• ১১ মে ২০২১ ২৩:৫৯:৫৩
  • ১১ মে ২০২১ ২৩:৫৯:৫৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

তামিলনাড়ুর নাস্তিক মুখ্যমন্ত্রী ও আমাদের নাস্তিকগণ

ছবি : সংগৃহীত

কাকন রেজা :

বাংলাদেশের মুক্তচিন্তক দাবীদার এবং কথিত নাস্তিকগণ প্রায়শই ধর্মের বিরুদ্ধে যেটা মূলত ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে প্রায়ই বলেন, ‘ধর্ম ছেড়ে মানুষ হোন’। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাদের লাজ-লজ্জা একটু বাকি আছে তারা ইসলামের সাথে সম্পূরক হিসেবে হিন্দু ধর্মটাও টেনে আনেন। বলেন, ‘মুসলমান, হিন্দু পরিচয় ছেড়ে মানুষ হও’। যেন তারা মানুষ বানানোর স্কুল খুলছেন। মুসমানরা যেমন দ্বীন কবুলের দাওয়াত দেন, তারাও মানুষ বানানোর দাওয়াত দেয়ার কাজে নেমেছেন। 

একটা কথা বুঝি না, মানুষ হতে গেলে ধর্ম ছাড়তে হবে কেন! বিজ্ঞান থেকে শিল্পকলা এসবের পেছনে যাদের দান রয়েছে তাদের সিংহভাগই মানুষই ধর্মানুসারী। তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন। হিসেবে করে জানান দিন তো নাস্তিক কয়জন। ধর্ম যদি বাধা হতো তাহলে এসবের কোন কিছুরই প্রসার ঘটতো না। মাদার তেরেসা কি নাস্তিক ছিলেন? মানবতার প্রশ্নে মাদার তেরেসাকে অস্বীকার করা সম্ভব? 

জানি, এর বিপরীতে নানা উদাহরণ টানা হবে। কেউ হাদিস দেখাবেন, শ্লোক ব্যাখ্যা করবেন। এই কাজই তো পারেন তারা। ষোল আনার মধ্যে দুই আনা খাদ বের করার কাজ। তাদের কাজ খাদ নিয়ে। ইয়ে চিনে কঁচু’র মতন আর কী। খাদে খাদকে চেনে। 

তবে আমাদের দেশেই বোধহয় এ রকম। পাশের দেশ ভারতের নাস্তিকদের মধ্যেও অনেকে ব্যতিক্রম। স্বয়ং ব্যতিক্রম এবারের তামিলনাড়ুর নাস্তিক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন। তার বক্তব্যটা তুলে ধরলেই দুধ আর পানি আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা। স্তালিন ধর্ম প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি ধর্মের বিরোধী নই, তবে আমি নিজে ধর্মে বিশ্বাস করি না।’ মার্ক্সও এই কথাই বলেছিলেন। আরেক জায়গায় এমকে স্টালিন বলেছেন, ‘আমার স্ত্রী মন্দিরে যায় এবং তাকে নিষেধ করি না।’ এই হলো নাস্তিকতা কিংবা আস্তিকতা। যাতে কোনো জবরদস্তি নেই। তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার। সে ধর্ম হতে পারে আস্তিকতায় কিংবা নাস্তিকতায়। এটাও পরিষ্কার করে দিই, ধর্মও দর্শন, নাস্তিকতাও তাই। ঈশ্বরবাদের বিপরীতে নিরীশ্বর বাদ। 

জানি না, এ উদাহরণের পর আমাদের দেশের মুক্তিচিন্তক আর নাস্তিকরা এমকে স্টালিনকেই ধুয়ে দেবেন কিনা। যারা তামিলনাড়ুকে নিয়ে এতদিন অহঙ্কার করছিলেন, সেখানে বাম এবং নাস্তিক মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এই ভেবে তারা কী বলবেন। সেই মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনের এমন বক্তব্য তাদের মোহভঙ্গ ঘটাবে কিনা তা নিয়ে সঙ্গতই প্রশ্ন থেকে যায়। তবে মনে হয় না আমাদের দেশের সোকল্ড মুক্তচিন্তক ও নাস্তিকদের মোহভঙ্গ ঘটবে।

জোসেফ স্টালিনের নামে বাবা তার নাম রেখেছিলেন। সেই বাবা এবং তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির পুত্র এমকে স্টালিন। তার নামের ইতিহাসটা হলো জোসেফ স্টালিনের সাথে দেখা করেছিলেন করুণানিধি। তিনি স্টালিনে এতই মুগ্ধ ছিলেন নিজের ছেলের নাম রেখেছিলেন স্টালিন। আর সেই এমকে স্টালিনই এখন তার প্রাক্তন জায়গার বর্তমান, মানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আর এই মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীই মন্দিরে পূজো দিতে যায়, আজব কথা না। আমাদের দেশের নাস্তিকতার প্রেক্ষাপটে তাই হওয়ার কথা। 

আমাদের দেশে ক্রিকেটার মুশফিক ধর্মীয় রীতি পালনের ক্ষেত্রে বুলিং এর শিকার হন। তাকে নিয়ে ট্রল করা হয়। আবার অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ধর্ম পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তা নিয়ে প্রতিবাদ হয়। মুশফিকের ক্ষেত্রে যারা বুলিং করেন, চঞ্চলের ক্ষেত্রে তারাই প্রতিবাদ করেন, এক যাত্রায় দুই ফল। এমন দ্বিচারিতাই আমাদের দেশের এক শ্রেণির নাস্তিকের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য সকল কর্মের পেছনেই কারণ থাকে। সেই কারণটা সঙ্গতই যাপিত জীবনের সাথে সম্পর্কিত এবং রাজনৈতিকও। 

লাখো ভালো মানুষের মাঝে একশ খারাপ মানুষ থাকবেই। সবক্ষেত্রেই বিরোধীতা থাকে। ভালো কাজেও মন্দ খুঁজে বের করে মানুষ। আবার অমঙ্গলেও মঙ্গল খোঁজেন কেউ কেউ। এক্ষেত্রে যারা লাখো ভালোকে বাদ দিয়ে একশ মন্দ নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হন, তখন নিশ্চিত বুঝে নেয়া যায় এর পেছনে কোনো কারণ রয়েছে। আর সে কারণটা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ এবং সম্ভবত মন্দ।  

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1091 seconds.