• ২৫ এপ্রিল ২০২১ ০১:৩৫:১৯
  • ২৫ এপ্রিল ২০২১ ০১:৩৫:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অক্সিজেন সংকটে ভারত, সংকট আমাদের সমুখেও

কাকন রেজা :

আনন্দবাজারী বাংলা ‘শ্বাসবায়ু’। কলকাতার আনন্দবাজার তাদের সম্পাদকীয়তে ‘অক্সিজেন’ এর সংকট বিষয়ে লিখতে গিয়ে তাকে ‘শ্বাসবায়ু’ লিখলো। তা, লিখুক। কতজনই তো কত কিছু লিখছে। ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনে’, রবীন্দ্রনাথও বাদল কে ‘বাদর’ লিখেছেন এবং তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে আধ্যাত্মিক দ্যোতনায়। তবে নিজেরা ‘শ্বাসবায়ু’ লিখলেও, একে-ওকে উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে আবার আনন্দবাজার অক্সিজেনই লিখেছে।

কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো ফাজলামো করার সময় মানুষকে বিনোদন দেয়, কিন্তু সিরিয়াস সময়ে ক্ষোভ উৎপন্ন করে। এই বিষয়টা কলকাতার বাজারীরা আর বাংলাদেশের তাদের ভক্তকুল বুঝতে চান না, কিংবা বোঝেন না। তাই তারা সবকিছুতেই ঝামেলা বাঁধিয়ে ফেলেন। ওড়না শব্দের উৎপত্তি নিয়ে হেঁচকি তোলেন তারা, আবার ঠাকুর শব্দটির উৎপত্তিস্থল বিষয়ে চুপ থাকেন। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, ‘আচানক কারবার’।

ভারতে অক্সিজেন সংকট চলছে। করোনা ভাইরাসের ভারতীয় পরিবর্তনটা হয়েছে ভয়াবহ। যার ফলে বলতে গেলে নরকের দ্বারপ্রান্তে ভারত। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন শেষ। গতকাল দেখলাম অক্সিজেনের অভাবে দিল্লিতে মারা গেছেন ২৫ জন করোনা আক্রান্ত মানুষ। কেজরিওয়াল অক্সিজেন ভিক্ষা চাইছেন অন্য রাজ্যগুলোর কাছ থেকে। এমনকি ভারতের জন্মকালীন শত্রু পাকিস্তানের মানুষের হৃদয় আদ্র হয়েছে অবস্থার ভয়াবহতা দেখে। তারাও সাহায্য করতে চাইছেন ভারতকে। আর এমন সময়ে বাজারীদের বাংলা ‘শ্বাসবায়ু’। ফাজলামোরও মাত্রা থাকা উচিত।

বাজারীদের বাংলাদেশের ভক্তকুলের অবস্থা একই। বাংলাদেশেও অক্সিজেনর সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তরল অক্সিজেনের একটা বড় অংশ ভারত থেকে আমদানী করতে হয় আমাদের। ভারত যেহেতু নিজেদের চাহিদাই মেটাতে পারছে না, সঙ্গত কারণেই তাদের রপ্তানি বন্ধ করতে  হবে। অথচ বাংলাদেশের ভারত ছাড়া আমদানীর বিকল্প কোনো জায়গাও নেই। যেমনটা নেই টিকার ক্ষেত্রে। এখন বলা হচ্ছে, ‘ভারত আমাদের বন্ধু কিনা ভেবে দেখতে হবে, অগ্রিম টাকা দেয়ার পরও কেন সেরাম টিকা দেবে না’- ইত্যাদিসব কথা। এমন কথায় প্রশ্ন উঠে, চুক্তির সময় কেন ভাবা হয়নি বিকল্প জায়গার কথা। দুর্ভাগ্য হলো, আমাদের কেউ প্রশ্নটি তেমন করে তোলেননি। এই সংকটের সময় বন্ধু কিনা কিংবা টিকা দেবে না এমন কথা অনেকটা ব্যর্থ প্রেমিকার অভিমানের মতন শোনায়। সেই বাজারীদের ‘শ্বাসবায়ু’র মতন যা পরিস্থিতির সাথে যায় না।

ওহ, বাজারীদের ভক্তকুলের কথা বলি। এই যে করোনাকালীন এক মহাসংকটের সামনে আমরা দাঁড়িয়ে। এ সংকটও সেই ভক্তকুলকে ভাবাচ্ছে না! তারা এখনো আছেন মামুনুলের বউ নিয়ে! সেই ‘শ্বাসবায়ু’ অবস্থা। তাদের শ্বাস আটকে আছে ওই মামুনুলের বউ-এ। যেন এই বিষয়টা হাতছাড়া হয়ে গেলেই তাদের অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেবে। বলিহারি!

কদিন আগেই প্রকাশিত এক লেখায় বলেছিলাম, করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কথা। আজ যখন লিখছি, তখন দেখলাম বিশেষজ্ঞরা একযোগে বলা শুরু করেছেন এ বিষয়ে। তারা বলছেন, এই পরিবর্তিত ভাইরাস দেশে ঢুকলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সে লেখাতে বলেছিলাম, ভারতের স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট বন্ধ করে দিতে। আজকে বিশেষজ্ঞরাও তাই বলছেন। করোনা বিষয়ক জাতীয় কমিটিও একই পরামর্শ দিয়েছে সরকারকে। মূলত এছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। সীমান্ত খোলা রেখে লকডাউন কেন, কার্ফ্যুও কোনো কাজের কথা নয়। সীমান্ত খোলা রেখে, ‘জীবনে-মরণে তুমি যে আমার’ ধরণের কথামালাও তাই।

আমাদের অনেকে দেখলাম, ভারতকে অক্সিজেন দিয়ে সাহায্যের কথা বলছেন। ভালো কথা প্রতিবেশীকে সাহায্য করতে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু ঘরতো আগে সামলাতে হবে। আর ঘর সামলানো ভারতের চেয়ে আর কে বেশি জানে। কথায় কথায় পেঁয়াজ, চাল রপ্তানি বন্ধ। সাথে তিস্তার পানির বিষয়টা সবার জানা। এই চরম বিপদে, যেখানে সম্পর্কের খাতিরে বিকল্পের সুযোগ থাকা সত্বেও ভারতের সাথেই চুক্তি করা হলো, সেখানে নিজের ঘর সামলাতে টিকা না দেয়ার কথা বলছে তারা। এরচেয়ে বেশি নিজের ঘর আর কে সামলায়। সুতরাং যারা অক্সিজেন সাহায্যের কথা বলছেন, তাদের আগে চিন্তা করতে হবে, আমাদের উদ্বৃত্ত আছে কিনা। আমরা তো অনেক কিছুই দিলাম, তার বিনিময়ে পেয়েছি কতটা, সেই প্রশ্নটাও তোলা রইলো তাদের জন্য। 

লেখক : সাংবদিক ও কলাম লেখক।

 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনা অক্সিজেন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0826 seconds.