• বার্তা ডেস্ক
  • ২৬ মে ২০১৭ ১৪:৪৩:০৭
  • ২৬ মে ২০১৭ ১৫:১৬:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রোজায় সুস্থ থাকবেন যেভাবে

আসছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলামদের জন্য এ মাসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। দীর্ঘ ১১ মাসের অভ্যাসগুলো এ মাস এলেই একটু বদলে ফেলতে হয়। বিশেষ করে খাওয়া ও ঘুম। এই পরিবর্তনের মাঝে নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা, পাশিপাশি সুস্থ ও সবল থাকতে কিছু অভ্যাস রপ্ত করা। 

রমজানে কী খাবেন, কী খাবেন না

সারাদিন অনাহারের পর ইফতারে সময় অনেক বেশি তেল জাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই ইফতারের তালিকায় সঠিক খাবার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রমজান মাসে ধীরে হজম হয় এমন আঁশযুক্ত খাবার ও অনেক তরল খাবার খাওয়া দরকার।

কী খেতে হবে ও কীভাবে খেতে হবে

যেসব খাবার তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই পরিপাক হয়ে যায়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। সেহেরিতে ধীরে হজম হয় অর্থাৎ আট ঘণ্টার বেশি সময় পাকস্থলীতে থাকবে, এমন খাবার খাওয়া উচিৎ। চাল, ডাল ও বীজ যেমন বার্লি, গম, যব, বজরা, পাস্তা, শিম, মসুর ডাল, আটা, লাল চালের মত খাদ্যশস্য ধীরে পরিপাক হয়।

রমজানে আপনার খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার নিশ্চিত করুন। যেমন : রুটি, শস্যজাতীয় খাবার, দুধ থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবার থেকে শুরু করে মাছ, গরুর মাংস ও মুরগির মাংস রাখুন।

তবে মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খেলে সেটি শরীরে বেশি পানি ধরে রাখবে। এতে করে পেট মোচড়াতে পারে। অন্যদিকে বেশি মসলাদার খাবার খেলে বেশি বেশি পানির পিপাসা লাগবে। ফলে অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এবং মসলাদার খাবার পরিহার করুন

যা পান করবেন

শরীরে পানিস্বল্পতা দূর করতে ইফতারের পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করুন (কমপক্ষে আট গ্লাস)। অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন: কফি, চা, চকলেট, সোডা এবং পান থেকে বিরত থাকুন। সেহেরির সময় কখনোই চা খাবেন না। কারণ, চা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীরের লবণ বের করে দেয়, রেচন বাড়িয়ে দেয়। রোজা থাকলে সারাদিন শরীরের জন্য ওই লবণ খুবই প্রয়োজনীয়

সেহেরিতে যা আবশ্যই খাবেন

ভোররাতের সেহেরি শরীরের জন্য খুবই দরকারি। কিন্তু অনেকেই ভোররাতে সেহেরি না খেয়ে রাতের খাবারটাই একটু বেশি রাতে খেয়ে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত ঘুমান এবং রোজা রাখেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর

অবশ্যই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানো উচিৎ ও ভোররাতেই সেহেরি খাওয়া উচিৎ। তবে সেহেরিতে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না। শর্করা ও আমিষ আছে এমন খাবার বেশি খাবেন। ফল ও শাকসবজি বেশি করে খাবেন। সেই সঙ্গে প্রচুর পানি পান করবেন

রমজানে আরো যা যা করবেন

ঠাণ্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন,পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। দিনের যে সময়টাতে প্রখর রোদ থাকে সেসময় অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা জায়গায় ঘরের ভেতরে বা ছায়ায় থাকুন। কায়িক শ্রম কম করুন। ইফতারিতে হালকা খাবার দিয়ে রোজা ভাঙুন। হালকা খাবারটি হতে পারে স্যুপ। তবে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না এবং কয়েক গ্লাস শরবত পান করুন

হালকা ব্যায়াম করুন

অনেকেই মনে করেন রোজা রেখে কোনো রকম ব্যায়াম করা উচিৎ নয়। কিন্তু এটি ঠিক নয়। রমজান মাসে প্রতিদিনিই হালকা ব্যায়াম করা উচিৎ। তবে সেটি অবশ্যই হালকা ব্যায়াম হতে হবে যেমন, বিকেলে ৩০ মিনিট হাঁটা।

অন্যান্য টিপস

সেহেরির পর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করুন এবং দিনে বার বার মেসওয়াক করুন। এসময় পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন অর্থাৎ ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ইফতারের পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করুন। যদি কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হয় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রোজায় সুস্থতা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1138 seconds.