• ১৬ জুন ২০২২ ২১:২৯:০১
  • ১৬ জুন ২০২২ ২১:২৯:০১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মুসলিম বিদ্বেষ, নূপুর শর্মা গং এবং হোয়াইট সুপ্রিমেসি

ছবি : কাকন রেজা

কাকন রেজা :

মুসলিম বিদ্বেষ যারা ছড়ান, তাদের জন্য আরেকটি খারাপ খবর। যুক্তরাষ্ট্রে সমকামীদের একটি শোভাযাত্রায় হামলার আগমুহূর্তে ৩১জন হোয়াইট সুপ্রিমিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ। পুলিশ বলছে এই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরা রীতিমত একটি ‘আর্মি’র আদলে সংগঠন তৈরি করেছে। তার নাম দিয়েছে ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’। নামটা উল্লেখযোগ্য, বিভেদ বিভাজনের রাজনীতি যারা করেন, তারা নিজেদের বরাবরই ‘প্যাট্রিয়ট’ দাবি করেন। আমাদের দেশেও তাই। বিভেদ বিভাজনের রাজনীতিকে বর্তমান বিশ্বে ‘দেশপ্রেম’ হিসেব প্রদর্শন করা হয়। আর প্রদর্শন তথা প্রদর্শনবাদীরা সবসময়ই সুযোগ সন্ধানী। 

দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলাম, ধর্ম বা বর্ণ কিংবা সম্প্রদায় সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ নয়। সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ রাজনৈতিক এবং যার জ্বালানি হলো অর্থ। কর্পোরেট বিশ্ব নিজ প্রয়োজনেই সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায় স্রেফ উপাদান মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত গান শুটিং তার প্রমাণ। আগে কিছু হলেই ইসলামি এক্সট্রিমিস্টদের দোষারোপ করা হতো। এখন এই যে ধারাবাহিক গান শুটিং হচ্ছে অ্যামেরিকায় যার পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রয়েছে হোয়াইট সুপ্রিমিস্টরা। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের মানুষেরা ক্রমেই বুঝতে পারছে ইসলাম ভীতি সৃষ্টির পেছনে ছিলো রাজনীতি। 

আমাদের দেশেও ইসলাম ভীতির নামে মূলত ইসলাম বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে দীর্ঘদিন থেকেই। এর পেছনেও রাজনীতি। আর এই রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট সুপ্রিমেসি সৃষ্ট সেই ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’ আদলে। এরা ‘দেশপ্রেম’ শব্দটি ব্যবহার করে বিভাজনের উদ্দেশ্যে। সামান্য কারণে একটা জাতিকে প্রেম আর অপ্রেমে ভাগ করে দেয়া হয় এবং তা করতে ব্যবহৃত হয় ‘দেশপ্রেম’ এর আবেগকে। একজন যদি রাজনৈতিক কারণে দেশপ্রেমিক হয় সঙ্গতই বিপরীতে আরেকজন অপ্রেমি থাকবে। প্যাট্রিয়ট আর বিট্রেয়ার, এভাবে ভাগ করে দেয়াই সেই রাজনীতি। আর দুটো ভাগ থাকলে বানর সেজে পিঠা নিজের গলাধঃকরণ করা সহজ হয়। না হলে তো কেউ আর নালিশ দিতে যাবে না। নালিশের সালিশ ছাড়া পিঠাও কপালে জুটবে না। এই যে যারা এই বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতি করেন, তারা সবাই সেই গল্পের পিঠাভাগের বানর। যে বানর পিঠাভাগ করতে গিয়ে সমান অসমানের ধান্ধায় পুরো পিঠাকেই হাপিশ করে দেয়। আমাদের এখনেও ‘লঘু-গুরু’ তেমনই ভাগের পিঠা। 

এ তো গেলো একদিক। আভ্যন্তরীণ রাজনীতি। এর বৈশ্বিক রূপ দেখতে হলে দৃষ্টি আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। আভ্যন্তরীণ ভাগের সুযোগ আন্তর্জাতিক ভাবে কী করে নেয়া হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। সোজা হিসেব বলি, আমাদের দেশে হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতিত হলে তার ফায়দা হয় পার্শ্ববর্তী ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের। তাদের ভোটের পালে হাওয়া লাগে। নূপুর শর্মার বক্তব্যও সেই কারণেই ছিলো। গরম করে তোলা। কারণ, তাদের ভোটের হাওয়া নরম হয়ে এসেছে। ভারতের অর্থনীতির অবস্থা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, রপ্তানি হ্রাসসহ নানা সংকটে কাহিল অবস্থা। সুতরাং ব্যর্থতার এই ক্যানভাস ঢাকতে একটা স্মোক স্ক্রিন দরকার, আর সেটা হলো ধর্ম। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা হলো ধর্ম। যুক্তরাষ্ট্রে যেমন ধর্মের খুব বেশি ধার ধারে না কেউ। সেখানে ধর্মের চেয়ে মূল স্পর্শকাতরতা হলো বর্ণে। 

তাই সেখানে তৈরি হয়েছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ। আর দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্যবাদ অনেকটাই ধর্ম নির্ভর। সে কারণেই হাওয়া গরম বা পানি ঘোলা করার কাজটি করেন নূপুর শর্মারা ধর্মকে ব্যবহার করে। এদের হুইসেল ব্লোয়ার বলতে পারেন। তারপর যা শুরু হয় তার অর্জন যায় মূলত ক্ষমতাসীনদের ঘরে। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার টনিক পায়। ব্যর্থতা ঢেকে দিতে স্মোক স্ক্রিন তৈরি করে। সুতরাং, যারা কিছু হলেই ঝাঁকের কই ঝাঁকে মিশে যান তাদের মিশে যাওয়ার পূর্বাপর চিন্তা করাটা জরুরি। 

কাকন রেজা : লেখক ও সাংবাদিক। 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1598 seconds.