• ০৩ আগস্ট ২০২১ ১৫:০৭:৫৮
  • ০৩ আগস্ট ২০২১ ১৫:০৭:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ফেরা, অশুভের বিরুদ্ধে শুভের লড়াই

কাকন রেজা। ফাইল ছবি

কাকন রেজা :

ফেসবুক আমার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলো। কথা বলার ক্ষমতা, মত প্রকাশের ক্ষমতা। দীর্ঘ একমাস, কম সময় নয়। তারপরেও চেষ্টা করেছি, নানা ভাবে আমার কথা জানাতে এবং তা আমার প্রকাশিত লেখা দিয়ে। কেউ আমার লেখা আমাকে ট্যাগ করেছেন বা করা হয়েছে, সেটা যেভাবেই হোক। অর্থাৎ মানুষের সাথে যুক্ত থাকতে চেয়েছি। এ চাওয়াটা সবার। মানুষ মানেই সংযুক্তি, একজন আরেকজনের। শুধুমাত্র ফ্যাসিস্ট’রা মানুষ থেকে বিযুক্ত হতে চায়, মানুষকে বিযুক্ত করতে চায়। তাই মানুষের যুদ্ধটা হওয়া উচিত সকল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে। এমনকি ফেসবুকের এই যে স্বেচ্ছাচারিতা এটাও ফ্যাসিজম, এর বিরুদ্ধেও। 

ফেসবুক ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার আগে আমার শেষ পোস্ট ছিলো আহমদ ছফাকে নিয়ে। ‘আহমদ ছফা: দেবতা, মহাত্মা না মানুষ’ এ শিরোনামে লেখাটি প্রকাশ করেছিলো গণমাধ্যম ‘বাংলা’। তার আগের লিখাটি ছিলো, ‘লকডাউন’ দোষ আমজনতার, অদ্ভুত ব্লেইম গেইম এবং আমাদের উপচে পড়া রিজার্ভ- এমন শিরোনামে। ছেপেছিলো ‘দৈনিক নতুন সময়’, সাথে প্রকাশ করেছিলো ‘আমাদের সময় ডটকম’। টিকা নিয়ে কথা বলতে গেলে কেন যেন চেপে ধরা হয়। তা হয় ফেসবুক, না হয় ‘অন্য’দের তরফ থেকে। 

লিখেছিলাম, ‘করোনার টিকা যখন পেলাম আমরা, অতিশয্যে কী বললাম, হাঙ্গেরি আমাদের কাছে টিকা চেয়েছে। যেন, আমরা টিকা উৎপাদনকারী কোনো দেশ, আমাদের কাছে অপারগ হাঙ্গেরি টিকার জন্য অনুনয় করছে। সে সময়ও দেখেছি, অনেকে বাহবা দিয়েছেন! দিয়েছেন ভালো করেছেন, এখন প্রশ্ন করি হাঙ্গেরি আর আমাদের টিকা প্রদানের তুলনামূলক হার নিয়ে। বলুন তো, হাঙ্গেরিতে বর্তমানে শতকরা কতোজন টিকা পেয়েছেন, আর আমাদের কতো? জানি, পারবেন না, পারলেও বলবেন না। কারণ হাল হিসেবে হাঙ্গেরিতে ১শ জনে টিকা পেয়েছেন ৯৫.৮ জন। আর আমাদের ১শ জনে পেয়েছেন ৬.১ জন। হাঙ্গেরিতে করোনাজনিত বিধি-নিষেধ ওঠে যাওয়ার পথে, আর আমরা বাড়িতে মানুষকে আটকে রাখতে সশস্ত্র বাহিনী নামাচ্ছি!’- খুব কি ভুল লিখেছিলাম। করোনায় আজকের মৃত্যুর মিছিল, একমাস আগের লেখার যে চিত্র, তারই বিম্বিত রূপ। অস্বীকার করার জো নেই। গণমাধ্যমে দেখলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘সংক্রমন ও মৃত্যু বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দায়ী নয়।’ দায়ী বিষয়টা পরে, আগের কথা হলো সংক্রমন ও মৃত্যু বাড়ছে। সারা বিশ্বে টিকা কর্মসূচিতে আমরা এতটাই পিছিয়ে যে, তুলনা করতে গেলেও বিব্রত হতে হয়। যদি কারো লজ্জা বা ব্রীড়া না থাকে তবে আলাদা কথা। 

একজন সাংবাদিক, লেখক বা যিনি বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করেন, তার কাজ কী? নিশ্চয়ই তার কাজ, তার নিজের সমাজ, রাজনীতি, সামগ্রিক রাষ্ট্র এবং সে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সার্বিক উন্নয়নের চিন্তা করা। আর সে চিন্তার কথা জানান দিতে গেলেই অসঙ্গতিগুলি উল্লেখ করতে হয়। বাধাগুলি চিহ্নিত করতে হয়। তাতে সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনায় অসঙ্গতির যে অংশগুলো রয়েছে সে অংশগুলি স্বভাবতই ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। তারা নিজেরা টিকে থাকতে সকল অপচেষ্টা চালায়। আর তাতেই শুভ আর অশুভের সংঘাত সৃষ্টি হয়। অশুভের কাজই হলো শুভকে বাধা দেয়া। আর বাধা দেয়ার সেই প্রক্রিয়াই ফ্যাসিজমের প্রাথমিক পর্যায়। যখন অশুভ সার্বিকভাবে শুভের বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন বাধাটা হয় ব্যাপক পরিধি  জুড়ে। আর সেটাই ফ্যাসিজমের পূর্ণরূপ। 

শুভ চিন্তার মানুষেরা, বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা যারা করেন, তারা শুভ’র চর্চাই করেন। তাদের চেষ্টা থাকে সকল অশুভের বিরুদ্ধে কথা বলার। সেই কথা বলার জন্য হয়তো তাদের চিন্তাকে বাধা দিতে, থামিয়ে দিতে চেষ্টা করা হয়। অ্যাসাসিনেশনের সেই প্রক্রিয়ায় মানুষকে হয়তো থামিয়ে দেয়া যায়, চিন্তাকে নয়। চিন্তা চলমান, এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে ক্রমাগত প্রতিস্থাপিত হয়। সুতরাং শুভ চিন্তা যারা করেন তারা ফিনিক্স পাখির মতন। তারা শক্তির রূপ, তাদের ধ্বংস করা যায় না, তারা ফিরে ফিরে আসেন। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।  

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ফেরা অশুভ শুভ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1025 seconds.