• ১৭ মার্চ ২০২২ ১৬:৪০:৫৮
  • ১৭ মার্চ ২০২২ ১৬:৪০:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভাওয়াইয়া শিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজার ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ছবি : সংগৃহীত

ওকি গাড়িয়াল ভাই- হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে। এই বন্দরেই বেড়ে উঠা প্রখ্যাত ভাওয়াইয়া শিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ মিরপুর পল্লবীতে নিজ কার্যালয় কলতান সাংস্কৃতিক একডেমীতে ঘুম থেকে চির ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমান ভাওয়াইর এই রাজকুমার। (৮জুলাই ১৯৭৪- ১৭মার্চ ২০১৯)। 

সফিউল আলম রাজা ভাওয়াইয়ার অন্যতম প্রখ্যাত এক শিল্পীর নাম। শ্রোতা দর্শকের কাছে ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা, ভাওয়াইয়ার রাজকুমার, গাড়িয়াল ভাই ও ভাওয়াইয়া রাজা নামে পরিচিত। তার জনপ্রিয়তা আর গায়কী প্রতিভায় ভাওয়াইয়া সংগীত অঙ্গনে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। 

সঙ্গীতজ্ঞদের মতে, টেলিভিশনে সব চেয়ে বেশি ভাওয়াইয়া গান করেছেন সফিউল আলম রাজা। ভাওয়াইয়া গানকে তিনিই টেলিভিশনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভাওয়াইয়ার প্রচার ও প্রসারে নতুন প্রজন্মকে শেকড় মুখী করতে দেশ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বের সকল বাংলা ভাষা ভাষীর কাছে এই গানকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।   

গীতিকার, সুরকার, কন্ঠ শিল্পী হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করেছেন সফিউল আলম রাজা। তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার ২৪ বছরের। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অনেকগুলো সম্মাননা পুরুস্কার। সাংবাদিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পুরুস্কার, ট্রান্সফারেন্সি ঈন্টারন্যাশনাল পুরুস্কার, ডেমো্ক্রিসি ওয়াচ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড সহ অনেক পুরুস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। 

সফিউল আলম রাজা বাংলাদেশ বেতারের ‘বিশেষ’ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘প্রথম’ শ্রেণীর শিল্পী ছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশের সব ক’টি চ্যানেলে  সংগীত পরিবেশন করেছেন। সংগীত পরিবেশন করেছেন বিদেশী বিভিন্ন মঞ্চ এবং মিডিয়াওতে (এর মধ্যে কলকাতার তারা মিউজিক এবং কলকাতা টিভি উল্লেখ যোগ্য)। লোক সংগীতের অন্যতম ধারা ভাওয়াইয়া গানের প্রচার এবং প্রসারের লক্ষ্যে শিল্পী রাজা ২০০৮ সালে রাজধানীতে ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ২০১১ সালে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’। যে স্কুলে ভাওয়াইয়ার ওপর এক বছরের ফ্রি সার্টিফিকেট কোর্স করানো হতো। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারী সংস্কৃতির সকল শাখা নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে ‘কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন এই শিল্পী। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরুস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘উত্তরের সুর’- এ চারটি মৌলিক ভাওয়াইয়া গান গেয়েছেন।

শিল্পী জীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ সফিউল আলম রাজা বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল বিকাশ প্রতিভা অন্বেষণে লোকসঙ্গীত বিভাগে (ভাওয়াইয়া নিয়ে) ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজধানীতে এ পর্যন্ত রাজা’র ৬টি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্দ্যোগে ২টি, আড়িয়াল সেন্টারের উদ্দ্যোগে ১টি, আলিয়স ফ্রসেজের উদ্দ্যোগে ১টি, গুরুর চিকিৎসা সহায়তায় ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল- এর আয়োজনে ১টি এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে ১টি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে রাজার একটি মিক্সড অ্যাালবাম এবং ভায়োলিন মিডিয়া থেকে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়েছে একক ভাওয়াইয়া অ্যাালবাম ‘কবর দেখিয়া যান’। সংগীত নিয়ে সফর করেছেন অষ্ট্রেলিয়া, ভারত সহ বিভিন্ন দেশে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে ‘বিচারক’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   
 
তার গবেষণা, সাধনা ও শিল্প কর্মের মুল উদ্দ্যেশই ছিল নতুন প্রজন্মকে শেকড় মুখী করা। চিলমারীর বন্দরে ঠিক শান্তি নিকেতনের আদলে একটি ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখতেন সফিউল আলম রাজা। যেখানে নিয়মিত ভাওয়াইয়ার চর্চা ও গবেষনা হবে। থাকবে ভাওয়াইয়া মিউজিয়াম।

রাজাদের মৃত্যু হয়না। তিনি বেচে থাকবেন তার অজস্র শ্রোতাভক্তদের হৃদয়ে, শিল্পকর্ম, গান এবং গল্পে। এই গুনী শিল্পীর মৃত্যু ও জন্ম তারিখ ঘিরেও থাকেনা ভাওয়াইয়া অঙ্গনে তেমন কোন আয়োজন। শক্তিধর ভাওয়াইয়ার এই রাজকুমার সফিউল আলম রাজাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং ভাওয়াইয়ার প্রচার ও প্রসারে ভাওয়াইয়ার বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান পালনে সরকারী উদ্দ্যোগের দাবি উঠেছে আজ সকল ভাওয়াইয়া প্রেমীদের।
লেখকঃ সুষ্ময় মুকুট

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.2803 seconds.