• ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১১:০৪:১৬
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১১:০৪:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা

ছবি : সংগৃহীত

কাকন রেজা :

একবার বলদামি কইরা, রশিয়ান মাইয়াগো রুটির লাইগা শরীর বেচতে হইছে। এখনো অবস্থার যে আকাশ-পাতাল উন্নয়ন ঘটছে হ্যাইডাও কওন যায় না। ইউক্রেনে হামলার লগেই রশিয়ার শেয়ার বাজার ধরা। রুবলের দাম নাইমা গেছে। সারাবিশ্বে অর্থনীতির কতভাগের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে, হ্যাইডা প্রথম চিন্তা করন উচিত।

এমনকি চীনও যদি ঠেকা লাগায় কাম হইবো না। অস্ত্রই সব না, হইলে সোভিয়েত ভাঙ্গতো না। মূল কথা একটাই রাশিয়ার ট্যাক খালি। এই দিক দিয়া চিন চালাক, নিজে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায় না, জড়ায়া দেয়। 

কিছু বাঙাল আর ঘটি আতেল নানা যুক্তি দেখায়, এইসব আইলসা আতেলরা জাদুবাস্তবতায় বাস করে। এক কলকাতার রামআতেলরে দেখলাম ফেসবুকে কইতাছে, ‘এরপর রাশিয়া ধরবো পোল্যান্ডরে তারপর আরো আরো- এরপর আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন কায়েম হইবো, পুঁজিবাদরে বাঁশ দিবো।’ হায়রে স্বপ্ন। পাগলের সুখ বলে মনে মনে। আমাগো মোটা আর চিকন বাংলা কওয়া এমন পাগলগো সব সুখওই তাই। অথবা ‘গাঞ্জার কিস্তি পাহাড় বাইয়া যায়’, এইডাও কওন যায়। দুইটাই এক জিনিস, এইসব আইলসা আর গাঞ্জা। সম্পূরক হইলো কিস্তি।  

ইউরোপ ঘোষণা দিছে রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করবো। অ্যামেরিকার স্যাংশন তো আছেই। চিনরেও রাশিয়া সরাসরি সাথে পাইবো বইলা মনে হয় না। চিন জানে অখন যুদ্ধের মতন ঝামেলায় জড়ানোর সময় তার আসে নাই। নিজের অর্থনীতির বারোটা বাজানোর চিন্তা চিনের নাই। উল্টা আছে আস্তে-ধীরে অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওনের চেষ্টা। বরং এই যুদ্ধে চিনের দুই দিক থিকা লাভ। আতেলরা হ্যাই লাভ ভাইবা দেখতে পারে। অবশ্য আইলসাগো ওইটুক ভাবনের খ্যামতাও নাই। ‘কত রবি জ্বলে কে বা আঁখি মেলে’, অবস্থা আর কী। 

এই যুদ্ধ হয়তো কয়দিনের মইধ্যেই থাইমা যাইবো। পুতিন হয়তো স্বাধীন রাষ্ট্রের উছিলায় কিছু ভূখণ্ড কব্জা কইরা লইবো। কিন্তু আখেরে এর দায় শোধ করতে হইবো রাশিয়ার মানুষের। যেমন এর আগে করতে হইছে। একটা রুটির লাইগা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে খাড়ায়া থাকন লাগছে। মাইয়াগো শরীর বেচতে হইছে। 

শেষের কথা হইলো গিয়া আমাগো মতন ট্যাঁকখালির রাজাগো লইয়া। রাশিয়ার লগে এইখানে আমাগো মিল। ট্যাঁক খালি থাকলেও চোপাটা খালি নাই। হারাদিন আমাগো ট্যাঁকখালির রাজা আর আইলসা আতেল গো কাম হইলো অন্য রাজ্যের রাজা-উচির মারা। আর নিজেগো সেরা কওয়া। এগো অবস্থা যুদ্ধে হইবো রাশিয়ানগো কাছাকাছি ধরণের কাহিল। ফাঁপড়বাজি দিয়া অন্য কিছু চললেও পেট চলে না। তেলের দাম বাড়বো সারা বিশ্বে। আমাগোর এইখানেও বাড়ায়া দিব, সুযোগ পাইলে ছাড়ে ক্যাঠায়। জ্বালানির দাম বাড়লে সবকিছুই জ্বইলা উঠবো। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বো সাথে বাড়বো টিসিবি’র ট্রাকের পিছনে দৌড়াইনা মানুষের ভিড়। 

আমাগো লাইগা ডরের আরো কারণ আছে। তার আগে ‘যম যে গল্লি চিইন্না গেলো’ হ্যাই গপ্পোটা মনে কইরা লন। ছোট দেশের উপরে বড়গো আগ্রাসন যদি টিক্কা যায়, তয় দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশুগুলানের কপালেও খারাবি আছে। রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসনের মাইনে বোঝেন তো, যমে গল্লি চিইন্না যাওন। 

আরো একটা কথা কই। কেউ কেউ কন, ইউক্রেন দখল কইরা নিলে ন্যাটোর ওই হইবো, ইউরোপের হ্যাই হইবো, তাগো আবার মনে করায়া দেই, পাগলের সুখ মনে মনে। এই সুযোগে ইউরোপ রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করনের সুযোগ পাইলো, অ্যামেরিকা স্যাংশনের। হঠাৎ কইরাই এমুন সুযোগ পাওন যায় না। কয়দিন পর পুতিন টের পাইবো, মাসে আর বছরে কয়দিন। মাইনকার চিপা বোঝেন তো? 

কাকন রেজা : লেখক ও সাংবাদিক। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

যুদ্ধ যুদ্ধ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.3664 seconds.