• ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৪৩:২৯
  • ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৪৩:২৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

খুলনায় তৈরি হচ্ছে ‘তরমুজের গুড়’

ছবি : বাংলা

মেহেদী হাসান, খুলনা প্রতিনিধি:

আখ, খেজুর, তাল আর গোলপাতার রস দিয়ে গুড় তৈরির পর এবার খুলনায় তৈরি হচ্ছে তরমুজের গুড়। সুঘ্রাণে ভরা মিষ্টি এই গুড়ের নাম 'তোগুড়'। বিক্রয় অনুপযোগি তরমুজ থেকে ‘তোগুড়’  উৎপাদনকে গুড় শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো তরমুজের নির্যাস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের কালিদাস মণ্ডলের ছেলে তরুণ কৃষক মৃত্যঞ্জয় মন্ডল।

তরমুজ সুমিষ্ট ও উচ্চমূল্যের ফসল। কিন্তু কিছু কিছু তরমুজ সাইজে কিছুটা ছোট হয় বা আকার আকৃতিতে কিছুটা কম থাকে, ফলে গ্রেডিং এ টেকে না। যা ক্যাট নামে পরিচিত। এগুলো বিক্রি হয়না এবং অনেক সময় মাঠেই থেকে যায়। কোন কোন সময় বৃষ্টিতে পচে এগুলোর দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় ঐ সমস্ত ক্যাট তরমুজ নিয়ে কোন রকম মেশিন ছাড়াই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরমুজ কেটে এর লাল অংশ  নেট দিয়ে ছেঁকে জুস বের করে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা চুলার আগুনে জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় গুড়। ২০/২৫ কেজি তরমুজ থেকে ৫/৬ কেজি পরিমাণ নির্যাস (রস) হয়। ৫ লিটার তরমুজের রস থেকে তৈরি হয় ১ লিটার গুড়। প্রথম দফায় সফলতা আসে। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এ গুড় অত্যন্ত সুস্বাদু এবং দেখতে খেজুরের গুড়ের মতোই।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, তিনি ডুমুয়িা উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০১৯ সালে প্রথম তরমুজ চাষ শুরু করেন এবং পর পর তিন বছর তরমুজ চাষ করে ভাল সফলতা পেয়েছেন।

মৃত্যুঞ্জয়ের স্ত্রী মিতালী মণ্ডল বলেন, এ পর্যন্ত ১০/১২ কেজি গুড় তৈরি করেছি। কিছু গুড় ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রিও করেছি। অনেকেই কিনতে চেয়েছেন গুড় রয়েছে চাহিদও।

গুড় উৎপাদনের খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত লোক দেখতে আসছে কিভাবে তরমুজ থেকে গুড় উৎপাদন করা হয়। এলাকার অনেক কৃষক আগামী তরমুজের সিজনে তরমুজ চাষ করে গুড় উৎপাদন করে বাজারজাত করার কথা ভাবছেন।

খুলনায় প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। মৌসুমের শেষ দিকে ক্ষেতেই তরমুজ নষ্ট না করে, গুড় তৈরি করা গেলে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা সম্ভব।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘এটি কৃষিতে এক দারুণ অর্জন। আমাদের দেশের গুড় শিল্প দিন দিন সংঙ্কচিত যাচ্ছে। একদিকে তাল ও খেজুর গাছের সংখ্যা যেমন কমছে, তেমনি এ গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন,উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সিজনে কৃষক অনেক সময় তরমুজের ন্যয্যমূল্য পায়না এবং তরমুজের ক্যাটগুলো বিক্রিও হয়না।’

"তোগুড়" কৃষিক্ষেত্রে দারুণ এক অর্জন। দেশের গুড় শিল্প দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে তরমুজের গুড় দেশের গুড়ের চাহিদা মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

তরমুজের গুড় খুলনা

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1101 seconds.