• ১২ নভেম্বর ২০২১ ০০:১৮:২১
  • ১২ নভেম্বর ২০২১ ০৭:১৬:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

তেলের দাম বেড়েছে, কথা বলে লাভ কী, মেনে তো নিতেই হবে

ছবি : সংগৃহীত

কাকন রেজা: 

ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের কারণ বলা হয় তামাককে। সিগারেটের প্যাকেটে লেখা থাকে ধূমপান মৃত্যুর কারণ বিষয়ক সাবধানবাণী। কী অদ্ভুত সময়ে বাস করি আমরা সেই সিগারেট প্রস্ততকারী কোম্পানিকে দেয়া হয় ‘রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’। মৃত্যুর বিনিময়ে উন্নয়ন, অদ্ভুত না। 

না, অদ্ভুত বলে মূলত এখন কিছু আর নেই। তেলের তেলেসমাতি বিষয়ে দেখেন না কেন। দৈনিক সমকাল রিপোর্ট করেছে, ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে কলকাতার বাস ভাড়া কম। রিপোর্টে নানা হিসেব দেখিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রামের মানুষদের কলকাতার চেয়ে তিনগুন বেশি বাস ভাড়া গুনতে হচ্ছে। তাদের এই চেষ্টায় লাভ কি কিছু হবে বা হয়েছে? হবে না, বড়জোর একটু কাতুকাতু দিতে পারে কাউকে কাউকে। ওই যে ভাত কম খাওয়ার উপদেশের মতন আরেকটা উপদেশ আসবে। হয়তো কেউ বলে বসবেন, ‘বাসে চড়ার দরকার কী, তারচেয়ে হাঁটুন। হাঁটলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।’ কথা মিথ্যা না। হাঁটলে এবং ভাত কম খেলে স্বাস্থ্য সত্যিই ভালো থাকে। লজিক্যাল কথা। কেউ কেউ হে-হে বলে সেই লজিক মেনেও নেবেন। বলবেন, ‘কম খাই নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ’। 

আরেকজন লিখলেন ‘প্রথম আলো’তে। সেখানে তিনি দেখানোর চেষ্টা করলেন, তেলের দাম বিশ্বে যখন ব্যারেল প্রতি কমে তখন আমাদের দেশে তার কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না। অর্থাৎ দাম কমে না। কিন্তু যখন বাড়ে তখন ঠিক প্রতিক্রিয়া হয়, বেড়ে যায়। তিনিও নানা তথ্য-উপাত্ত হাজির করেছেন। গুগলের উপর অনেক অত্যাচার গেছে সে লেখাতেও বোঝা যায়। কিন্তু আখেরে এসব লেখায় লাভ কী? আছে কিছু, কেউ কি শুনছে, শুনেছে? এই যে তেলের দাম বিশ্বে যখন সর্বনিম্ন কিন্তু আমাদের যা তাই। তখনও অনেকে বলেছেন, আমরাও বলেছি, কেউ শোনেনি। আমরাও দু’দিন মিনমিন করে মেনে নিয়েছি। অভ্যস্ত হয়ে গেছি সেই দামে। এবারও কেউ শুনবে না, আমরাও মেনে নিব। চালের কেজি সত্তর টাকা মেনে নিয়েছি। ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। জ্বালানি তেলেও অভ্যস্ত হয়ে যাবো। মেনে নেব হাঁটার বুদ্ধি। অল্প রাস্তায় হেঁটেই যাবো। দূষিত বাতাসের শহরে পদব্রজে পেরুবো ধূলিময় পথ। 

এই যে লেখা, এসবও মূলত অর্থহীন। কেউ শুনবে না। শুনতে হলে শোনানোর ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে হয়। নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হয়। আবার পাওলো ফ্রেইরি’র কথা টেনে আনি, মুক্তির প্রথম শর্ত হলো নিজের চিন্তাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করা। দাস মানসিকতা নিয়ে আর যাই হোক দাবি আদায় করা যায় না। চিন্তাকে স্বাধীন করতে হবে। কেবল বোকারাই অপেক্ষায় থাকে পরিত্রাতার, বুদ্ধিমানরা পরিত্রাতা হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। 

শেষে সামান্য হিসেব দিই। এক দশক আগে ডিজেলের দাম ছিলো ৪৬ টাকা তখনও ব্যারেল প্রতি ডিজেলের দাম এমনি ছিলো। বরং কিছুটা বেশিই ছিলো। ২০১৩ সালে ডিজেলের আন্তর্জাতিক বাজার ছিলো ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার, ডিজেলের দাম তখন ছিলো ৬৮ টাকা। অথচ এখন ডিজেল ব্যারেল প্রতি ৮০ থেকে ৮৩ ডলারের মধ্যে। আর আমাদের এখানের দাম প্রতি লিটার ৮০ টাকা। হিসেব কী দিয়ে মেলাবেন। কোন অঙ্কে। সব অঙ্ক গুলিয়ে যাবে। বাজারে যান চাল-ডাল-তেল-সাবান নিয়ে হিসেব করতে বসুন, মেলান গড় আয়ের অঙ্ক, দেখবেন মাথার অবস্থা কী দাঁড়ায়। আড়াই হাজার ডলারের হিসেব মেলাতে পারবেন শুধু আপনি যদি ‘শুভঙ্কর’ হয়ে উঠতে পারেন কিংবা ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’র অঙ্কটা বোঝেন তবে। তারচেয়ে চলুন জপে যাই, ‘জানার কোনো শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই।’ কী হবে এত জেনে, গুগল ঘেটে হিসেবে করে, সেই তো সব মেনেই নিতে হবে। না হলে, ‘সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি’, অবস্থা দাঁড়াবে সে রকম। 
কাকন রেজা : লেখক ও সাংবাদিক। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

তেলের দাম

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0702 seconds.