়েছিলাম। মাটির কারণে শেটা ভেঙে গেছে। আবার বৃষ্টির পানিতেও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এ বছরও আমি মাটি দিয়েই বানিয়েছি। কিন্তু মাটির উপর হালকা করে সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করে দিয়েছি। যাতে বৃষ্টিতে এই সেতুটার মাটি গলে না যায়।’

সোহাগ আরও বলে, ‘আগে আমার বাবা-মা আমাকে এটাতে বাঁধা দিয়েছে। কিন্তু বাড়ির কাজে ফাঁকে ফাঁকে আমি এটা করেছি। আশপাশের লোকজনও অনে হাসি-মসকরা করেছে। এখন অনেক লোক আসছে দেখতে। যে দেখছে সেই প্রশংসা করছে। এটে বানিয়ে আমি আনন্দিত অনেক।’  

সুতিপাড়া ইউনিয়নের গার্মেন্ট শ্রমিক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে শুনলাম যে পদ্মা সেতু তৈরি করছে একটা ছেলে। শুনে খবর পেয়ে আজকে বিকেলে আমি দেখতে আসলাম। ব্রীজটা দেখে অনেক সুন্দর লাগলো।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের হাতকোড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মৃধাও এসেছেন স্কুলছাত্র সোহাগের বানানো পদ্মা সেতু একনজর দেখতে। তিনি বলেন, ‘লোকমুকে আমার খবর পাইলাম যে, এখানে সুতিপাড়া এলাকায় একটা পদ্মা সেতু তৈরি করছে একটা ছেলে। প্রথমে ভাবছিলাম, কি না কি পদ্মা সেতু তৈরি করছে, মনে একটা সন্দেহ ছিল। সেটা দূর করার জন্য চলে আসলাম। কিন্তু এসে দেখি যে না, আসল যে পদ্মা সেতুটা আছে এবং এটা সেম। আমি তার কাজে খুব সন্তুষ্ট।’

সোহাগের বাবা সুলতান উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকার যে পদ্মা সেতু তৈয়ার করতেছে ওইডাতো সবাই যাইয়া দেখতে পারে না। আমার ছেলে মাটি দিয়া যাই করছে সব সময় লোকজন আসে। দেখে ভাল বলতাছে। আমার খুব আনন্দ লাগতাছে। আমিতো চাই যে রকম কাজ করছে এহন। ভবিষ্যতেও এই রকম ভাল কাজ করুক।’

সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি নিজেও গিয়ে পদ্মা সেতুটা দেখে আসছি। অনেক সুন্দর হয়েছে কাজটা। ছেলেটা আসলে অনেক মেধাবী। সে আমাদের এলাকাকে সবার কাছে পরিচিত করেছে। আমরা এলাকাবাসী তাকে নিয়ে গর্বিত।’

 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

পদ্মা সেতু ধামরাই

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1386 seconds.