• ১৪ মার্চ ২০২২ ২১:৩২:৩৮
  • ১৪ মার্চ ২০২২ ২১:৩২:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বইমেলা ও মেলার বায়স্কোপ

ছবি : সংগৃহীত

কাকন রেজা :

এক কবি হ্যার টাইমলাইনে নিজের বই নিয়া লেখলেন, বের হয়েছে অমুকের সাড়া জাগানো কাব্যগ্রন্থ...। বুঝলাম না, বাইর হওনের লগেলগেই ক্যামতে সাড়া জাগাইলো। নাকি বাইর হওনের আগে থিকাই সাড়াটা জাগানো আছিলো? 

বইমেলা বিষয়টা আইজকাল সার্কাস হইয়া গ্যাছে। হ্যাই সার্কাসের বায়স্কোপ দেখন যায় ফেসবুকে। এর হাতে বই, ওর হাতে বই, টেবিলের উপর তো আছেই চিয়ারও বাদ যায় নাই। একজনরে দেখলাম ফুলের টবে গাছের চিপায় বই রাইখা ছবি তুইলা পোস্টাইছে। নানা ক্যারিকেচাররে ভাই। তয় সবথিকা মজা পাইছি কয়েদি স্টাইলের ফটোতে। ওই যে বুকের কাছে নম্বরওয়ালা শ্লেট ধইরা কয়েদিগো যিমুন ফটো তোলে, তেমুনি বুকের কাছে বই ধইরা ফটো তুলন আর কী। 

আরো মজা পাইছি মেলায় ঘুইরা ঘুইরা কয়েকজনের লাইভ নামের ক্যারিকেচার লইয়া। মেলার মাঠে বইয়া বই লইয়া আলাপ, একেবারে ইনস্ট্যান্ট কফি। চা এর বদলে মেলার মাঠ দখল করছে এই কফি। বাঙাল হীরা থুইয়া আঁচলে কাচ বানছে। একজনরে কইলাম বই আলোচনা কোনো তাৎক্ষণিক বিষয় না, বই গান না, পাঁচ মিনিট শুইনা কইয়া দিলাম সুরটা ভালো, লগে কথাও। বই লইয়া আর যাইহোক ইনস্ট্যান্ট আলাপ করণ যায় না। আর য্যায় আলোচনা করবো, হ্যারও বই পড়ন লাগবো। তেলানো হাসি, লেখকরে ফুলায়া বেলুন বানানোরে আর যাই কউক আলোচনা কয় না। প্রকাশকরা নতুন লেখকগো যে কোডনামে ডাকে হ্যাইডা হইলো গিয়া ‘মুরগি’। এই লাইভের ফেরিওয়ালাগোও ধান্ধা হইলো মুরগি ধরন। তয় সবাই যে মুরগি তা না, তয় বেশির ভাগই মুরগি। তারা বয়সে পুরান হইছে ঠিকই তয় বুদ্ধিতে অহনও নবীন, প্রকাশকগো নয়া মুরগির লাহান। 

মেলায় কবিতার বইয়ের শেষ নাই। কবিগো কথা কইতে গেলে ডর লাগে। ন্যাকা সুরে ঠোঁট ব্যাঁকাইয়া আবার কহন অভিমান কইরা বহে। না, হগ্গলে না, কেউ কেউ। একজনরে দেখলাম, মোড়ক উন্মোচনের করা ভিডিওতে, ফেসবুকে ছাড়ছে। কড়া ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি, চোঙ্গা পায়জামা, সাথে ‘ইয়ে’ কোট না কটি বুঝলাম না। দুইয়ের কম্বিনেশন মনে হইলো। চুলে জেল দিছে, ঠোঁটে বোধহয় হাল্কা লিপিস্টিকও। নিজের ‘কবিতা’ পড়লেন। কবিতায় ববিতার সাথে সবিতার মিল রাখনটাই তার কাছে জরুরি মনে হইলো, তাতে ববিতার সাথে সবিতা যাউক আর না যাউক ‘কুছ পরোয়া নেহি’।  

প্রকাশকগো ভাষায় হ্যায় হইলো নয়া মুরগি। তার কথা নয় বাদ দিলাম। কিন্তু বাজারে যে পুরান মুরগিগুলান আছে, তাগো অবস্থারও তো উন্নতি দেখি না। হ্যাই আগের ফর্ম আর ফার্মেই আছেন তারা। উল্টাপাল্টা লেইখা কখনো পরাবস্তবতার নামে, কখনো উত্তর আধুনিক অভিধায় চালায়া দিতাছেন। ধান্ধা পুরানা। ওই যে, ববিতা আর সবিতার মতন, যাউক আর না যাউক, কুছ পরোয়া নেহি, চাক্কা লাগাইলে চলে। 

অহন মেলায় বিক্রির কথায় আহি। এক গণমাধ্যমে দেখলাম বিক্রি নাকি খুব ভালো। জানি না, যে ভাইজান খবর লেখছেন হ্যায় মেলায় গ্যাছেন কিনা। নাকি কাজির গরুর হিসাব দিছেন। নয় জিডিপির গড় হিসাবের কিচ্ছা। করোনা পরবর্তী মেলায় যে পরিমান বই বিক্রির হওনের কথা সেই পরিমানতো দূরের কথা, হ্যার ধারেকাছেও নাই বিক্রির হিসাব। আর মানসম্পন্ন বই বিক্রির কথা কইলে কান্দন আহে। মেলায় বেশির ভাগ বিক্রি হইছে ‘পুশিং সেল’ যারে কয় হ্যাইডা। জোর কইরা স্টলে ডাইকা নিয়া হাতে হারিকেনের বদলে বই ধরায়া দেওন। আর পকেট থিকা টাকা বাইর করনের চেষ্টা হইলো বাঁশ দেওনের বিকল্প। 

দেখলাম এক লেখকরে, রীতিমত একজনরে চাইপা ধরছেন। ওই বেচারা যাইবোই না, হ্যাও ছাড়বো না, লইয়া যাইবোই স্টলে। শেষ পর্যন্ত লেখকেরই জয় হইলো। রশি টানাটানিতে হারলো পাঠক। ক্যাডায় কয়, লেখকরা নরম মানুষ গায়ে জোর নাই। আইজকাল বেশিরভাগেরই মগজের থিকা পেশীর জোর বেশি, সাথে চাপার জোরও। বইমেলায় আইলে লেখকের হ্যাই জোর টের পাইবেন। আর সাক্ষি থাকবো আপনের মানিব্যাগ। খুশিতে ঘুরতে আইবেন আর লেখকগো ঠ্যালায় আপনার মানিব্যাগ পাতলা হইতে থাকবো। মনে লইবো দুঃখ বুকে একখান জোরে চিক্কুর দিতে। পারবেন না, দিয়াও লাভ নাই। চারিদিকের প্রচার প্রচারণার হাউকাউয়ে আপনার বেদনার চিক্কুর তলায়া যাইবো। যিমুন সানি লিওনের তলে তলাইয়া গ্যাছে আমাগো টিসিবি’র ট্রাকের পেছনের লাইন, আমাগো না পাওনের কষ্টের হাহাকার। 
কাকন রেজা : লেখক ও সাংবাদিক। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বইমেলা

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.3607 seconds.