• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ২৬ অক্টোবর ২০২১ ১৬:২৬:৩৭
  • ২৬ অক্টোবর ২০২১ ১৬:২৬:৩৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এবার ক্ষেপেছেন মাশরাফী!

ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আশা জাগিয়েও হেরে যাওয়ার পর ক্রিকেট ভক্ত ও বোদ্ধারা কাঠগড়ায় তুলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও লিটন দাসকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তাদের পক্ষ নিয়ে কোনো অজুহাত দেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাদের দায় দেখার পাশাপাশি তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর দিকে। বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়কের প্রশ্ন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোচ যদি অধিনায়ককে পরামর্শ না দিয়ে থাকেন, তাহলে তার দায়িত্বে থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে কি?

গত রোববার শারজাহতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারায় শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো উইকেটে বাংলাদেশের তোলা ১৭১ রান ৭ বল আগেই পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা। অথচ এক পর্যায়ে ৭৯ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল তাদের। এরপর মাহমুদউল্লাহর করা বোলিং পরিবর্তন হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। শ্রীলঙ্কাকে জেতাতে মাত্র ৪৯ বলে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন চারিথ আসালাঙ্কা। ভানুকা রাজাপাকসে মাঠ ছাড়ার আগে ৩১ বলে ৫৩ করে যান। এই দুজনেরই ক্যাচ ছাড়েন লিটন।

প্রধান কোচ ডমিঙ্গোর ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেই ক্ষান্ত হননি মাশরাফি। ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, কোচিং প্যানেলে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের আধিপত্য, একাদশ নির্বাচন, টিম ম্যানেজমেন্টের দায় ও দলের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে মতামত দিয়েছেন তিনি। দ্য ডেইলি স্টারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো তার স্ট্যাটাস।

'১. ম্যাচের ৯.৪ ওভার ৭৯ রানে ওদের ৪ উইকেট, ঠিক তখন আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ড্রিংকস ব্রেক (পানি পানের বিরতি)। তার মানে, কোচ মাঠের ভেতর আসবে (দশম ওভারে পানি পানের বিরতিকে "স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউট" হিসেবে ব্যবহার করা যায়)। আমাদের কোচও এসেছিল। তাহলে উনি এসে রিয়াদের সাথে কি কথা বলেছিল? যদি বলে থাকে, তাহলে কি সব দায় রিয়াদের? মানলাম, অন ফিল্ড ক্যাপ্টেন'স কল ইজ ফাইনাল (মাঠে অধিনায়কের সিদ্ধান্তই শেষ কথা)। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ক্রাঞ্চ (গুরুত্বপূর্ণ) মোমেন্টে কি কোচ ডিসকাশন (আলোচনা) করে না? ক্যাপ্টেন তখন বিভিন্ন বিষয়ে চাপে থাকে। তার প্ল্যান (পরিকল্পনা) কী, এটা কি জানতে চেয়েছিল কোচ? আর যদি কথা হয়ে থাকে, তাহলে কি কোচের প্রেস হ্যান্ডেল (সংবাদ সম্মেলন) করা উচিত ছিল না? কারণ রিয়াদের ভুলটা ধরা হয়েছে ঠিক ঐ সময় থেকেই। ১১ নাম্বার ওভার করে মেহেদী, দলের মূল বোলার। ১২ নাম্বার ওভার করে রিয়াদ, সম্ভবত ৫/৬ রান দেয় (মূলত ৫ রান)। ১৩ নাম্বার ওভার করে আফিফ, যে ওভারে ১৫ রান হয়। কিন্তু রিয়াদ যে চিন্তা থেকে আফিফকে এনেছিল, সেটাতেও কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদি সুযোগ হাতছাড়া না হতো, তাহলে আমরা বলতাম দারুণ ক্যাপ্টেন্সি (অধিনায়কত্ব)। ক্যাচ মিসের অজুহাত না দিলেও এটাই সত্য, ক্যাচ মিস এই প্রথম হয়নি। আর লিটন দলের সেরা ফিল্ডারদের একজন। কোনো কোনো সময় ভাগ্যটাও সাথে থাকতে হয়। তাহলে স্রেফ দল সফল না হওয়ার কারণে, এই দুজনকে (মাহমুদউল্লাহ ও লিটন) এতটা তুলোধুনো করা কতটা ঠিক, আমি শিওর না। ঠিক এ কারণেই আমার মনে হয়েছে, যদি কোচ এ বিষয়ে রিয়াদের সাথে কথা না বলে থাকে, তাহলে তো ব্রেকের সময় দলের টিম বয়কেই মাঠে পাঠিয়ে দেওয়া যায় হাই-হ্যালো করতে, কোচের আর প্রয়োজন কী!

২. ম্যাচের আগে উইকেট অ্যাসেস (পর্যবেক্ষণ) শুধু ক্যাপ্টেন করে না, পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট সাথে থাকে। তাহলে টিম করার সময় চিন্তা করেছে, উইকেট স্লো হবে, যার কারণে তাসকিনকে বসিয়ে নাসুমকে খেলানো। কিন্তু নাসুমকে পাওয়ার প্লের পর বোলিং করানো হলো না। কারণ দুজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান উইকেটে। তাহলে আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল, শ্রীলঙ্কার  টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি। তার ওপর মাঠের একপাশে মাত্র ৫৬ গজ! যখন নাসুমকে নেওয়া হয়েছে, তাহলে ব্রেকের সময় কোচ রিয়াদকে কি বলেছে যে, "নাসুম দলের মূল বোলার, ওকে ব্যাক করো (সমর্থন দাও)?" কারণ ঐ নাসুমই ব্রেকটা পরে দিয়েছে (ভানুকা রাজাপাকসেকে আউট করে), ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় শেষ। তাহলে ঐ সময় কোচ কি বসে বসে কোনো প্ল্যান না করে শুধু খেলা দেখেছে? আবারও বলছি, সিদ্ধান্ত রিয়াদ নেবে। কিন্তু ওকে তো হেল্প করতে হবে! কারণ মাঠে ক্যাপ্টেন কখনও কখনও অসহায় হয়ে পড়ে। আর ঠিক তখনই টিম ম্যানেজমেন্টকে টেক অফ করতে (দায়িত্ব নিতে) হয়। অন্যান্য দলে তো তা-ই দেখি।

৩. আরও অনেক বিষয়ে বলা যায়, তবে লিটনের ক্যাচ মিসের কোনো এক্সকিউজ (অজুহাত) দেব না, এমনকি লিটন নিজেও দেবে না। তবে ক্যাচ মিস খেলার একটা অংশই। কিন্তু ফিল্ডিং কোচের কাছে কি এ বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাওয়া হয়? ক্যাচ মিস কি এই প্রথম হলো? ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ম্যানেজমেন্টের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছে, স্রেফ বর্তমান ফিল্ডিং কোচ ছাড়া। তাহলে আমরা বিশ্বকাপে বা তারপর কি সেরা ফিল্ডিং সাইড হয়ে গিয়েছি? এখন টিম ম্যানেজমেন্ট দেখলে মনে হয়, একটা রিহ্যাব সেন্টার (পুনর্বাসন কেন্দ্র), যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার সব চাকরি না পাওয়া কোচগুলো একসাথে আমাদের রিহ্যাব সেন্টারে চাকরি করছে। এদের বাদ দেওয়া আরও বিপদ, কারণ চুক্তির পুরো টাকাটা নিয়ে চলে যাবে। তাহলে দাঁড়াল কি, তারা যতদিন থাকবে আর মন যা চাইবে, তাই করবে। হেড কোচ এক-এক করে নিজ দেশের সবাইকে এনেছে, এরপর যারা অস্থায়ীভাবে আছে, তাদেরও সরাবে আর নিজের মতো করে ম্যানেজমেন্ট সাজাবে। তা-ও মেনে নিলাম কিন্তু রাসেল ম্যানেজমেন্টের জন্য যেভাবে স্টেপ আপ করে (সামনে এগিয়ে যায়), মূল দলের জন্য তাহলে লুকিয়ে কেন? কেন তামিম, মুশফিক, রিয়াদ ভালো থাকে না? এটা ঠিক করা কি তার কাজ না?

তারপরও দায় খেলোয়ারদেরকেই নিতে হয়/হবে। এটাই স্বাভাবিক, কারণ মাঠে তারাই খেলে। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার যে, খেলোয়ারদের সেরকম পরিবেশ করে দিতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে, তাদের বিপদে কেউ পাশে না থাকুক, অন্তত টিম ম্যানেজমেন্ট থাকবে।

আমি আমার ক্যাপ্টেন্সির শেষ প্রেস কনফারেন্সে (সংবাদ সম্মেলনে) বলেছিলাম, এই দলের কোচ যে-ই হোক না কেন, এখন এই দলের রেজাল্ট (ভালো ফল) করার সময়, এক্সপেরিমেন্টের (পরীক্ষা-নিরীক্ষার) না। কোচের চাহিদা মেটানোর আগে আমাদের দেশের স্বার্থ দেখতে হবে। কারণ ক্রিকেট দেশের মানুষের কাছে এখন স্রেফ খেলা নেই, রীতিমতো আবেগে পরিণত হয়েছে। ভালো করুক আমার প্রিয় দল। আল্লাহ সহায় হোন আমাদের।'

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মাশরাফী

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0720 seconds.