• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ মে ২০২১ ০০:১৫:২৭
  • ০৯ মে ২০২১ ০০:১৫:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

লং কোভিড মোকাবেলায়

পুনর্বাসন চিকিৎসার ভূমিকা শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স

ছবি: সংগৃহীত

কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠার পরের অসুখের নাম “লং কোভিড” এবং তা মোকাবেলায় সমন্বিত প্রস্তুতির সময় এখনই বলে মত দিয়েছেন দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। ৭ মে, শুক্রবার হোটেলপ্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকায় বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) আয়োজিত 'লং কোভিড, একটি নতুন মহামারীঃ পুনর্বাসন চিকিৎসার ভূমিকা' শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বিশেষজ্ঞগণ এ মতামত ব্যক্ত করেন। 

দি ল্যানচেট এ প্রকাশিত 'কোভিড-১৯ একটি বায়ুবাহিত রোগ হবার ১০ টি বৈজ্ঞানিক কারণ' শীর্ষক গবেষণা নিবন্ধের লেখক অধ্যাপক তৃষ গ্রীণহাল্গ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনলাইনে এ কনফারেন্সে যুক্ত হন। কনফারেন্সে বাংলাদেশের ১৪ হাজারের বেশি করোনা থেকে সেরে উঠা মানুষের উপর সিআরপি, যবিপ্রবি ও কেন্টের সমন্বিত গবেষকদলের গবেষণা প্রতিবেদন মূল প্রবন্ধ হিসেবে উপস্থাপন করেন ডা. মো. সাকেল।

গবেষণায় জানানো হয়- বাংলাদেশে শতকরা ১৬ ভাগ মানুষের লং কোভিড রোগ রয়েছে এবং ৩০-৫০ বছর বয়সী নারীরা এ রোগে বেশি ভুগছেন। এ রোগের লক্ষনের মধ্যে রয়েছে ফ্যাটিগ বা শারিরিক দুর্বলতা, ব্যথা, অনিদ্রা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথাব্যথা, সাময়িক ভুলে যাওয়া বা ব্রেইন ফগ, স্বাদ ও গন্ধের পরিবর্তন, মানসিক অবসাদ ও ক্ষুধামন্দতা। কনফারেন্সের সভাপতি ডা. সনজিত চক্রবর্তী বলেন, লং কোভিডে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রধান অতিথি ডা. দিপু মনি বলেন, অনেকেই ভাবছেন কোভিড থেকে সুস্থ হওয়া মানেই পরিপূর্ণ সুস্থ, কিন্তু কথাটি সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে কর্মজীবী নারী ও গৃহিণীরা লং কোভিডে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, অতএব এর সুদূরপ্রসারী আর্থ-সামাজিক প্রভাব থাকবে। ব্রিটিশ হাউজ অব্ লর্ডসের এমপি ব্যরোনেস ম্যানজিলা উদ্দিন বলেন, ব্রিটেনে ১০ লাখ মানুষের জন্য ৫০ টির বেশি লং কোভিড ক্লিনিক রয়েছে, সেখানে সমন্বিত চিকিৎসকদল চিকিৎসা প্রদান করেন।

ডা. মো. এনামুর রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, লং কোভিড একটি নতুন দুর্যোগ যার সম্পর্কে আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণের সময় এখনই। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মো. সাইফুজ্জামান শেখর, এবং এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লং কোভিডের চিকিৎসায় জরুরী ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে প্রথম শ্রেনীতে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন পেশাজীবীদের নিয়োগের ও নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন।  

ড. ভেলোরী এ্যান টেইলর সরকারি চিকিৎসাক্ষেত্রে সিআরপি এর 'মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম মডেল' বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। যবিপ্রবি উপাচার্য ড. মো. আনোয়ার হোসেন কোভিড মোকাবেলায় ও গবেষণায় তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। লং কোভিড গবেষণায় সিআরপি’র অধ্যাপক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন, যবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. ইকবাল কবির জাহিদ ও কেন্ট দলের ডা. মো. সাকেল নেতৃত্ব দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা.মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ও বিএসএমএমইউ’র উপ-উপাচার্য ডা. একেএম মোশারফ হোসেন, এবং সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. সোহরাব হোসেন এ গবেষণায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভুমিকার প্রশংসা করেন ও নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে এর প্রয়োগের আহবান জানান।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0797 seconds.