• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:৫৮:৩৭
  • ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:৫৮:৩৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পোশাক কারখানায় শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার ভেতরে নারী শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে কারখানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার সাকতলা গ্রামের ইয়াকুব আলী পাটোয়ারীর ছেলে। থাকতেন আশুলিয়ার বেরন ছয়তলা এলাকার নুরুজ্জামানের ভাড়া বাড়িতে। 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনের শিকার ওই শ্রমিক বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণের মামলাটি করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর আশুলিয়ার উত্তর বেরন এলাকার ইয়াগি বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেড নামের কারখানায় হেলপার হিসেবে চাকরি নেন ওই নারী। ২১ ডিসেম্বর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার জন্য ওই কারখানায় কর্মরত এক নারী তার নমুনা নেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে খাবারের বিরতিতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে খাবার খেতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় কারখানার এক নারী আবার রক্ত লাগবে জানিয়ে তাকে নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। কক্ষটিতে আগে থেকেই অ্যাডমিন অফিসার জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজন পুরুষ ছিল। রক্ত নেওয়ার নাম করে সেখানে ওই শ্রমিকের শরীরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে অজ্ঞান করার ওষুধ পুশ করে ওই নারী। অচেতন হলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যান জাহাঙ্গীরসহ অন্যরা।

দুই ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে ওই শ্রমিক বাসায় চলে যান এবং তার বাবা-মাকে বিষয়টি খুলে বলেন। তিনি তার বাবা-মাকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানায় গেলে তাদের কারখানায় ঢুকতে না দিয়ে অপদস্থ করেন এবং তাড়িয়ে দেন দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী ও জাহাঙ্গীর।

মঙ্গলবার সকালে অন্যান্য শ্রমিক কারখানায় গেলে তাদের মধ্যে বিষয়টি চাউর হয়ে যায়। এ সময় তারা কাজে যোগ না দিয়ে ধর্ষণের বিচার এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরসহ অন্যদের গ্রেপ্তার দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে গার্মেন্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বাবরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক জামাল সিকদার জানান, মঙ্গলবার ওই শ্রমিকের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0800 seconds.