• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৫৭:০৫
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৫৭:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিশেষ সন্তানদের জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন

ছবি : সংগৃহীত

বিশেষ সন্তানদের জন্য মানসিক ও সামাজিক কাঠামো বদলাতে হবে। বদলাতে হলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে করতে একদিন আমাদের সামাজিক, মানসিক কাঠামো বদলাবে। একদিন আমাদের সন্তানেরা অধিকার পাবে। যত্রতত্র কটুক্তি, মার ধর থেকে রক্ষা পাবে। 

এমনটা ই ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা, যাদের সামাজিক পরিচয় ছাপিয়ে যায় যখন তারা বলে আমার পরিচয় আমি একজন বিশেষ বাবা। 

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বাবা মায়ের আয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার ঢাকার বারডেম অডিটোরিয়ামে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী নকীব খান, বিতার্কিক, উপস্থাপক এবং ডাক্তার আব্দুন নুর তুষার, ডাক্তার মোহাম্মদ হোসেন। 
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আনজুম হোসেন এবং বৃষ্টি । 

অনুষ্ঠানে অতিথিরা তাওসিফ ও রেদোয়ানের প্রতি করা অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেন এবং এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন । 

তাওসিফ একজন বিশেষ শিশু যাকে গত মার্চ মাসে অহেতুক বিনা কারণে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তারা আহত করে। শুধু তাই নয় তার বাবা প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ও কলার চেপে কিল ঘুষি মারা হয়। 
এই বিষয়ে তাওসিফের বাবা মামলা করতে যান এবং সমাজ কল্যান অধিদপ্তর থেকে বার বার মিউচুয়াল করার জন্য নানান ভাবে চাপ, অসহযোগিতা এবং অর্থের প্রলোভন দেয়া হয়। 
সেমিনারে তাওসিফের বাবা মা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা বলেন এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় জানতে চান। 

রেদোয়ান ও একজন বিশেষ শিশু যে স্কুলের তিন তলার রেলিং বিহীন বারান্দা থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিকের তারে ঝুলতে থাকে। এবং এক পর্যায়ে স্কুলের সামনের রাস্তায় পড়ে মারাত্মক জখম হয়। 
স্কুলের এমন দায়দায়িত্বহীন ব্যবস্থার জন্য রেদোয়ানের আম্মা জাহেদা ফাতেমা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। 
সেইসাথে সেমিনারে অংশ নেয়া অন্য বাবা মায়েরা ও মত প্রকাশ করে মানহীন স্কুল সরকারিভাবে পরিদর্শনের আবেদন জানান। 

বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী নকীব খান বলেন, এমন ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এগুলো বন্ধ করতে হবে। সামাজিক, পারিবারিকভাবে সচেতনতা ছড়াতে হবে। ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে। রাষ্ট্রের এই বিশেষ সন্তানদের জন্য এগিয়ে আসা উচিত। 

বিশিষ্ট বিতার্কিক এবং ডাক্তার আব্দুন নুর তুষার বলেন, আইন আছে কিন্তু তার প্রয়োগ নেই এই কষ্ট আমাদের সকলের।  একেকজন বিশেষ বাবা মা একেকটা রাষ্ট্র, একেকটা সমাজ কল্যান অধিদপ্তর। সকল বিশেষ বাবা মা সন্তানের জন্য লড়ে যাচ্ছেন। 
তিনি আরও বলেন, সুবর্ন কার্ডের প্রয়োজনীয়তা আরও  বৃদ্ধি করা উচিত, এন আই ডি কিংবা সম্পদের মালিক হবার ক্ষেত্রে আমাদের সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে হবে। 

ডাক্তার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমরা বিশেষ বাবা মায়েরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত,  এই বিভক্তি আমাদের শক্তিশালী হতে বাঁধা দেয়। আমরা যদি একত্রিত হই তাহলে  সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল এর স্টাফদের মতো আর কেউ কোনো বিশেষ সন্তানের গায়ে হাত তুলবে না, বাবা প্রতিবাদ করেছেন বলে বাবাকে কলার ধরে মারতে আসবে না। 

বিশেষ মা বৃষ্টি নিজেকে একজন শিল্পী পরিচয় দিয়ে এই ব্যাপারে সাহায্য করবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

অন্য একজন মা তার সন্তানের শিক্ষার  সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। 
পদ নাই কিন্তু কোটা আছে এ ব্যাপারে তুলে ধরেন অপর একজন মা। 

বেলা ১১ টা থেকে শুরু হয়ে এই সেমিনার চলে প্রায় ৩ঃ৩০ পর্যন্ত, এতে ৪০ জনের বেশি বিশেষ বাবা মা অংশ নেন যাদের সন্তানের বয়স ১২ বছর।

আরও উপস্থিত ছিলেন  বারডেম জেনারেল  হাসপাতালের নিউট্রিশন বিভাগের প্রফেসর মুনিয়া মৌরিন মুমু। 
তিনি বিশেষ সন্তানদের পুষ্টির ব্যাপারে আপোষ না করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, আমার  বিশেষ সন্তান নেই কিন্তু আমাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ জন বিশেষ শিশুকে রোগী হিসেবে দেখতে হয়। তাই আমি জানি এদের কত বেরিয়ার থাকে। তিনি ভুক্তভোগীদের ঘটনা শুনে  দুঃখ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সামাজিক আন্দোলন

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0717 seconds.