• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১৫:৪১:৫০
  • ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১৫:৪১:৫০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দিনে টিকটকার, রাতে ‘ভাইব্বা ল কিং’ গ্যাংয়ের সদস্য

ছবি : সংগৃহীত

তাদের কেউ অটোরিকশা চালক, কেউ দোকানের কর্মচারী, কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ অফিসের পিয়ন। তবে সবাই ‘ভাইব্বা ল কিং’ (Vaibba Lo King) নামে একটি কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত। তারা দিনে বিভিন্ন অশ্লীল ভঙ্গিতে বানাতো টিকটক ভিডিও। আর রাত হলেই বেরিয়ে পড়তো ছিনতাইয়ে। গত রাতে (সোমবার) এক দম্পতিকে ছিনতাইয়ের পর র‌্যাব এই চক্রটির নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মঈন বলেন, এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ১৫/২০ জন। তারা দিনে বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকার পাশাপাশি টিকটক ভিডিও বানাতো। যেখানে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে চিত্র ধারণ করা হতো। আর রাত হলেই ছিনতাইয়ে নেমে পড়তো। গত ২/৩ বছর ধরে রাজধানী মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান, ঢাকা উদ্যান, বসিলা ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সশস্ত্র মহড়া, ভাড়ায় শোডাউন করে আসছিল। গতরাতে এক দম্পত্তির অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার কিশোররা হলো, মো. রুমান, গ্যাং লিডার শরীফ ওরফে মোহন, মো. উদয়, মো. শাকিল, মো. নয়ন ও মো. জাহিদ। বাকি তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে তাদের নাম প্রকাশ করেনি র‌্যাব।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি লোহার ছুরি, একটি স্টিলের হাতলযুক্ত কুঠার, গাঁজা, দুটি স্টিলের তৈরি ছুরি, একটি স্টিলের হোল্ডিং চাকু, একটি প্লাস্টিকের পিস্তল সদৃশ্য, ইয়াবা ও ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজধানীর ঢাকার বেশ কিছু এলাকাকে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও বসিলা ও রায়ের বাজার এলাকা অন্যতম। এসব এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য পায় র‌্যাব।

'ভাইব্বা ল কিং' এ কারা?

সংঘবদ্ধ গ্রুপটিতে সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন। দলের লিডার মোহনের নেতৃত্বে ২/৩ বছর আগে গ্যাংটি গঠন করা হয়। এরা মোহন সিন্ডিকেট নামেও পরিচিত। এই গ্রুপের সদস্যরা আগে ‘লেবেল হাই গ্যাং’এ অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্তর্কোন্দলে এটি ৫/৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। গ্রুপটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টিকটকে সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের গ্যাংসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্ধত্যপূর্ণ প্রচারণা পাওয়া যায়, যেমন- ‘মোহাম্মপুরের পোলাপান যা করি তা টোকেন ছাড়াই ওপেন’, ‘মোহাম্মদপুরের পোলা বাজান, আমি একাই একশ, গেঞ্জাম করার আগে Vaibba Loiyo’।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, ২/৩ বছর ধরে কিশোর গ্যাং চক্রটি মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চুরি-ডাকাতি আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তারা ভাড়ায় বিভিন্ন স্থানে হুমকি ও মারপিটে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার কিশোররা জানায়, ‘ভাইব্বা ল কিং (Vaibba Lo King)’ মানে তাদের সদস্যদের যেই অবস্থায় থাকুক না কেন তারা মোহাম্মদপুরের কিং। অপরাধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের কিং হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।

গ্রেপ্তার কিশোররা লেগুনা, অটোচালানো, দোকানের কর্মচারী, নির্মাণকর্মী ও অফিসের বার্তাবাহক পেশার পাশাপাশি মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে গ্রাহকদের টার্গেট করতো।

পৃষ্ঠপোষকদের সন্ধান মিলেছে, শিগরিরি গ্রেপ্তার

র‌্যাব জানায়, ‘ভাইব্বা ল কিং’ চক্রটিকে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পেছন থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা হয়েছে। চক্রে জড়িত পলাতকসহ পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, র‌্যাবই প্রথম গ্যাং কালচারের নামে গজে উঠা কিশোর গ্যাং-বিরোধী অভিযান শুরু করে। এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং-য়ের তালিকা করে ইতিপূর্বে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করেছে। অনেককে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ভাইব্বা ল কিং

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0724 seconds.