• ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:১৩:৩৩
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:১৩:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল দেশের ডিজিট কত, ডিজিটাল জীবনমানে...

ছবি : কাকন রেজা

কাকন রেজা :

ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের কম কথা শোনা হয়নি। ডিজিটাল শব্দটার সঠিক মানে না জেনেও অনেক ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে বলতে অস্থির হয়ে গেছেন। তো সেই ডিজিটাল দেশটির ডিজিটাল জীবনমানের অবস্থা কী, তা জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘সার্ফশার্ক’। প্রতিবছরই প্রতিষ্ঠানটি ‘ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স’ বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২১ এর প্রতিবেদনে ১১০টি দেশ ছিলো তালিকায়। বাংলাদেশের অবস্থান শেষের দিকে ১০টি দেশের মধ্যে। ১০৩ নম্বরে, আশার কথার মধ্যে শেষের দিক থেকে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান দেয়নি ‘সার্ফশার্ক”। 

এশিয়ার ৩২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অবশ্য শেষের দিক থেকে তৃতীয় হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমিক হচ্ছে ৩০। শেষের দিক থেকে প্রথম কম্বোডিয়া ও দ্বিতীয় তাজিকিস্তান। অতএব ডিজিটাল বলতে যারা টাল খেয়ে যান, তাদের বিষয়টি বোধে আনতে হবে। প্রযুক্তি মুখনির্ভর কোনো ব্যাপার নয় যে প্রোপাগান্ডায় চালিয়ে দেয়া যায়। একটা জোক আছে, দুর্ঘটনায় একজন মারা গেছেন। মৃতদেহ দেখে একজন বললেন, ‘এ নিশ্চয়ই চাপাবাজ ছিলেন।’ আরেকজন বললেন, ‘বুঝলেন কী করে?’ উত্তর, ‘সারা শরীর থেতলে গেলেও চাপা অক্ষত রয়েছে।’ না, এই জোকটা আমাদের বেলায় ক্রম সত্যি হোক এটা চায় না বলেই এই লেখা। 

ব্যাংকের কথা বলি, কথায় কথায় ডিজিটাল ব্যাংকিং এর কথা বলা হয়। ক্রেডিট কার্ডের পিন নম্বর ভুলে গেছি, ব্যাংকে জানালাম। আমি যে দীর্ঘদিন কার্ডটি ব্যবহার করতে পারছি না, কেন করছি না বা পারছি এ খোঁজটা ব্যাংকেরই নেয়ার কথা। আর তা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থেই। কারন ব্যবহার হলেই না তাদের লাভের অঙ্ক বৃদ্ধি পাবে। না, খোঁজ নেই। বাধ্য হয়েই নিজে জানালাম। সেই ব্যাংকের হেল্প লাইনের সংযোগ পাওয়া এক বিশাল ধৈর্য ও পরিশ্রমের ব্যাপার। যখন পাওয়া গেলো, যিনি অ্যাসিস্ট করবেন তাকেই উল্টো আমাকে বোঝাতে হলো কার্ডের সমস্যা। 

তিনি, বিরক্ত স্বরে বললেন, আমার পিন নম্বর পরিবর্তন করতে টাকা দিতে হবে, জরিমানা আর কী। তাও আবার সাত থেকে চৌদ্দ কর্মদিবসের আমার পিন নম্বর পাবো। অথচ উন্নত বিশ্বে হলে সাত বা চৌদ্দ দিন লেনদেন বন্ধ থাকা এক অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু আমাদের সব সম্ভবের দেশের সবই সম্ভব। ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায়। গ্রাহকের টাকা চোখ বন্ধ করে মেরে দেয়া হয়, সেখানে ছোটখাটো ব্যবসার চিন্তা কে করে। আমার মতন দরিদ্র লোকের ওই কয়টাকার লেনদেন তাদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কোনো হিসেবেই তুলনীয় নয়। সুতরাং ঠেকাটা আমাদেরই। 

আরেক ব্যাংকের কথা বলি। একজন দরিদ্র মানুষ কটা টাকা লোন নিয়েছিলেন। তাকে যে পরিমান মানসিক অত্যাচার করেছে ব্যাংকের লোকজন তা রীতিমত অমানবিক। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দেখানো ভয়ে, সেই পরিবারের কয়েকদিন ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া হয়নি। ছোট দুটি বাচ্চা ভয়ে ছিলো কখন তাদের বাবাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটকারীরা, খুনের দায়ে অভিযুক্তরা করোনার মধ্যে চাটার্ড প্লেনে দেশ ছেড়ে যায়। ফিরেও আসে এবং জামিনও হয়ে যায়। কেউ কেউ জিজ্ঞাসাবাদেরও সম্মুখিন হন না, এমনিতেই নির্দোষ প্রমান হয়ে যান। সত্যিই বিচিত্র দেশ, বিচিত্র সব কাণ্ড-কারখানা। 

লেখক : সাংবদিক ও কলামিস্ট। 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0678 seconds.