• ০৯ জুন ২০২১ ২১:১২:১২
  • ০৯ জুন ২০২১ ২১:১২:১২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘কত বড় একটি সত্যি আমরা লজ্জায় গোপন করে চলি’

আমিনা সুলতানা সানজানা। ফাইল ছবি

১. আম্মা আপা নামাজ পড়ে না কেন?

তোর আপার পেট খারাপ তাই।

করুণ চোখে তাকায় রিনা, যেন কোন অপরাধী। 

২. রোজার মাসে খুব লুকিয়ে পানি খাওয়ার পরও পুরুষ কলিগের চোখে ধরা পড়ে গেল মিরা। পুরুষ কলিগের তাচ্ছিল্যের হাসি থেকে বাঁচা গেল না।

৩. বৃষ্টির দিন, ভাইয়া ছাড়া কেউ নেই বাসায়। হঠাৎ পিরিওড হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে নিতু। এই অবস্থায় বাইরে যেতেও পারছে না, কিন্তু ভাইয়াকে কি করে বলবে প্যাড আনতে?

পিরিওড বা মাসিক বা ঋতু সৃষ্টির মতোই একটি অতি পুরাতন বিষয়। অথচ এই একবিংশ শতাব্দীতেও আমাদের লুকোচুরির শেষ নেই এ নিয়ে পিরিওড নিয়ে। কত বড় একটি সত্যি আমরা লজ্জায় গোপন করে চলি। অথচ এই সময় মেয়েদের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। অনেক বাসায় স্বামী হয়তো স্ত্রীর খেয়াল রাখেন, কিন্তু সেটাও হাতে গোনা। অনেকে আবার এই সময় শুনেছি স্ত্রীর সাথে দূরত্ব বজায় চলেন। সবই কিন্তু ওই পুরুষটার পারিবারিক শিক্ষা। সে তাই করছে যা সে শিখে এসেছে।

কতজন মা তার ছেলেকে পিরিওডের বিষয়ে জানান? শতকরা হিসাবে বের করা যাবে বলে মনে হয় না। অথচ ছোট থেকে এই বিষয়ে একটি ছেলে যদি জেনে বড় হয় তাহলে সে আরেকটি মেয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। একজন অভিভাবক হিসেবে বাবা মাকেই শেখাতে হবে মেয়েদের সম্মান করা। লুকিয়ে রাখার বা গোপন করার এই যে সংস্কৃতি চলে এসেছে বছরের পর বছর তা ভেঙে দেয়া খুব দরকার। আমরা এখন ছেলে মেয়ে সমান অধিকার নিয়ে বলি। তাহলে এ দু শ্রেণীর শারীরিক স্বাভাবিকতার বিষয় এড়িয়ে চলতে পারি না। 

একবার ভাবুন তো, আপনি যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তবে খুব প্রেমে না পড়লে আপনি কি বিয়ে করবেন এমন কোন মেয়েকে যার পিরিওড হয় না?

অথবা কোন মা বাবা সাপোর্ট করবেন এই বিয়ে ?

বলবেন নিশ্চয়ই পিরিওড হয় না সে তো নারীই না, বাচ্চা হবে না, একে তো বিয়ে করার প্রশ্নই ওঠে না।

মানব সন্তান পৃথিবীতে আসার মূলে এই পিরিওড বা ঋতু, অথচ পৃথিবীর এমন চরম সত্যকে আমরা দিনের পর দিন লুকিয়ে রাখি নিম্ন বিত্ত থেকে উচ্চ বিত্ত সবাই।

অনেকের অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয়। তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, চাকরির ক্ষেত্রে, পরিবারে তার স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হয়। এই অবস্থায় একজন মেয়ের মেজাজও খিটখিটে হয়ে যায়। কিন্তু পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় অনেকে সম্পূর্ণ ক্লাস বা অফিস করতে পারেন না। সব জায়গায় নারী থাকে না, যার কাছে সহজে বলা যায় আমার প্যাড লাগবে। আর পুরুষ সমাজে এটা এখনো আমরা লজ্জার বিষয় বানিয়ে রেখেছি। একজন পুরুষ বন্ধু বা কলিগকে আমার প্যাড লাগবে বলা তো দূরের কথা, আমাদের সমাজে মেয়েরা এখনও লজ্জায় প্যাড নিজে কিনতেও যেতে পারে না। আবার কিনলেও দোকানী এমন ভাবে পেপারে মুড়িয়ে দিবে যেন কোন নিষিদ্ধ বস্তু। 

অনেক বড় বড় মহিলা অফিসারও কাজে আসতে না পারলে অন্য কোন সমস্যা দেখিয়ে এড়িয়ে যান। আমি নিজে খুব বিরক্ত হই, এই মিথ্যা বলার জন্য। এতে আমার সুন্দরের চর্চা ব্যাহত হয় বলে মনে করি। এভাবে আমাদের সন্তানেরাও মিথ্যা বলবে, নিজের স্বাভাবিক সুন্দর জীবনটা লুকিয়ে হীনমন্যতায় ভুগবে এটা মনে হয় একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে কেউ চায় না।

এখনই চাই এই টেবু ভেঙে যাক সমাজ থেকে। নিজ পিরিওড এর কথা একজন নারী সত্য স্বাভাবিক ভাবে বলুক তার পরিচিত অপরিচিত গন্ডিতে।

আমার পিরিওড বা মাসিক হয়েছে.... এই কথাটা সাবলীল ভাবে সবার সামনে বলার অধিকার পাক প্রতিটি নারী।

লেখকঃ আমিনা সুলতানা সানজানা

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1209 seconds.