• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৫ মে ২০২২ ১৬:০৫:০২
  • ১৫ মে ২০২২ ১৬:০৫:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ টাকা দরে ৪৩ কম্পিউটার বিক্রি

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই অর্ধশত পুরনো কম্পিউটারের মনিটর ও সিপিইউ, এসি, প্রিন্টার, টাইপিং ও ফটোকপি মেশিন, লোহার পাইপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে স্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিপু সুলতান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন জিনিসের স্টোর রুম থেকে গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাস বন্ধের সময়) এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে অভিযুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের চার কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ। 

শনিবার (১৪ মে) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে টিপু সুলতান ও তার তিন সহযোগী বিশ^বিদ্যালয়ের পুরনো জিসিপত্র বিক্রয় করেন। বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে আসলে টিপু সুলতান ও তার তিন সহযোগী-উকিল উদ্দিন, নাজমুল হোসাইন সাবু ও বকুল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বিনা অনুমতিতে জিনিসপত্র বিক্রয়ের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে অবস্থিত পুরাতন জিনিসের স্টোর রুম থেকে গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল ৫০ টাকা দরে ৪৩টি কম্পিউটারের পুরনো মনিটর বিক্রি করেছে এস্টেট দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিপু সুলতান ও তার সহযোগীরা। এছাড়াও ৪১ টাকা কেজি দরে ৪৩টি সিপিইউ, একটি পুরাতন টাইপিং মেশিন, প্রিন্টার, তিনটি ফটোকপি মেশিন এবং থামকো দামে একটি পুরনো এসি, ২৩ কেজি ওজনের ৬টি লোহার পাইপ, প্রায় সাড়ে চারশ কেজি পুরনো কাগজ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। জিনিসগুলো প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় দপ্তরটির সহকারী রেজিস্ট্রার বকুল হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন সাবু, কর্মকর্তা সমিতির সদস্য উকিল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। 

এই সরঞ্জাম গুলো প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলাম কমিটির এস্টেট দপ্তরের প্রতিনিধি উপ-রেজিস্ট্রার গোলাম মাহফুজ মঞ্জু। তিনি বলেন, স্টোর রুম থেকে যে কোন সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথমে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করে ভিসির অনুমতি নিতে হয়। পরে নিলাম ও বিক্রয় কমিটির মাধ্যমে এগুলো বিক্রি হয়। কিন্তু এই জিনিস গুলো বিক্রির ক্ষেত্রে কোন প্রকার নিয়ম মানা হয় নি। ভাঙড়ির দরে বিক্রি করে গেট পাস দিয়ে বের করে দিয়েছে। টাকাও সমন্বয় করেনি।

এর আগেও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা বেশি মূল্যে ক্রয় এবং অফিসের জিনিসপত্র ক্রয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রয়েছে। এছাড়া তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। তার সহযোগী সাবুর বিরুদ্ধে লেকের ধারে গাছ কাটার পর বিক্রয়কৃত খড়ির টাকা জমা না দেওয়া এবং উকিলের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেওয়া, কর্মকর্তা হওয়ার পরও অন্যের নামে কোম্পানির নাম দেখিয়ে নিজে কাজের টেন্ডার নেওয়া এবং কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছের হওয়ায় বারবার দুর্নীতি করেও টিপু সুলতান পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কম্পিউটার

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.3079 seconds.