• ২১ নভেম্বর ২০২১ ১৬:২৬:৩২
  • ২১ নভেম্বর ২০২১ ১৬:২৬:৩২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কার পাপে কে যে পায় শাস্তি, কার ছায়ায় কে করে মাস্তি

ছবি : কাকন রেজা

কাকন রেজা :

ডেইলি স্টার এর একটি খবর। যার মূল কথা হলো, সিলেটের হবিগঞ্জের ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের বাড়ির সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন একটা সাইনবোর্ডের ছবি দিয়েছে ডেইলি স্টার, যাতে লেখা, ‘মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি’। 

কদিন আগে দেখলাম ভারত সীমান্তের ওপারে ইয়াবার কারখানা বসেছে। সেখান থেকে ইয়াবা চালান হয়ে আসছে বাংলাদেশে। এর আগে সীমান্তে ফেন্সিডিলের কারখানা বসানো হয়েছিলো বাংলাদেশের বিপরীতে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে। সে খবরও করেছিলো গণমাধ্যম এবং তখন গণমাধ্যম ‘গন’র কথা বলতো। এখন অতটা উচ্চবাচ্য তাদের নেই। করপোরেট ব্যবস্থা তাদের হাত অনেকটাই বেঁধে দিয়েছে। আর করপোরেট ব্যবস্থা কতটা পারে রেইনট্রি’র ধর্ষণ মামলাই তার প্রমান। 

চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জারি বিজিবি’র কার্যক্রম ও এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার প্রয়াস খুবই ভালো। আইন প্রয়োগের সাথে, মানুষকে শোধরানোর কাজটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু মুশকিল হলো, আইনের কাজ আইনকে ‘বাইপাস’ করে করতে যাওয়াটা। তখনই ঝামেলাটা বাঁধে।  

যাকগে, কথা সেটা না। কথা হলো, ধর্ম বলে যার পাপ শাস্তি তারই। আইনও তাই বলে, পিতার পাপের শাস্তির পুত্র পাবে না, পুত্রের পাপের শাস্তি পিতা। এই যে মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি বলে যেসব বাড়িকে চিহ্নিত করা হলো, সেসব বাড়িতে কি মাদক ব্যবসায়ী একাই বাস করেন? না সেখানে তাদের শিশু সন্তান, স্ত্রী বা বৃদ্ধ পিতা-মাতা আছেন? যদি থাকেন তবে তাদের অসম্মান করার অধিকার কে কাকে দিলো? কোন আইনে দেয়া হলো, বড় জানতে ইচ্ছে করে। ওই গানের মতন অবস্থা, ‘তুমি কি আজ তেমনি আছো বড় জানতে ইচ্ছে করে’। আইনটা তেমনি আছে কিনা তা জানতে চাওয়ার ইচ্ছে আমাদের করতেই পারে, কি বলেন? 

পিতাকে বাগে আনতে পুত্রকে খুন। ভাইকে বাগে আনতে বোনকে লাঞ্ছিত করা। মেয়েকে ভোগ করতে বাপকে হেনস্তা। এসবই জাহেলিয়াতের লক্ষণ। আমাদের যেন সেই জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগকে বয়ে নিয়ে যেতে না হয়। ইতোমধ্যেই এমন অভিযোগ জমা হচ্ছে। আরশে আজিমে জমছে মানুষের অশ্রুজল। আমরা চাই না এই জল ধ্বংসের প্লাবন হোক। 

দুই
কাগজে চোখ বুলালেই কদিন পরপর চোখে পড়ছে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর। চোখে পড়ছে পুত্রকে হত্যা করে বাপের আত্মহত্যা। মেয়েকে মেরে মার গলায় দড়ি। এ সবই একটি বিপর্যস্ত সময়ের কথা বলে। 

দৈনিক মানবজমিনে দেখলাম, দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মরদেহ পাওয়া গেছে ছাত্রী নিবাসে। ফ্যানের সাথে ঝুলছিলো সে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেছে। না, স্রেফ দুটো ঘটনা হলে, প্রেমের হতাশা বলে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’র লেবেল লাগিয়ে দেয়া যেতো। কিন্তু প্রায়শই এমনটা কাগজের খবর হয়ে উঠছে। প্রশ্ন হলো, কেন উঠছে? উত্তর একটাই, হতাশা থেকে। না প্রেমের হতাশা নয়; বেঁচে থাকার, বেড়ে উঠার স্বপ্নভঙ্গের হতাশা। 

একজন তরুণ মা-বাবাকে চিরকুট লিখলেন, ‘আমি ব্যর্থ, তোমরা আমাকে ক্ষমা করো’। কতটা হতাশ হলে একজন তরুণ-যুবা এমনটা চিরকুটে লিখে নিজেকে ‘কুইট’ করতে পারে, ভাবতে পারেন! না, ‘এটা ভেবে দেখার সময় এসেছে’, এমন বলাটা এখন ভুল। বলা উচিত, সময় চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই অজান্তে বড়লোক হয়ে যাওয়ার মতন অজান্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখনি এর রাশ টেনে ধরতে হবে। তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। তাদের সামনে ভবিষ্যতের ছবিটাকে পরিষ্কার করতে হবে। যেনো তারা দেখতে পায় তাদের মঞ্জিলে মাকসুদ। 


বিবিসি’র খবরে একজন গৃহিনীর কথা শুনলাম। বছরে তাদের কয়দিন গরুর গোশত জোটে খাদ্য তালিকায় এবং আর কী জোটে জানালেন। বাজারে গেলে বোঝা যায় কেন ‘কাজির গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই’ এই প্রবাদটা চালু হয়েছিলো। ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’র ভয়ংকর ফাঁকটাতে পড়ে মধ্যবিত্ত জীবন এখন পুরো বরবাদের কোটায়। মধ্যবিত্তদের মূল অংশ ক্রমেই নিম্নবিত্ত রূপ পরিগ্রহ করছে। আর মধ্যবিত্তদের খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ, যাদের স্রেফ ফটকাবাজ বলা যায়, তারা পরিণত হচ্ছে উচ্চবিত্ততে। ওই যে, এই ফটকাবাজ অংশটির মধ্যে আছে সেই পিওন, যার দশটা বাড়ি রয়েছে। সেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাড়ি চালক, যার বাড়ির কাঠের দরোজার দাম আড়াই লাখ টাকা। সেই দুই ‘নেতা’ ভাই, যারা দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই ফটকাবাজ অংশটিই প্রভাবের অসম্ভব ছায়াতলে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হচ্ছে। আর অন্য মধ্যবিত্তরা শুটকি মাছ। সুতরাং এখন সম্ভবত বলা যায়, ‘কার পাপে কে যে পায় শাস্তি, কার ছায়ায় কে করে মাস্তি’ এমন কথা বা তোলা যায় এমন প্রশ্ন।

কাকন রেজা : লেখক ও সাংবাদিক। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মাস্তি

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0879 seconds.